বরিশালের শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের চলমান রূপান্তর আজ দৃশ্যমান। কিন্তু এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা, নিম্নমানের নির্মাণকাজ এবং প্রশাসনিক জটিলতার বিরুদ্ধে এক ধারাবাহিক লড়াই। এই প্রেক্ষাপটে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন কঠোর মনিটরিং-নির্ভর প্রশাসক হিসেবে—যিনি উন্নয়নকে শুধু প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং গুণগত মান ও জবাবদিহিতাকে সামনে এনেছেন।
এই অনুসন্ধানধর্মী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার নেতৃত্বে চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তব চিত্র, অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ, অভিযোগ এবং সম্ভাবনা।
বরিশালের শিক্ষা অবকাঠামো এক সময় ছিল অবহেলার প্রতীক। বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জরাজীর্ণ ভবন, শ্রেণিকক্ষের সংকট এবং নিরাপত্তাহীন পরিবেশে পাঠদান চলত। উন্নয়ন প্রকল্প থাকলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন ছিল ধীরগতির, অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে অনেক প্রকল্পে কাজের মান নিয়ে অভিযোগ ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়া, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাব—এসব ছিল সাধারণ সমস্যা। এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম।
মো. শহিদুল ইসলামের কাজের দর্শন স্পষ্ট—“কাজের মান নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন অর্থহীন।”
তার বক্তব্য অনুযায়ী:
চলমান প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হবে
কাজের গুণগত মানে কোনো আপস চলবে না
ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদার উভয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
তিনি বলেন,
“শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবক—সবাই যেন প্রকল্পের সুফল পায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”
কঠোর মনিটরিং ও জবাবদিহিতা
এই দপ্তরের কাজের ধরনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে মনিটরিং ব্যবস্থায়।
তার নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
প্রতিটি প্রকল্পের নিয়মিত সাইট পরিদর্শন
চলমান অবস্থায় ত্রুটি শনাক্তকরণ
নির্দিষ্ট সময়সীমা (বিশেষ করে জুন মাস) নির্ধারণ
কাজ শেষে ত্রুটি পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন:
“কাজ শেষ হওয়ার পরে যদি ত্রুটি ধরা পড়ে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
এই অবস্থান প্রশাসনিক কাঠামোতে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করলেও, মাঠপর্যায়ে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
একজন সহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান:
“বর্তমানে শতভাগ কাজ নিশ্চিত করার জন্য আমাদের ওপর জোরালো নির্দেশনা রয়েছে। সততা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ না করলে টিকে থাকা কঠিন।”
এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, দপ্তরের ভেতরে একটি কর্মচাপ তৈরি হয়েছে—যা উন্নয়নের গতি বাড়াতে সহায়ক হলেও, তা নিয়েও রয়েছে ভিন্নমত।
উন্নয়নের পরিসংখ্যান: সংখ্যায় বরিশালের পরিবর্তন
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় বর্তমানে বিপুল অঙ্কের উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে।
মূল তথ্যসমূহ:
মোট চলমান উন্নয়ন কাজ: প্রায় ৬৯৬–৭০০ কোটি টাকা
গত অর্থ বছরে ব্যয়: ৭৬ কোটি টাকা
চলমান প্রকল্প সংখ্যা: ১১টি বড় প্রকল্প
বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ: প্রায় ৪৬০টি
এই প্রকল্পগুলোর আওতায়:
নতুন ভবন নির্মাণ
ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ
কারিগরি শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন
তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা বৃদ্ধি
বরিশালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র নির্মাণাধীন, যা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের অগ্রগতি:
ব্যয়: প্রায় ১৬.৫ কোটি টাকা
ইতোমধ্যে ব্যয়: ৯.১৬ কোটি টাকা
নির্মাণাধীন ভবন: ১০ তলা
আংশিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু
এই কেন্দ্র চালু হলে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং শিক্ষার্থীরা দ্রুত সেবা পাবে।
মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট: নারীর প্রযুক্তি শিক্ষায় নতুন দিগন্ত
প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।
৭টি ভবনের মধ্যে ৩টি সম্পন্ন
বাকি ৪টির কাজ প্রায় ৮০% শেষ
নির্ধারিত সময়: জুনের মধ্যে সম্পন্ন
এই প্রতিষ্ঠান চালু হলে নারী শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
কলেজ ও স্কুলে অবকাঠামোগত বিপ্লব
বরিশালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে অবকাঠামোগত উন্নয়ন চলছে:
৬ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ (সরকারি কলেজসমূহে)
জেলা স্কুল ও বালিকা বিদ্যালয়ে নতুন ভবন
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে সম্প্রসারণ
এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে:
শ্রেণিকক্ষ সংকট কমবে
শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে
শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে
প্রকল্পের বৈচিত্র্য: বহুমুখী উন্নয়নের চিত্র
বরিশালে চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:
বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন
মাদরাসা উন্নয়ন
বিজ্ঞান শিক্ষা সম্প্রসারণ
টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন
তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা প্রকল্প
বিশেষ করে “প্রতি উপজেলায় একটি টেকনিক্যাল স্কুল” প্রকল্পটি ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাস্তব চিত্র: দৃশ্যমান উন্নয়ন
মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে:
বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন বহুতল ভবন
পুরনো জরাজীর্ণ কাঠামোর পরিবর্তন
নতুন নির্মাণ কাজের দ্রুত অগ্রগতি
স্থানীয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতে,
“আগে যেখানে ক্লাস নেওয়া কঠিন ছিল, এখন সেখানে আধুনিক ভবন তৈরি হচ্ছে।”
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাজের গুণগত মানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এটি নির্দেশ করে যে, কেন্দ্রীয় পর্যায়েও বরিশালের কাজ ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে।
তবে কি সবই নিখুঁত?—অনুসন্ধানে উঠে আসা প্রশ্ন
যদিও উন্নয়নের চিত্র আশাব্যঞ্জক, তবে অনুসন্ধানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও উঠে এসেছে:
১. সময়সীমা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব?
জুন মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ করার নির্দেশনা বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
২. অতিরিক্ত চাপ কি মানের ওপর প্রভাব ফেলছে?
দ্রুত কাজ শেষ করার চাপ কখনো কখনো মানের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
৩. স্থানীয় পর্যায়ে তদারকি কতটা কার্যকর?
সব প্রকল্পে সমানভাবে মনিটরিং হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়নের ওপর।
তিনি বলেন:
“শহরের সুবিধা গ্রামের মানুষকেও দিতে হবে।”
এই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি ভারসাম্য তৈরি হতে পারে।
প্রশাসনিক কড়াকড়ি: ইতিবাচক না নেতিবাচক?
তার প্রশাসনিক কড়াকড়ি নিয়ে দুই ধরনের মতামত পাওয়া গেছে:
ইতিবাচক দিক:
দুর্নীতি কমছে
কাজের গতি বাড়ছে
জবাবদিহিতা তৈরি হচ্ছে
সমালোচনা:
অতিরিক্ত চাপ
সিদ্ধান্ত গ্রহণে কেন্দ্রীকরণ
মাঠপর্যায়ে মানসিক চাপ
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বর্তমান কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
উন্নয়নের গতি স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে
গুণগত মানে জোর দেওয়া হয়েছে
মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়েছে
বড় আকারের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পথে
তবে একইসাথে:
সময়সীমা বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং
দীর্ঘমেয়াদে মান ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ
তদারকি ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে
জনস্বার্থে উন্নয়ন কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে স্থবির কাজগুলো দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন করার আপ্রান চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃশহিদুল ইসলাম।
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃশহিদুল ইসলাম বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দরকার কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা। যে প্রকল্পগুলোর কাজ চলছে, সেগুলোর গুণগত মান ঠিক রেখে নির্ধারিত সময়ে শেষ করা। তবেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা প্রকল্পগুলোর সুফল পাবে।
বরিশাল জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে প্রকল্প গুলোর কাজের মান আরো উন্নত হোক। প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলো , দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করলে অর্থও বাঁচবে, জনগণ উপকৃত হবে।
মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রী ও প্রধান প্রকৌশলীর দিকনির্দেশনা মোতাবেক বরিশালের কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমি প্রকৌশলী সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছি যে, শহরের নাগরিক সুযোগ সুবিধা গ্রামের সকলে পাবে। আপনারা হচ্ছেন শিক্ষা প্রকৌশলের প্রাণ। আপনারা মনোযোগ দিয়ে কাজ করেন। আর যদি কোন ঠিকাদারের কাজের মান খারাপ হয়। তাহলে ঐ ঠিকাদার এবং কাজে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।
তিনি ইত্তেহাদ নিউজকে বলেন, জেলা ও উপজেলাগুলোতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কাজগুলোর বাস্তবায়নে গতির তথ্য দেয়া।এছাড়া সকল ঠিকাদারদের জুন মাস মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। চলমান অবস্থায় কাজের ত্রুটি শনাক্ত করতে হবে এবং সঠিক মনিটরিং করলে অনেক সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। কাজ শেষ করার পরে যদি কোন ত্রুটি দেখা যায়,তবে কাজ সংশ্লিষ্ট কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে ক্ষমা করা হবে না।তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে
বরিশাল জেলার এক সহকারী প্রকৌশলী বলেন,নির্বাহী প্রকৌশলী নির্দেশে শতভাগ কাজ সুনিশ্চিত করা এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি বাড়াতে দায়িত্বে থাকা সকলকে সততা ও আন্তরিকতা নিয়ে উন্নয়ন কর্মকান্ডে গতি বাড়িয়ে কাজ করার দ্রিত তাগিদ দিয়েছেন।
বরিশালের মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। যারমধ্যে গত অর্থ বছরে ৭৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর। এসব প্রকল্পের মধ্যে বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণকাজ গত অর্থ বছরে শতভাগই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ১১টি প্রকল্পের আওতায় বরিশালের বিপুল সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণ ছাড়াও ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ চলমান রয়েছে। যার বেশির ভাগই চলতি অর্থ বছরে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম।
এসব প্রকল্প’র কাজ সম্পন্ন হলে সারা দেশের মতো বরিশালের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ। দেশের ৩টি স্থানে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের মধ্যে বরিশালেও প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ১০তলা বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে। যার দুটি ফ্লোরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ইতোমধ্যে সেখানে প্রশাসনিক কর্মকা- শুরু হয়েছে। আগামী মার্চের মধ্যে পুরো ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের আঞ্চলিক দফতরটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে বলে জানা গেছে। প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা ব্যয় সম্বলিত ঐ প্রকল্পে ইতোমধ্যে ৯.১৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
দেশের ৪টি বিভাগীয় সদরে মহিলা পলটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল মহিলা পলিটেকনিকের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে এ ইনস্টিটিউটের ৭টি ভবনের মধ্যে ৩টির কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ৪টি কাজও প্রায় ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে পুরো প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করে আগামী বছরের এসএসসি’র ফলাফল প্রকাশের পরে এখানে ভর্তি প্রক্রিয়াও শুরু হবে বলে জানা গেছে।
এছাড়া বরিশাল সরকারি কলেজ, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ এবং সরকারি মহিলা কলেজ সমূহে ৬তলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজও এগিয়ে চলেছে। আগামী বছরের ডিসেম্বর নাগাদ এসব ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে প্রতিষ্ঠানগুরোতে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষাবীদগণ। একইসাথে বরিশাল জেলা স্কুল ও বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়েও ৬তলা দুটি একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। আগামী অর্থ বছরের মধ্যে এসব ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলে বরিশাল বিভাগীয় সদরের এ দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তনে আশাবাদী শিক্ষাবীদগণ।
এছাড়া ‘নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহের উন্নয়ন প্রকল্প’, ‘নির্বাচিত বেসরকারি বিদ্যালয় সমূহের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্প’, ‘নির্বাচিত মাদরাসা উন্নয়ন প্রকল্প’, ‘তথ্য ও প্রযুক্তি সহায়তায় কলেজ সমূহের উন্নয়নে ২য় সংশোধিত প্রকল্প’, সরকারি কলেজ সমূহের বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ প্রকল্প’, কারগরি শিক্ষা অধিদফতরাধীন ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প’, ১শ’ উপজেলায় ১টি করে টেকনিক্যল স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প’ এবং উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প’র আওতায় বরিশালে বর্তমানে প্রায় ৬৯৬ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবান করছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর।
বরিশাল মহানগরীসহ বিভিন্ন উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের উন্নয়ন ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হচ্ছে। আগে জরাজীর্ন অবকাঠামোর কারণে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হত, তার অনেকগুলোতেই ইতোমধ্যে বহুতল ভবন দৃশ্যমান। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।
বর্তমানে বরিশালের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে ৪৬০টি বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের দায়িত্বশীল মহল।
বরিশাল এখন একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—যেখানে উন্নয়ন শুধু সংখ্যা নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা।
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এই পরিবর্তন কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে:
গুণগত মান বজায় রাখা
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা
এবং জবাবদিহিতা ধরে রাখার ওপর
যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে বরিশাল শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে দেশের একটি মডেল হিসেবে দাঁড়াতে পারে।