বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ভূমি অফিসের সহকারী থেকে শত কোটির মালিক মাহফুজুর রহমানের সম্পদের পাহাড় শিগগিরই ১০ম ওয়েজবোর্ড গঠন, প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা করতে ডাটাবেজ হচ্ছে বরিশালে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন শাওন ও স্বপন : দুদকের তদন্ত শুরু বরিশাল নগরীর লুৎফুর রহমান সড়কের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ চেক জালিয়াতিসহ সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পিআইওর বিরুদ্ধে আদালত ভাঙচুরের মামলায় বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি গ্রেপ্তার হিট স্ট্রোকের লক্ষণ ও করণীয় ‘কিং’র নতুন ঝলকে বক্স অফিস কাঁপানোর হুঁশিয়ারি শাহরুখের! আমি নিজেকে সেলিব্রিটি মনে করি না: স্বস্তিকা প্রকাশ পেল এম-রাইজ নিবেদিত শাকিব খানের ‘জয়ধ্বনি’

শোরুম থেকে ফুটপাত—মিরপুরে ঈদের কেনাকাটা জমজমাট

আর কদিন বাদেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। তার আগে রাজধানীর মিরপুরের মার্কেটগুলোতে চলছে ঈদের জমজমাট কেনাবেচা। নামিদামি ব্র্যান্ডের শোরুম থেকে মার্কেট, ফুটপাত থেকে সাধারণ দোকান—সর্বত্র ক্রেতার পদচারণা। মার্কেটের চাপ এসে পড়ছে সামনের সড়কগুলোতেও।

বিকেল হলেই মিরপুরের সড়কগুলো চলে যাচ্ছে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মানুষের দখলে। 

শুক্রবার (১৩ মার্চ) মিরপুর-১০ নম্বরে জুতার দেশি ব্র্যান্ড অ্যাপেক্সের শোরুমে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। এসব মানুষ যেমন কিনছেন, তেমনি ঘুরে ঘুরে দরদামও যাচাই করছেন অনেকে।

দোকানটির সেলস ম্যানেজার প্রণব জানান, এবার আগের চেয়ে ক্রেতা বেশি।

মানুষ কিনছেও। বলা যায়, ঈদের প্রত্যাশিত বিক্রি হচ্ছে। এ বিক্রি গত ঈদগুলোর চেয়ে ভালো। 

পাশেই দাঁড়ানো ক্রেতা নাঈম আহমেদ সঙ্গে সঙ্গেই জানালেন ঈদ কেনাকাটার খবর।

ব্যবসায়ী নাঈম আহমেদ দুই ছেলেকে নিয়ে অ্যাপেক্সের মিরপুরের শোরুমে কেনাকাটা করতে এসেছেন। এক ছেলের জন্য জুতা কিনেছেনও। অন্য ছেলের পছন্দ না হওয়ায় অন্য দোকানে যাচ্ছেন। 

নাঈম আহমেদ বলেন, সারা বছরই ছেলেদের জন্য কেনাকাটা করতে হয়। ঈদ এলে নতুন জামা-কাপড় চাই-ই চাই।

সেজন্য অন্য সব কাজ বন্ধ করে ছেলেদের ঈদের নতুন পোশাক-জুতা কেনাকাটা করতে আসতে হয়েছে। 

নিজের জন্য কী কিনেছেন জানতে চাইলে নাঈম বলেন, ঈদ হচ্ছে বাচ্চাদের নতুন পোশাক-জুতায়। আর অভিভাবকদের ঈদ হচ্ছে ছেলে-মেয়েদের পছন্দমতো কেনাকাটা। করছিও তাই। এই তো আনন্দ।

দেশি পোশাকের হরেক রকম ডিজাইনের দোকানেও ক্রেতাদের আগ্রহ। মিরপুর-১-এর আড়ংয়ে ক্রেতাদের জায়গা দেওয়ার ঠাঁই নেই। পোশাক পছন্দ করে কাউন্টারে দাম দিতে লাইনে চলে যাচ্ছে আধা ঘণ্টার বেশি সময়। দেশি ব্র্যান্ডটির শোরুমে পুরুষের ক্যাজুয়াল পোশাকের চাহিদা বেশি। এর পরেই রয়েছে শিশু ও নারীদের পোশাক।

শোরুমটির ক্রেতা আসমা আক্তার বলেন, স্বামী, সন্তান ও ভাই-বোনের জন্য পোশাক কিনলাম। আমার নিজেরটা এখনো কিনিনি। অবশ্য আগেই কিছু কেনাকাটা করেছি। বাকিটা আগামীকাল কিনব।

আসমা বলেন, শোরুমটিতে যাই-ই কিনি, ডিজাইনের ভিন্নতা আছে। আছে কাপড়েরও বিশেষত্ব। এটা চেনাজানা ব্র্যান্ড।

আরেক দেশি ব্র্যান্ড ইনফিনিটির শোরুমে উপচে পড়া ভিড়। মানুষ কিনছেও। কথা হয় দোকানটির ম্যানেজার ইনচার্জ আব্দুস সামাদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়েছে। তবে আগের মতো হচ্ছে না। হিসাব করলে আগের বছরের ঈদের সময়ের চেয়ে ৫–৭ শতাংশ কম। তবে সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে।

এই কম হওয়ার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে এই ম্যানেজার বলেন, এবার দোকানগুলোর চেয়ে ফুটপাতে বেশি কেনাকাটা হচ্ছে। মানুষ শোরুমে দেখে ফুটপাতে চলে যাচ্ছে, ফুটপাত থেকেই বেশি কিনছে।

শোরুমটি থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় আশরাফুল হক নামে এক ক্রেতা বলেন, কেনাকাটার জন্য এসেছিলাম। ছোট ভাইয়ের জন্য পাঞ্জাবি কিনব, কিন্তু ভাইয়ের পাঞ্জাবি পছন্দ হলো না। দোকানটিতে ভালো পোশাক পাওয়া যায়। যার জন্য কিনব সে অন্য রকম চায়। তাই চলে যাচ্ছি, আরও দুয়েকটি দোকান দেখি।

মিরপুর-২ সেকশনের স্টেডিয়ামের সামনে ফুটপাতের ফরিদ উদ্দিন নামে এক বিক্রেতার সঙ্গে কথা হয়। ফরিদ বলেন, আগের ঈদের মতোই বিক্রি হচ্ছে। শোরুমগুলোর কাস্টমার মানেই আমাদের কাস্টমার। শোরুম থেকে ভালো এবং বেশি দামের পোশাক কিনে যাওয়ার সময় অনেকেই আমাদের কাছ থেকেও কিনে নেয়। আবার অনেকে আমাদের কাছে কম দামে পোশাক কেনার জন্য আসে, কেনাকাটা করে সোজা চলে যায়।

কম দামের পছন্দসই পোশাক কেনার জন্য মিরপুরের হোপ মার্কেট বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। যেন মেলার আমেজে সব ধরনের পণ্য কেনার ঠিকানা এটি। মেয়েদের এমন পোশাক নেই, যা এখানে পাওয়া যায় না। মিরপুর-১০ গোল চত্বর থেকে পূর্বে পানির ট্যাংকি পর্যন্ত ফুটপাতের এ মার্কেটটি জমে উঠেছে।

ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পোশাকের পাশাপাশি অন্য সব জিনিসপত্রের কেনাকাটাও বেড়েছে। প্রসাধনী, ফার্নিচার থেকে ঘরের অন্যান্য তৈজসপত্র, মোটরসাইকেল থেকে খুচরা যন্ত্রাংশ—সব ধরনের দোকানে ঈদের কেনাকাটার চাপ বেড়েছে।

মোটো এইডি নামে মোটরসাইকেলের পার্টসের দোকানে দেখা যায়, অন্য দিনের দ্বিগুণ মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড করা। কর্মীরা কাজও করছেন আগের চেয়ে বেশি গতিতে।

দোকানটিতে মোটরসাইকেলের পার্টস কিনতে আসা ফাহিম হোসেন জানান, ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়া ও ঘোরাঘুরির জন্য মোটরসাইকেলটি ঠিকঠাক করতে হবে। অফিসের ব্যস্ততার কারণে বাইকের কাজ করাতে পারেননি, এখন করিয়ে নিচ্ছেন।

দোকানটির সেলস ম্যানেজার রায়হান হোসেন জানান, আগের চেয়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কাজ বেড়েছে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এমন কাজ থাকবে। প্রতি বছরই ১০ রোজার পর থেকে কাজ বাড়ে। মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য মিরপুর-১০ নম্বরের এই জায়গাটির অন্যান্য দোকানগুলোরও একই অবস্থা।



Our Like Page