শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সাধ্যের বাইরে যাচ্ছে নিত্যপণ্য বিএনপিই প্রথম শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়েছিল: তথ্যমন্ত্রী জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা’ নামে স্থাপন হচ্ছে নতুন থানা রূপগঞ্জে সোনালি ধান কাটার উৎসব বেবিচকের উপপরিচালক ওয়াদিদুজ্জামানের মৃত্যু বেপরোয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীরা বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের সফলতা বরিশালে ডিসির বিরুদ্ধে নির্বাচন তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ, প্রশাসনে অসন্তোষ

‘অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে চাপ দেওয়া হয়েছিল’, ইরানি ফুটবলারের বিস্ফোরক

অস্ট্রেলিয়ায় এএফসি নারী এশিয়ান কাপে অংশ নেওয়ার পর দেশে ফিরেছে ইরান নারী ফুটবল দল। তবে সফরজুড়ে নানা বিতর্কের মধ্যে এক খেলোয়াড়ের অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মিডফিল্ডার ফাতেমেহ শাবান দাবি করেছেন, অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে স্থানীয় পুলিশ তাদের দেশে না ফেরার জন্য চাপ দিয়েছিল। যদিও অস্ট্রেলিয়ার সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

 

ইরান নারী দল অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছায় অত্যন্ত অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে। দেশে চলমান সংঘাতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হওয়ার পর চাপের মধ্যেই টুর্নামেন্টে অংশ নেয় দলটি। জাতীয় সংগীতের সময় নীরব থাকা এবং ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে সমালোচিত হওয়ায় খেলোয়াড়দের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

এই অবস্থায় কয়েকজন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়ের আবেদন করেন।

তবে তাদের অবস্থান ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর দ্রুত স্থান পরিবর্তন করতে হয়। পরে পরিবার নিয়ে হুমকির অভিযোগের মধ্যে অধিকাংশ খেলোয়াড় দেশে ফিরে যান। বর্তমানে সাতজন আশ্রয়প্রার্থীর মধ্যে মাত্র দুজন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। 

দেশে ফেরার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে খেলোয়াড়দের ‘নায়ক’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

মঞ্চে ফুল হাতে তাদের অভ্যর্থনা জানানোর দৃশ্যও প্রচার করা হয়েছে। 

এই প্রেক্ষাপটে শাবান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘পাসপোর্ট যাচাইয়ের সময় আমাদের প্রত্যেককে আলাদা কক্ষে নেওয়া হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে যখন একজন পুলিশ কর্মকর্তা আমার হাত ধরে নিয়ে গেলেন, আমি কিছুটা ভয় পেয়েছিলাম। পরে একটি কক্ষে বসানো হয়। সেখানে নিরাপত্তাকর্মী ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলেন এবং বুঝতে পারি তারা আবার জানতে চায় আমরা দেশে ফিরলে কী হবে, দেশ যুদ্ধের মধ্যে আছে, এই ধরনের বিষয়।

’ 

শাবানের ভাষ্য, ‘তারা বারবার একই ধরনের প্রশ্ন করছিল, যেন আমি বলি যে আমি নিশ্চিত নই দেশে ফিরব কি না। একসময় আমাকে বলা হয়, চাইলে পরিবারের সঙ্গে এখনই কথা বলতে পারি এবং সিদ্ধান্ত নিতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গেই বলি, আমি থাকতে চাই না। যারা থাকতে চেয়েছে, তারা আগেই থেকে গেছে। আমি তাকে আর প্রশ্ন শেষ করতে দিইনি, বলেছি- আমি ইরানে ফিরতে চাই।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘তখন আমার মনে একটা অস্বস্তি কাজ করছিল। আমি একটু ভয়ও পেয়েছিলাম, কারণ আমি দেশে ফিরতে চেয়েছিলাম; আমার পরিবার, আমার মাতৃভূমিতে যেতে চেয়েছিলাম।’

তবে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টনি বার্ক আগেই এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না কাউকে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা। আমরা সে ধরনের দেশ নই।’

এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কেউ একে ‘প্রচারমূলক’ বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ খেলোয়াড়দের ওপর চাপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়া দুই খেলোয়াড় ফাতেমেহ পাসানদিদেহ ও আতেফেহ রামেজানিসাদেহ এখন ব্রিসবেন রোরের সঙ্গে অনুশীলন শুরু করেছেন। হিজাব ছাড়া হাসিমুখে তাদের অনুশীলনে অংশ নিতে দেখা গেছে।

জানা গেছে, আশ্রয়ের আবেদন করা সাতজনের মধ্যে এই দুজনই অস্ট্রেলিয়ায় থেকে গেছেন। বাকি খেলোয়াড়রা পরে সিদ্ধান্ত বদলে দলে ফিরে যান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিনায়ক জাহরা ঘানবারি পরিবারের ওপর হুমকির আশঙ্কায় দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হন। বিশেষ করে তার মায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল।

ব্রিসবেন রোর জানিয়েছে, তারা এই দুই খেলোয়াড়কে পূর্ণ সহায়তা দেবে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, তাদের নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ফুটবল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে ফেরার বিষয়ে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সরাসরি কোনো অভিযোগ তারা পাননি, যদিও সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে শঙ্কা ছিল ব্যাপকভাবে।



মিরপুরে আবারও বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দ্বৈরথ। প্রায় দেড় বছর পর ঘরের মাঠে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে সেই পাকিস্তান। যাদের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে দুই শিবিরেই। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী কাল সকাল ১০টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দুই দলই আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামছে। পাকিস্তান অবশ্য ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিকে সামনে আনতে চায় না। অধিনায়ক শান মাসুদ স্পষ্ট করেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুই ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সিরিজের অতীত নয়, বরং পাঁচ দিনে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টেস্টে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠতে পারে দুই দলের পেস আক্রমণ। পাকিস্তানের শক্তি বরাবরই তাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাসদের অভিজ্ঞতা ও নতুন বলের নিয়ন্ত্রণ সফরকারীদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও এখন আর আগের মতো কেবল স্পিননির্ভর দল নয়। তাসকিন আহমেদ দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। যদিও নাহিদ রানা পুরোপুরি ফিট নন এবং ইবাদত হোসেনও সেরা ছন্দে ফেরার প্রক্রিয়ায় আছেন, তবু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিরপুরের উইকেট নিয়েও আগ্রহ কম নেই। সাধারণত এই মাঠ ধীরে ধীরে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। তবে এবার উইকেটে ঘাস থাকার সম্ভাবনা থাকায় শুরুতে পেসাররা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণেই বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বড় ভরসা বাবর আজম। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছন্দে থাকা এই ব্যাটারকে ঘিরেই সফরকারীদের পরিকল্পনা থাকবে। এছাড়া অফ-স্পিনার সাজিদ খনও হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন তানজিদ তামিম। একাদশে সুযোগ পেলে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতেই চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। আবহাওয়াও ম্যাচের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। পাঁচ দিনের টেস্টে অন্তত দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উইকেটের আচরণ ও সেশনভিত্তিক পরিকল্পনা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইবে নিজেদের পুরনো শক্তির পরিচয় ফিরিয়ে দিতে। তাই মিরপুর টেস্টে ব্যাট-বলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকছেই।

Our Like Page