দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে গত বছর সম্পাদিত একটি বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পালিত না হওয়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে সিউল থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে এই শুল্কের হার ছিল ১৫ শতাংশ।
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, তিনি গাড়ি, কাঠ, ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের ওপর এই বাড়তি শুল্ক আরোপ করছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, আমেরিকা দ্রুততার সঙ্গে শুল্ক কমানোর পদক্ষেপ নিলেও দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতারা চুক্তিটি অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনেক ধীরগতিতে এগোচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘‘দক্ষিণ কোরিয়া আমেরিকার সঙ্গে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না।’’
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, শুল্ক বৃদ্ধির বিষয়ে তারা ওয়াশিংটন থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ পায়নি। এই সংকট নিরসনে তারা আমেরিকার সঙ্গে জরুরি আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। বর্তমানে কানাডা সফরে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পমন্ত্রী কিম জং-কওয়ান খুব দ্রুত ওয়াশিংটনে গিয়ে মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য আমেরিকা একটি বিশাল বাজার। গত বছর তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১২৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যার মধ্যে গাড়ি রপ্তানি ছিল প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর হুন্ডাই ও কিয়া-র মতো বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম শুরুতে ৬ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেলেও দিন শেষে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিনিয়োগকারীরা এখনও এই শুল্ক বৃদ্ধির ব্যাপারে কিছুটা সন্দিহান। কারণ, সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও পরে সেখান থেকে সরে এসেছিলেন ট্রাম্প।
হারগ্রিভস ল্যান্সডাউনের ইক্যুইটি রিসার্চ প্রধান ডেরেন নাথান বলেন, ‘‘সিউল থেকে প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনের পথে থাকায় বাজার পরিস্থিতি এখন আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পথ খুঁজছে।’’
গত বছরের অক্টোবরে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া আমেরিকায় ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যার একটি বড় অংশ জাহাজ নির্মাণ শিল্পে যাওয়ার কথা। চুক্তিটি বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে এবং ফেব্রুয়ারিতে এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে বিদেশ নীতিতে প্রভাব খাটাতে বারবার এই শুল্কের অস্ত্র ব্যবহার করছেন। এর আগে তিনি কানাডাকে ১০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিয়েছিলেন এবং গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ব্রিটেনসহ আটটি দেশের ওপরও একই ধরনের চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। সূত্র: বিবিসি