বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ভূমি অফিসের সহকারী থেকে শত কোটির মালিক মাহফুজুর রহমানের সম্পদের পাহাড় শিগগিরই ১০ম ওয়েজবোর্ড গঠন, প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা করতে ডাটাবেজ হচ্ছে বরিশালে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন শাওন ও স্বপন : দুদকের তদন্ত শুরু বরিশাল নগরীর লুৎফুর রহমান সড়কের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ চেক জালিয়াতিসহ সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পিআইওর বিরুদ্ধে আদালত ভাঙচুরের মামলায় বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি গ্রেপ্তার হিট স্ট্রোকের লক্ষণ ও করণীয় ‘কিং’র নতুন ঝলকে বক্স অফিস কাঁপানোর হুঁশিয়ারি শাহরুখের! আমি নিজেকে সেলিব্রিটি মনে করি না: স্বস্তিকা প্রকাশ পেল এম-রাইজ নিবেদিত শাকিব খানের ‘জয়ধ্বনি’

বরিশালে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন শাওন ও স্বপন : দুদকের তদন্ত শুরু

 গাড়ি, বাড়ি, প্লট, ফ্ল্যাট-কী নেই বরিশালের ডোষ্ট পেট্রোল পাম্পের মালিক শাওন ও সুপারসনিক লঞ্চ মালিক স্বপনের। রীতিমতো গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। শুধু নিজের নামেই নয়; স্ত্রী ও স্বজনদের নামেও গড়েছেন বিপুল সম্পত্তি। এসব সম্পত্তি করেছেন জাল -জালিয়াতি,দুর্নীত ও অনিয়মের মাধ্যমে।অভিযোগ রয়েছে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ গড়ার।

 

দুদকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি তদন্ত শুরু করেছেন দুদক বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক খন্দকার কামরুজ্জামান। দুদক প্রধান কার্যালয়,ঢাকার   ০০,০১,০৬০০,৬৫২,০১,০৪৮,২৫-৫৬৯১৯, তারিখ: ২৯/১০/২০২৫ এর স্মারক, দুদক, প্রধান কার্যালয়, ঢাকার ই/আর নম্বর। মল্ট তদন্ত-২/৫৭৪/২৫/বরিশাল, তারিখ: ০৮/১০/২০২৫ ও  দুদক, সজেকা, বরিশালের স্মারক নম্বর: ০০.০১.০৬০০,৭৪২,০১,০২৯.২৫-১৮৭৭ তারিখ: ০৯/১১/২০২৫ এ এই অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে বরিশাল দুদক অফিস।ইতিমধ্যে অভিযোগকারী ইমন খান ও বরিশালের ডোষ্ট পেট্রোল পাম্পের মালিক শাওন ও সুপারসনিক লঞ্চ মালিক স্বপনকে দুদক কার্যালয়ে তদন্তের জন্য ডেকে ছিল।

 

দুদকে বরিশালের ডোষ্ট পেট্রোল পাম্পের মালিক শাওন ও সুপারসনিক লঞ্চ মালিক স্বপনের বিরুদ্ধে কর ও ভ্যাট ফাঁকি,সরকারি জমি দখল,জাল জালিয়াতি,জাল বন্টন নামা সৃষ্টি,অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ,দুর্নীতি ও অনিয়ম এবং পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের দাপট দেখিয়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জন করে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড় এই মর্মে অভিযোগ দিয়েছিল ইমন খান নামের এক ব্যক্তি।

বরিশালের বিশিষ্টি ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার খানের মৃত্যুর পরে তার মালিকানাধীন ডোষ্ট ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন জাল বন্টননামা সৃষ্টি করে ফিলিং স্টেশনটির দখল নেয় ওয়ালী মোহাম্মাদ খান শাওন। এই  ফিলিং স্টেশনটি হয় শাওনের আলাদিনের চেরাগ।ফিলিং স্টেশনে ক্রেতাদের পেট্রোল,অকটেন, ডিজেলের পরিমাপে কম দেয়া,সরকারি -বেসরকারি অফিস প্রদত্ত পেট্রোল ও অকটেনের স্লিপ ক্রয়,সরকারি রাজস্ব ফাঁকি,ডিপো থেকে তেল নিয়ে পাচার,সরকারি জমি দখল,অনিয়ম দুর্নীতি করে শাওন গড়েছেন শতকোটি টাকার সম্পদ।এছাড়া পেট্রোল ,ডিজেল ও অকটেনের অবৈধ মুজুদদারীর অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘ দিনের।

একটি তেলের পাম্প থেকে শাওন অসংখ্য ফিলিং ষ্টেশন গড়েছেন। এগুলো হলো,ডোষ্ট এলপিজি,মেসার্স রাব্বি ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স সারা ফিলিং ষ্টেশন, মেসার্স ইউনিক ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স কামিনী ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স তুর্য্য ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স কনা ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স পাথরঘাটা ফিলিং ষ্টেশন।এছাড়া বরিশাল বিসিকে ৩০ শতাংশ জমির ওপর মেসার্স বরিশাল আয়রন এন্ড ইলিয়েড ইন্ডাস্ট্রিজ,গড়িয়ার পাড়ে ত্রিশ শতাংশ জমি ক্রয়,কাশিপুর হাইস্কুল সংলগ্ন ৩০ শতাংশ জমি ক্রয় ,সাগরদী পায়রা নার্সিং হোম নামক বিল্ডিং জমিসহ ক্রয়,কাটপট্টিতে চারতলা ভবন ও জমি,ডোস্ট পাম্পের বিপরীতে ৩০ শতাংশ জমি,ওয়াহেদিয়া স্কুলের পাশে জমি,রুপাতলী বিদ্যুৎ অফিসের পাশে ২০ শতাংশ জমি,আব্দুল্লাহ পরিবহন নামে ১৮টি বাস,ঢাকা বসুন্ধরায় ৩টি প্লট ,রাজা বাহাদুর সড়কে থ্রি প্লেক্স ভবন ও জমি,৪টি প্রাইভেটকার,একটি মাইক্রোবাসসহ নামে বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদ ও নগদ অর্থ রয়েছে। এ ছাড়া দ্বিল মোহাম্মাদ খান স্বপনের রয়েছে এমভি সুপার সনিক ৩,এমভি সুপার সনিক ৬,এমভি সুপার সনিক ৭,এমভি সুপার সনিক ৮ ও সুপার সনিক ১০ নামে ৫টি লঞ্চ, একটি প্রাইভেট কারসহ নামে বেনামে  শত কোটি টাকার সহায় সম্পদ।

 

তাদের দুজনের বিরুদ্ধে রয়েছে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ। এছাড়া দ্বিল মোহাম্মাদ খান স্বপন তার পিতা মৃত আব্দুস সাত্তার খানের রেখে যাওয়া এমভি সুপার সনিক (এম -১৫০৪৮) ও এমভি গোলাম রসুল (এম -১৫০৪৯) লঞ্চ দুটি ইমন খান নাবালক অবস্থায় স্ক্রাপ হিসেবে বিক্রি করে দিয়ে নিজ নামে লঞ্চ গড়েন।অথচ ইমনসহ অংশীদারদের কাউকে কোন অংশ প্রদান করেননি।সম্পূর্ন অর্থ আত্মসাৎ করেন।

 

দুদকের তদন্ত শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন ইমন খান।তিনি বলেন, তদন্তে সত্য বেড়িয়ে আসবে।ইমন খান বলেন,আমার পিতা আব্দুস সাত্তার খান মৃত্যুর সময় আমার বয়স ৮ বছর। পিতার মৃত্যুর বিশ দিন পরে আমার আপন ভাই  দিল মোহাম্মদ খান স্বপন ও সৎ ভাই ওয়ালি মোহাম্মাদ খান শাওন  যোগ সাজসে একটি বে আইনি আপোষ বন্টন নামা করে।আমি নাবালক হওয়া সত্ত্বেও আদালত থেকে কোন অনুমতি ছাড়াই বন্টনকৃত সম্পদ থেকে আমার প্রাপ্য অংশ রাখেনি।

 

ইমন খান বলেন, আমার পিতা আব্দুস সাত্তার খান লাইন রোডে ১০ শতাংশ জমির ওপর ভবন ,সাগরদী গাউসিয়া সড়কে ৯ শতাংশ জমির ওপর ২তলা ভবন,সাগরদীতে ডোস্ট ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন নামে একটি পেট্রোল পাম্প, এম ভি সুপার সনিক ,এম ভি গোলাম রসুল নামে দুটি লঞ্চ,ফকিরবাড়ি সড়কে একটি দোকান,লাইন রোডে একটি দোকান,পোর্ট রোডে মৎস্য বাজারে তিনটি দোকান,৪ টি ট্যাংক লরি,বাংলাদেশ বানিজ্য ভান্ডার নামে একটি চালের আড়ৎ,৪ টি তেলের লাইসেন্স,২টি গ্যাসের লাইসেন্স রেখে গেছেন।ইমন খান বলেন, আমার পিতা তিন স্ত্রী , ৮ পুত্র  ও দুই কন্যা রেখে ২০০৩ সালের ১৩ মার্চ ইন্তেকাল করেন।

আমার পিতার মৃত্যুর বিশ দিনের মধ্য সম্পত্তি ভাগ ভাটোয়ারা করা হয়।আমার অংশ না রেখেই।বন্টনে অনেক সম্পত্তির উল্লেখ না করে আমার পিতার সম্পত্তি গোপন রাখা হয়।আমার পিতার সম্পত্তি দিয়ে আমার ভাই দিল মোহাম্মাদ খান স্বপন ৫ টি লঞ্চ করেছে।গাড়ি রয়েছে।

আমার সৎ ভাই ওয়ালি মোহাম্মাদ খান শাওন ৭টি পেট্রোল পাম্প করেছে। বিসিক শিল্প নগরী,গড়িয়ার পাড়,কাশিপুর,সাগরদী,কাটপট্টি,ওয়াহেদ স্কুল সংলগ্ন, রুপাতলীতে জমি ক্রয় করেছে।আব্দুল্লাহ পরিবহন নামে ১৮টি বাস ক্রয় করেছে।ঢাকার বসুন্ধরায় ও রাজা বাহাদুর সড়কে জমি ক্রয় ও ভবন নির্মান ও তিনটি প্রাইভেট কার ও একটি মাইক্রোবাস ক্রয় করেছে।

অথচ আমার পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তির কোথাও আমার অংশ না রেখে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে পৈত্তিক সম্পত্তি থেকে।ইমন খান ইতিমধ্যে লঞ্চ বিক্রির বিরুদ্ধে,স্বাক্ষর জালিয়াতি করা,আপোষ বন্টন নামা ও হেবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।এ ব্যাপারে ইমন খান তিনি ন্যায় বিচার পেতে প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।



Our Like Page