সংশ্লিষ্টরা জানান, ফাল্গুনের মাঝামাঝি থেকে চৈত্রের শুরু পর্যন্ত লিচুর মুকুল থেকে মধু সংগ্রহ করেন মৌয়ালরা। এ সময় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌচাষিরা ঈশ্বরদীতে এসে লিচু বাগানের পাশে মৌবাক্স স্থাপন করেন।
উপজেলার সলিমপুর, সাহাপুর, দাশুড়িয়া ও পাকশী ইউনিয়নজুড়ে প্রায় ১১ হাজার ২৭০টি ছোট-বড় লিচু বাগান রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে মধু চাষ করা হয়েছে। এসব বাগানে ব্যবহৃত হয়েছে ১২ হাজার ৩১০টি মৌবাক্স।
চাটমোহর থেকে আসা মৌচাষি মোহাম্মদ আলী জানান, তিনি ৩শ’টি মৌবাক্স স্থাপন করে প্রায় তিন টন মধু সংগ্রহ করেছেন। প্রতি কেজি ৩শ টাকা দরে প্রায় আট লাখ টাকার মধু বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।
টাঙ্গাইল থেকে আসা আরেক মৌচাষি সুমন মিয়া জানান, প্রতিবছরই তারা লিচুর মুকুলের সময় মধু সংগ্রহ করেন। প্রতি বাক্স থেকে গড়ে পাঁচ কেজি মধু পাওয়া গেলেও এবার বৃষ্টির কারণে উৎপাদন কম হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক পলাশ আহম্মেদ বলেন, লিচুর মুকুলে মৌমাছির উপস্থিতি যত বেশি হয়, তত বেশি পরাগায়ন ঘটে এবং ফলনও ভালো হয়। এবার অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মধু সংগ্রহ কম হয়েছে, যদিও লিচুর ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন জানান, লিচুর ফলন ভালো রাখতে এবং কীটপতঙ্গের আক্রমণ কমাতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, লিচুর ফুলে মৌমাছির উপস্থিতি বাড়লে পরাগায়ন বৃদ্ধি পায় এবং কীটনাশকের ব্যবহারও কমে।
তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে বাম্পার লিচুর মুকুল এসেছে। প্রতিটি মৌবাক্সে বিপুলসংখ্যক মৌমাছি থাকলেও বৃষ্টির কারণে প্রত্যাশিত হারে মধু সংগ্রহ সম্ভব হয়নি।