বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সেই গান বিতর্কে নতুন মোড়, নোরাকে নারী কমিশনের চিঠি টালিউডে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, এলো যে সিদ্ধান্ত বেনাপোল স্থলবন্দরে দুর্ঘটনায় এক শ্রমিক নিহত, গুরুতর আহত ১ সিলেটের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মীর্জা জামাল পাশা আর নেই রিয়ালকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে বায়ার্ন তামিমের নেতৃত্বাধীন কমিটি ‘অবৈধ’, আইসিসির হস্তক্ষেপ চাইলেন বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেটের রেপুটেশন ঠিক করতে চান তামিম ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে সমর্থন নেতানিয়াহুর, তবে যুদ্ধবিরতি ‘লেবাননের জন্য নয়’ ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন: বিশেষজ্ঞ যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে ‘বিজয়’ হিসেবে দেখছেন ইরানিরা

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার

বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণের খরা থাকলেও বিপুল পরিমাণ ঋণ নিচ্ছে সরকার। ফলে ব্যাংকব্যবস্থায় সরকারের ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তিন মাস বাকি থাকতেই পুরো অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার। এবার ব্যাংক থেকে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়।
তবে গত ৩০ মার্চ পর্যন্ত সরকার নিয়েছে এক লাখ ছয় হাজার ৫১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ব্যাংকব্যবস্থায় সরকারের মোট ঋণ স্থিতি ছয় লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার প্রতিবছরই ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে। এবার যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে খরচ বাড়লেও রাজস্ব আয় সেভাবে বাড়েনি।

 

আবার বিদেশি উৎস থেকেও আশানুরূপ ঋণ মিলছে না। ফলে সরকারের ঋণ চাহিদা মেটাতে ট্রেজারি বিল, বন্ডে নিয়মিত নিলাম ক্যালেন্ডারের বাইরে বিশেষ নিলাম ডাকতে হচ্ছে। বিশেষ নিলাম ডেকে গত ১ এপ্রিল পাঁচ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে সরকার। আজ ৮ এপ্রিল আরো পাঁচ হাজার কোটি টাকার জন্য বিশেষ নিলাম ডাকা হয়েছে।

ফলে এবার শেষ পর্যন্ত ঋণ কোথায় গিয়ে ঠেকবে এখনই বলা যাচ্ছে না। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে এক লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল। তবে সংশোধিত বাজেটে ৯৯ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। শেষ পর্যন্ত সরকার নিয়েছিল ৭২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত নেওয়া ঋণের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সরবরাহ করেছে ৩২ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

এতে বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের ঋণ স্থিতি বেড়ে এক লাখ ৩০ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা হয়েছে। আর বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকার ৯ মাসে নিয়েছে ৭৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। এতে ঋণ স্থিতি ঠেকেছে পাঁচ লাখ ২৬ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকায়। চলতি অর্থবছরের শুরুর দিকেও সরকারের ঋণ চাহিদা কম ছিল। গত অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকার ঋণ নেওয়ার চেয়ে পরিশোধ বেশি ছিল ৫০৩ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারির মতো ফেব্রুয়ারি মাসেও ৬.০৩ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বেসরকারি খাতে। দেশের বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে সংকোচন বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, উচ্চ সুদহার, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানিসংকটের কারণে উদ্যোক্তারা নতুন ঋণ নিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত কার্যত ধীরগতিতে চলছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতে আরো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও করছেন তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, গত ফেব্রুয়ারিতে ১৭ লাখ ৮৫ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে বেসরকারি খাতে। এক বছর আগে যা ছিল ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ



Our Like Page