এবারের অস্থিরতার মূলে রয়েছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)।
নাসের হুসেইন আইসিসির এই একপাক্ষিক সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘আমার প্রশ্ন একটাই—আইসিসি কি ভারতের ক্ষেত্রেও এমন কঠোর হতে পারতো? যদি ভারত সরকার টুর্নামেন্টের এক মাস আগে বলত তারা নির্দিষ্ট কোনো দেশে খেলতে যাবে না, তবে কি আইসিসি তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বের করে দেওয়ার সাহস দেখাত? সব পক্ষই কেবল কাজের স্বচ্ছতা ও সমতা চায়।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ভারত সমর্থকরা হয়তো বলবেন, আমাদের টাকা আছে তাই আমরাই শক্তিশালী। কিন্তু ক্ষমতার সাথে দায়িত্বও আসে। আপনি যদি বারবার বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলোকে কোণঠাসা করেন, তবে তাদের ক্রিকেটের মান কমে যাবে। ভারত-পাকিস্তান বা ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচগুলো যে এখন একপাক্ষিক হয়ে যাচ্ছে, তার কারণ এটাই।
নাসের হুসেইন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এই কঠোর অবস্থানের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তাদের খেলোয়াড় (মুস্তাফিজ)-এর জন্য রুখে দাঁড়িয়েছে, এটি আমার ভালো লেগেছে। পাকিস্তানও যে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেটাও ইতিবাচক। কাউকে না কাউকে তো বলতে হবে যে অনেক হয়েছে, এবার রাজনীতি বন্ধ করে আমাদের ক্রিকেট খেলতে দিন।’
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল।
সাবেক পিসিবি প্রধান নাজাম শেঠিও এই পরিস্থিতির জন্য বিসিসিআই-এর ‘দাদাগিরি’কে দায়ী করেছেন। তার মতে, ভারত সবসময়ই অন্য বোর্ডগুলোকে ভয় দেখিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে এসেছে।
সব মিলিয়ে, মাঠের ক্রিকেটের চেয়ে এখন মাঠের বাইরের কূটনীতিই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০টি দলের এই মহাযজ্ঞ শুরুর আগেই এমন অচলাবস্থা ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য এক অন্ধকার সংকেত বলে মনে করছেন নাসের হুসেইন।