চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে স্টারমারের বৈঠকের পর যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর কয়েকটি চুক্তি ঘোষণার প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার স্ত্রী মেলানিয়াকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ারে ট্রাম্প বলেন, চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ব্যবসা করা ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিকে যুক্তরাজ্যের ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস ব্রায়ান্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, ট্রাম্প ভুল বলছেন। তার মতে, বিশ্বমঞ্চে চীনের উপস্থিতি উপেক্ষা করা যুক্তরাজ্যের জন্য একেবারেই অযৌক্তিক হবে।
ব্রায়ান্ট আরও স্মরণ করিয়ে দেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেও এপ্রিলে চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ডাউনিং স্ট্রিট জানায়, যুক্তরাজ্যের এই চীন সফর ও এর লক্ষ্য সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র আগেই অবগত ছিল।
এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প শুধু যুক্তরাজ্য নয়, কানাডার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কবার্তা দেন।
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, প্রেসিডেন্ট শি–এর সঙ্গে তার বৈঠক খুবই ইতিবাচক হয়েছে এবং যুক্তরাজ্য–চীন সম্পর্ক এখন ভালো ও শক্ত অবস্থানে আছে।
তিনি জানান, এই সফরে ভিসামুক্ত ভ্রমণ, হুইস্কির শুল্ক কমানো এবং চীনে অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রায় ১০.৯ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
এ ছাড়া মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন দমনে দুই দেশ গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়েও একমত হয়েছে।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ছিল যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, আর চীন ছিল চতুর্থ স্থানে।
তবে বিরোধী দলের কয়েকজন এমপি এই সফরের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এতে যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে এবং চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে।
সফরের শেষ ধাপে স্টারমার জাপানে গিয়ে সে দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।