মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন

থাইল্যান্ডে একসঙ্গে চলছে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

থাইল্যান্ডে নিবিড় পর্যবেক্ষণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট। প্রগতিশীল সংস্কারক এবং সামরিক-সমর্থিত রক্ষণশীলরা এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। দেশটিতে বহু বছর ধরে তিনজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে চক্রাকারে ক্ষমতার রদ বদল চলছে।

দেশটিতে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

যদিও ৫০ টিরও বেশি দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, তবে এরমধ্যে তিনটি দলের জনপ্রিয়তা রয়েছে। দলগুলো হলো- পিপলস পার্টি, ভূমজাইথাই এবং ফেউ থাই । আশা করা হচ্ছে বিজয়ী হিসেবে তারাই জনগণের ম্যান্ডেট অর্জন করবে।

৫০০টি সংসদীয় আসন ঝুঁকির মুখে থাকায় এবং জরিপের ধারাবাহিকভাবে দেখা যাচ্ছে কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে না, তাই জোট আলোচনা অনিবার্য বলে মনে হচ্ছে।

নির্বাচিত আইন প্রণেতাদের একটি সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করবে। 

নাথাফং রুয়েংপানিয়াউতের নেতৃত্বে প্রগতিশীল পিপলস পার্টি সর্বাধিক আসন জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু দলটির সংস্কারবাদী প্ল্যাটফর্ম, যার মধ্যে সামরিক বাহিনী ও আদালতের প্রভাব রোধ করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক একচেটিয়া ব্যবসা ভেঙে ফেলার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

এ দলটি মুভ ফরোয়ার্ড পার্টির উত্তরসূরী, যারা ২০২৩ সালে প্রতিনিধি পরিষদে সর্বাধিক আসন জিতেছিল, কিন্তু সামরিক নিযুক্ত সিনেট কর্তৃক ক্ষমতার কাছে জিম্মি ছিল।

পরে থাইল্যান্ডের কঠোর রাজকীয় অবমাননা আইন সংস্কারের আহ্বানের কারণে সাংবিধানিক আদালত কর্তৃক ওই পরিষদ ভেঙে দেওয়া হয়। 

তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বে ভুমজাইথাইকে রাজকীয়-সামরিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান রক্ষক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

কম্বোডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপভাবে পরিচালনা করার জন্য ও নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী পায়েটোংটার্ন সিনাওয়াত্রার মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালনের পর, গত সেপ্টেম্বর থেকে অনুতিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অনাস্থা ভোটের হুমকির পর ডিসেম্বরে আনুতিন সংসদ ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের ডাক দেন।

তিনি তার প্রচারণাকে অর্থনৈতিক উদ্দীপনা এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর কেন্দ্রীভূত করেছেন, প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার সঙ্গে মারাত্মক সীমান্ত সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট জাতীয়তাবাদী উচ্ছ্বাসকে কাজে লাগিয়েছেন।

 

তৃতীয় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফিউ থাই কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থিত রাজনৈতিক আন্দোলনের সর্বশেষ রূপের প্রতিনিধিত্ব করেন। থাই রাক থাই পার্টির জনপ্রিয় নীতির ওপর তার রাজনীতি। তার দল ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল। পরে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।

দলটি অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন এবং নগদ অর্থ বিতরণের মতো জনপ্রিয় প্রতিশ্রুতির ওপর প্রচারণা চালিয়েছে। থাকসিনের ভাগনে যোদচানান ওংসাওয়াতকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে।

রোববার ভোটে গণভোটও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে । এ গণভোটে ভোটাররা থাইল্যান্ডের ২০১৭ সালের সামরিক-প্রণীত সংবিধান প্রতিস্থাপন করা উচিত কিনা, এর পক্ষে ও বিপক্ষে ভোট দেবেন।

গণতন্ত্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো একটি নতুন সনদকে সামরিক বাহিনী এবং বিচার বিভাগের মতো অনির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের প্রভাব হ্রাস করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখে। অন্যদিকে রক্ষণশীলরা এটি অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

রোববারের এ নির্বাচনে প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ভোট দেবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রাথমিক ভোটদানের সময় ২২ লাখেরও বেশি ভোটার এরই মধ্যে ভোট দিয়েছেন।

ব্যাংকক থেকে রিপোর্টিং করা আল-জাজিরার টনি চেং ভোটারদের বরাত দিয়ে বলেন, থাইল্যান্ডের ভোটাররা এ নির্বাচনকে ক্লান্তিকর হিসেবে দেখছেন। নির্বাচন হয়েছে মাত্র তিন বছর হলো। কয়েক বছরের মধ্যে দেশটিতে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু ফলাফল সম্ভবত গত ভোটের মতোই হবে, পিপলস পার্টি আবারও বিজয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা



Our Like Page