শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৮:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সাধ্যের বাইরে যাচ্ছে নিত্যপণ্য বিএনপিই প্রথম শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়েছিল: তথ্যমন্ত্রী জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা’ নামে স্থাপন হচ্ছে নতুন থানা রূপগঞ্জে সোনালি ধান কাটার উৎসব বেবিচকের উপপরিচালক ওয়াদিদুজ্জামানের মৃত্যু বেপরোয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীরা বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের সফলতা বরিশালে ডিসির বিরুদ্ধে নির্বাচন তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ, প্রশাসনে অসন্তোষ

১৫ বছরেই সেঞ্চুরি, ইতিহাস গড়লেন রুয়ান্ডান ব্যাটার

প্রায় তিন দশক ধরে টিকে থাকা শাহিদ আফ্রিদির এক অনন্য রেকর্ড অবশেষে ভেঙে গেল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়েছেন রুয়ান্ডার কিশোরী ব্যাটার ফ্যানি উতাগাশিমানিন্দে।

নাইজেরিয়া আমন্ত্রণমূলক নারী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে শুক্রবার ঘানার বিপক্ষে অভিষেকেই দারুণ এক ইনিংস খেলেন তিনি। ওপেনিংয়ে নেমে ১৭টি বাউন্ডারিতে ৬৫ বলে অপরাজিত ১১১ রান করেন উতাগাশিমানিন্দে।

এটি ছিল স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার প্রথম ম্যাচই। 

মাত্র ১৫ বছর ২২৪ দিন বয়সে এই ইনিংস খেলে নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। নারী-পুরুষ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই প্রথম ১৫ বছর বয়সী কোনো ক্রিকেটার সেঞ্চুরি করলেন।

এতদিন সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক অলরাউন্ডার শাহিদ আফ্রিদি।

১৯৯৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নাইরোবিতে ৫০ বলে ১০২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি, তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর ২১৭ দিন। সেটি ছিল তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচ এবং প্রথম ইনিংস। ওই ম্যাচেই ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করে দ্রুততম শতরানের রেকর্ডও গড়েছিলেন আফ্রিদি, যা পরে ভেঙে গেছে। এবার হারালেন বয়সের রেকর্ডও।
নারীদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এতদিন সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান ছিলেন আয়ারল্যান্ডের অ্যামি হান্টার। ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজের ১৬তম জন্মদিনে অপরাজিত ১২১ রান করেছিলেন তিনি।

অন্যদিকে নারী টি-টোয়েন্টিতে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরির আগের রেকর্ড ছিল উগান্ডার প্রসোকোভিয়া আলাকোর দখলে। ২০১৯ সালে মালির বিপক্ষে ১৬ বছর ২৩৩ দিন বয়সে ৭১ বলে ১১৬ রান করেছিলেন তিনি।

তবে উতাগাশিমানিন্দে গড়েছেন আরেকটি অনন্য কীর্তি; নারী টি-টোয়েন্টি অভিষেকে সেঞ্চুরি করা প্রথম ক্রিকেটার তিনি।

এর আগে অভিষেকে সর্বোচ্চ ইনিংসটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি কারেন রোল্টনের, যিনি ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫০ বলে অপরাজিত ৯৬ রান করেছিলেন। 

উতাগাশিমানিন্দের সেঞ্চুরিতে লাগোসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২১০ রান তোলে রুয়ান্ডা। জবাবে ঘানা ২০ ওভারে ৮৮ রানেই থেমে যায়, ফলে বড় জয় নিয়েই টুর্নামেন্ট শুরু করে রুয়ান্ডা।



মিরপুরে আবারও বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দ্বৈরথ। প্রায় দেড় বছর পর ঘরের মাঠে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে সেই পাকিস্তান। যাদের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে দুই শিবিরেই। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী কাল সকাল ১০টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দুই দলই আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামছে। পাকিস্তান অবশ্য ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিকে সামনে আনতে চায় না। অধিনায়ক শান মাসুদ স্পষ্ট করেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুই ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সিরিজের অতীত নয়, বরং পাঁচ দিনে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টেস্টে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠতে পারে দুই দলের পেস আক্রমণ। পাকিস্তানের শক্তি বরাবরই তাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাসদের অভিজ্ঞতা ও নতুন বলের নিয়ন্ত্রণ সফরকারীদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও এখন আর আগের মতো কেবল স্পিননির্ভর দল নয়। তাসকিন আহমেদ দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। যদিও নাহিদ রানা পুরোপুরি ফিট নন এবং ইবাদত হোসেনও সেরা ছন্দে ফেরার প্রক্রিয়ায় আছেন, তবু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিরপুরের উইকেট নিয়েও আগ্রহ কম নেই। সাধারণত এই মাঠ ধীরে ধীরে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। তবে এবার উইকেটে ঘাস থাকার সম্ভাবনা থাকায় শুরুতে পেসাররা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণেই বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বড় ভরসা বাবর আজম। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছন্দে থাকা এই ব্যাটারকে ঘিরেই সফরকারীদের পরিকল্পনা থাকবে। এছাড়া অফ-স্পিনার সাজিদ খনও হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন তানজিদ তামিম। একাদশে সুযোগ পেলে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতেই চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। আবহাওয়াও ম্যাচের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। পাঁচ দিনের টেস্টে অন্তত দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উইকেটের আচরণ ও সেশনভিত্তিক পরিকল্পনা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইবে নিজেদের পুরনো শক্তির পরিচয় ফিরিয়ে দিতে। তাই মিরপুর টেস্টে ব্যাট-বলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকছেই।

Our Like Page