অন্তর্বর্তী সরকার ছয় মাসের বেশি সময় ধরে পুনঃআলোচনার মাধ্যমে পূর্ববর্তী চুক্তির একাধিক সীমাবদ্ধতা দূর করেছে এবং সরকারের রাজস্ব স্বার্থ ও জাতীয় ডিজিটাল অবকাঠামো ব্যবহারে কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছে বলে আইসিটি বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
ইনফোসরকার-৩ একটি রাষ্ট্রনির্মিত জাতীয় অগ্রাধিকারভুক্ত ডিজিটাল অবকাঠামো প্রকল্প, যার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত একটি একক, সমন্বিত ও বাস্তব জাতীয় ফাইবার ব্যাকবোন নেটওয়ার্ক নির্মাণ করা হয়।
পূর্ববর্তী প্রকল্পগুলোতে সীমিত পরিসরে সংযোগ স্থাপিত হলেও, ইনফোসরকার-৩ প্রকল্পের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সরাসরি উদ্যোগে হাজার হাজার কিলোমিটার নতুন ফাইবার অপটিক কেবল স্থাপন করে জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি কৌশলগত জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে, যা দেশের বর্তমান জাতীয় ফাইবার ব্যাকবোনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
আগের চুক্তিতে ইনফোসরকার–৩ প্রকল্পের রাজস্ব ভাগাভাগির কাঠামো ছিল স্থির ও সীমিত। ইউনিয়ন পর্যায়ে আয় যতই বাড়ুক না কেন, সরকারের অংশ নির্দিষ্ট ১০% হারে সীমাবদ্ধ থাকত। প্রকল্পের সামগ্রিক আর্থিক সাফল্যের সঙ্গে সরকারের প্রাপ্তির কোনো সরাসরি সংযোগ ছিল না।
সংশোধিত চুক্তিতে এই কাঠামো পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন প্রকল্পের মাসিক মোট আয়ের উপর ভিত্তি করে স্তরভিত্তিক রাজস্ব ভাগাভাগি নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের অংশও বৃদ্ধি পাবে। ৫ কোটি টাকার কম আয়ে সরকারের অংশ ১৫ শতাংশ, ৫ থেকে ১০ কোটি টাকার আয়ে ২০ শতাংশ এবং ১০ কোটি টাকার বেশি আয়ে সরকারের অংশ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।
আগের চুক্তিতে ফাইবার লিজিং, অব্যবহৃত ফাইবার কোর ব্যবহার, কিংবা ফাইবার ব্যাংক সংক্রান্ত কোনো সুস্পষ্ট বিধান ছিল না। এর ফলে রাষ্ট্রের বিনিয়োগে গড়ে ওঠা বৃহৎ ফাইবার অবকাঠামো কার্যত একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পের মধ্যেই আবদ্ধ ছিল এবং জাতীয় পর্যায়ে ফাইবার পুনঃব্যবহার বা শেয়ারিংয়ের সুযোগ সীমিত ছিল।
সংশোধিত চুক্তিতে প্রথমবারের মতো অব্যবহৃত (dark) ফাইবার কোর লিজিংয়ের বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আগের চুক্তিতে জাতীয় ফাইবার ব্যাংক বা অনুরূপ কোনো উদ্যোগের সঙ্গে এই প্রকল্পের সম্পর্ক স্পষ্ট না থাকায় ভবি যেষ্যতে চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি ছিল। সংশোধিত চুক্তিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে, ফাইবার ব্যাংক বা ফাইবার শেয়ারিং ব্যবস্থাকে ইনফোসরকার–৩ পিপিপি চুক্তি বাতিল, পরিবর্তন বা একতরফাভাবে সংশোধনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এতে একদিকে বিনিয়োগ নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল অবকাঠামোগত স্বার্থ সংরক্ষিত হয়েছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মনে করে, এই পুনঃআলোচনার মাধ্যমে ইনফোসরকার–৩ প্রকল্প আগের সীমাবদ্ধ কাঠামো থেকে বেরিয়ে একটি অধিক রাষ্ট্রবান্ধব, স্বচ্ছ ও টেকসই পিপিপি মডেলে রূপ নিয়েছে, যা গ্রামীণ ব্রডব্যান্ড সম্প্রসারণ এবং জাতীয় ডিজিটাল সংযোগ অবকাঠামো শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।