মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৬:০৪ অপরাহ্ন

শখ থেকে সাফল্য: বাবা-ছেলের মালবেরি বাগান

বরিশাল: শখের বসে শুরু, আর এখন তা পরিণত হয়েছে সফল উদ্যোগে। বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার এক বাবা-ছেলের গড়া মালবেরি বাগান এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীদেরও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

বিদেশি ফল ব্ল্যাকবেরির মতো দেখতে হলেও এটি আসলে মালবেরি, যা অনেকেই তুঁত ফল নামে চেনেন। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটিতে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিনসহ ভিটামিন সি, ই, কে ও এ-যা শরীরের নানা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আন্দারমানিক ইউনিয়নের আজিমপুর গ্রামে চার বছর আগে মালবেরি চাষ শুরু করেন উদ্যোক্তা মেহেদী হাসান শুভ ও তার বাবা ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা সালেহউদ্দীন আঁকন। ইন্টারনেট ঘেঁটে চাষাবাদের পদ্ধতি শিখে পাকিস্তানি জাতের চারা রোপণ করেন তারা।

শুভ জানান, মূলত তার মায়ের ডায়াবেটিস থাকায় স্বাস্থ্যকর ফলের খোঁজ করতে গিয়ে মালবেরির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফল ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগীদের জন্য উপযোগী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রোপণের এক বছরের মাথায় ফল আসা শুরু হলেও তৃতীয় বছরে এসে বাগানে মিলেছে বাম্পার ফলন। সবুজ পাতার মাঝে লাল ও বেগুনি রঙের ফলের সমারোহ বাগানটিকে করে তুলেছে দৃষ্টিনন্দন। 

বর্তমানে দর্শনার্থীরা সরাসরি বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করতে পারছেন। এছাড়া ফ্রোজেন ফলও বিক্রি করছেন উদ্যোক্তারা।

বাজারে উচ্চমূল্য থাকলেও এখানে তুলনামূলক কম দামে-প্রতি কেজি প্রায় ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তবে ফলের গুণগত মান ও সতেজতা ধরে রাখতে হলে গাছ থেকে পাড়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে সংরক্ষণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা। সংরক্ষণ পদ্ধতির ক্ষেত্রে ফলগুলো নির্ধারিত তাপ মাত্রায় রাখতে হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ডিপ ফ্রিজে রেখে ফলগুলো দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। আর এভাবে ফলগুলো এক জায়গা থেকে অন্যজায়গাতেও পরিবহন করা সহজ হয়।
 

উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, গাছ থেকে পাড়ার পর প্রথমে ফলগুলো হালকা করে ধুয়ে পানি ঝড়িয়ে নিতে একটি ট্রেতে এক স্তরে ছড়িয়ে রাখতে হবে। পরে ফ্রিজে রাখতে হবে এবং জমে গেলে জিপলক ব্যাগে ভরে রাখলে ৬–১২ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

বাগানের মালি হুমায়ুন জানান, শুরুতে চাষাবাদ সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। ইন্টারনেট থেকে জেনে-শুনেই সবকিছু করতে হয়েছে। একই বাগানে স্ট্রবেরি চাষের চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি, তবে মালবেরি ভালো ফলন দিয়েছে।

বাগানটিতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। অনেকেই জানান, বাজারে দামি এই ফল নিজ হাতে গাছ থেকে ছিঁড়ে খাওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের জন্য একেবারেই নতুন।

সরকারি সহায়তা পেলে মালবেরি চাষ  বৃহৎ পরিসরে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা। আর ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের জন্য এই ফল উপকারী হওয়ায়, প্রয়োজনে বিনামূল্যেও খাওয়ানোর উদ্যোগ রয়েছে বলেও জানান তারা।

দক্ষিণাঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটি মালবেরি চাষের জন্য উপযোগী-এমন বাস্তব উদাহরণ তৈরি করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছেন এই বাবা-ছেলে।



Our Like Page