বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহারের মোড়ক উন্মোচন করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
ইশতেহারে বলা হয়, আর্থিকভাবে অসচ্ছল কোনো শিক্ষার্থী বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলে বিনা সুদে প্রথম দুই সেমিস্টার ফি সরকার প্রদান করবে। আর দেশের ভেতর দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাসে তিন হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে।
স্নাতক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার এক লাখ মেধাবী শিক্ষার্থীকে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ারও ঘোষণা রয়েছে ইশতেহারে।
স্কুল, কলেজে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক নিয়োগ পদ্ধতি ও বেতন কাঠামো প্রচলন করা হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছে দলটি। এই ইশতেহারে ঘোষণা করা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে ইবেতদায়ি মাদ্রাসাগুলো প্রাইমারি স্কুলের মতো সরকারি করা হবে। পরিমার্জন করা হবে কওমি শিক্ষা সিলেবাস।
নারী শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে দলটি। এতে বলা হয়েছে, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে স্নাতক পর্যন্ত নারীরা বিনা বেতনে পড়াশোনা করতে পারবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ, শিক্ষায় সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, শিক্ষাক্রমের আধুনিকায়নসহ বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা রয়েছে ইশতেহারে।
অপরদিকে, জামায়াতের ইশতেহারে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি। একদিকে যেমন কম খরচে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে, অন্যদিকে পাঁচ বছরের নিচে ও ৬০ বছরের ওপরে সবাইকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ঘোষণাও দিয়েছে দলটি।
এছাড়া পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্যখাতের বাজেট তিনগুণ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। সকল জেলায় পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল স্থাপন করার কথা উল্লেখ আছে ইশতেহারে।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, কোনো জেলা যাতে বাদ না থাকে, ৬৪টি জেলায়ই মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করবে জামায়াত।