বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভায় কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে নতুন সরকারের প্রথম কর্মদিবস শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী সরকার দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন দেশ গড়বে এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের দুটি শপথই নিলেন এনসিপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেন বিএনপির মন্ত্রিসভার প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নিলেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ৬০ কোটির জালিয়াতির অভিযোগের মাঝেই রহস্যময় পোস্ট শিল্পার ভাইরাল কার্ডে ফাঁস বিয়ের দিন? মুখ খুলছেন না রাশমিকা-বিজয় ধানুশের সঙ্গে বিয়ের গুজব, রসিকতায় মেতেছেন ম্রুণাল

সরকার দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন দেশ গড়বে এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন এখন প্রতিটি নাগরিকের কণ্ঠে। একটি নতুন সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা থাকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং একটি শোষণমুক্ত সমাজব্যবস্থা। আর ১৭ বছর পর বিএনপি জাতীয় সংসদ দুই তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠন করায় জনগণের প্রত্যাশাও আকাশচুম্বী।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শপথ নিয়েছেন নতুন মন্ত্রিপরিষদ।

মন্ত্রিপরিষদের শপথ ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবন ছিল জনগণের পদচারণায় মুখরিত। নিজ নিজ এলাকার নেতাকে বরণ করে নিতে শতশত আবালবৃদ্ধবনিতার ভিড় ছিল সংসদ ভবন এলাকায়। এই ভিড়ের মধ্যেও বাংলানিউজকে সরকারের কাছে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন নগরবাসী। 

নতুন মন্ত্রিপরিষদের কাছে তাদের প্রত্যাশা অনেক।

মন্ত্রিপরিষদের কাছে দুর্নীতিমুক্ত ও শোষণমুক্ত সমাজ চায় সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে মানুষের মৌলিক অধিকার যাতে কেউ হরণ করতে পারেন সেটারও নিশ্চয়তা চান নগরবাসী। 

সংসদ ভবনের পূর্ব পাশে কথা হয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাজিদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, আইনের শাসন ও নিরপেক্ষ বিচার দুর্নীতি রোধে প্রথম শর্ত হলো আইনের সমান প্রয়োগ।

ক্ষমতার দাপট বা রাজনৈতিক পরিচয় যেন কাউকে বিচারের ঊর্ধ্বে না থাকে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং একটি শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠন করা এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মনে করেন। 

সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ঘুষ সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে বলে মনে করে মিরপুর থেকে আসা হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন,
প্রতিটি সরকারি সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসলে মানুষের সঙ্গে কর্মকর্তাদের সরাসরি লেনদেন কমবে, যা দুর্নীতি হ্রাস করবে এতে করে সরকারের ইমেজ বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

বিগত সময়ে ব্যাংকিং খাতে যে অরাজকতা ও অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে, তা রোধ করা নতুন সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আরিফুর রহমান।

তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর হতে হবে সরকারকে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

নতুন সরকারের কাছে আমাদের একটিই চাওয়া নতুন বাংলাদেশ যেন চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত হয়। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যাতে গণহারে হামলা-মামলা না হয়। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক মানুষ যাতে তার মৌলিক অধিকার ফিরে পায় আমরা সেই বাংলাদেশ দেখতে চাই বলে উল্লেখ করে কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী কানিজ আফরোজ কামরিন।

নিজ নেতাকে ফুল দিতে টাঙ্গাইল থেকে এসেছেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকারের কাছে প্রত্যাশা দেশটা যেন সুখে শান্তিতে থাকে। আমাদের মৌলিক অধিকারটা নিশ্চিত হয়।

তিনি আরও বলেন, ৩০ বছর পরে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখছি। সুতরাং এই নতুন মন্ত্রিসভার পরিষদের কাছে আমাদের অনেক আকাঙ্খা। তারা যেন দুর্নীতিমুক্ত, শোষণমুক্ত সুন্দর সমাজ আমাদের উপহার দেয়।

একটি দেশের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন সেই উন্নয়নের প্রতিটি পয়সা সঠিক জায়গায় ব্যয় হয়। দুর্নীতি কেবল অর্থ চুরি নয়, এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ চুরি করা। নতুন সরকার কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দৃশ্যমান পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে এমনটাই প্রত্যাশা তাদের কাছে।



Our Like Page