আফিদ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে।
পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই উপনির্বাচনে আফিদ মোট ৫৩ জন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করে। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসনে ৩০ জন এবং শেরপুর-৩ আসনে ২৩ জন নিয়োজিত ছিলেন।
আফিদ জানায়, ভোটকেন্দ্রগুলোতে গোপনীয়তা রক্ষা এবং ব্যালট বাক্স সিল করার প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ৩২ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থা সীমিত ছিল। ১০৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ে ধারাবাহিকতা ছিল না এবং ১১ শতাংশ কেন্দ্রে প্রক্সি ভোটের (একজনের ভোট অন্যজন দেওয়া) ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এছাড়া ৪৭ শতাংশ কেন্দ্রের আশেপাশে নির্বাচনী প্রচার সামগ্রী দেখা গেছে, যা আচরণবিধির পরিপন্থী। ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোটারদের দলবদ্ধভাবে একই যানবাহনে করে কেন্দ্রে আসতে দেখা গেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। পর্যবেক্ষকদের তথ্যমতে, কেন্দ্রভেদে উপস্থিতির হার ছিল সর্বনিম্ন ৩১ থেকে সর্বোচ্চ ৬৪ শতাংশ।
শেরপুর-৩ আসনে ব্যাপক অনিয়ম ও এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভোটের দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান। তবে আফিদ জানায়, এই ঘোষণার তাৎক্ষণিক কোনও প্রভাব ভোটকেন্দ্রে পড়েনি।
বগুড়া-৬ আসনে ডাকযোগে ভোটের হার ছিল বেশ কম। ৩ হাজার ৭৩৬টি ইস্যু করা ব্যালটের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৬৮টি ফেরত এসেছে, যা মোট ভোটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেমোক্রেসি ওয়াচের চেয়ারপারসন তালেয়া রহমান, রাইট যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, ডর্পের চেয়ারপারসন এ এইচ এম নোমান প্রমুখ।
নির্বাচিত প্রার্থী অন্য আসন রেখে দেওয়ায় বগুড়া-৬ আসন এবং প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনটি শূন্য হয়েছিল।