মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ন

নওগাঁয় বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব

জেলায় হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে সংক্রামক রোগ হামের প্রাদুর্ভাব। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, তবে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন রোগীদের স্বজনরা।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে নওগাঁ সদর, পোরশা, নিয়ামতপুর, সাপাহার, আত্রাই ও মান্দা উপজেলার বাসিন্দা রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা গেছে নওগাঁ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে।

 

সোমবার সকালে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, রোগীতে ঠাসা পুরো ওয়ার্ড। ২০টি শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছে প্রায় ৭০ জন শিশু। জায়গা না পেয়ে অনেককেই মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

স্বজনদের অভিযোগ, একই বেডে দুই থেকে তিনজন রোগীকে রাখা হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।

একই সঙ্গে জ্বর, ডায়রিয়া ও হামের রোগীদের একসঙ্গে চিকিৎসা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। 

এক রোগীর স্বজন অভিযোগ করেন, হাসপাতালে থার্মোমিটার না থাকায় হাত দিয়ে তাপমাত্রা আন্দাজ করে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে- এটা খুবই হতাশাজনক।

মান্দা উপজেলার এক শিশুর মা জানান, জ্বর ও শরীরে চুলকানির পর তার সন্তানের অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। অন্যদিকে রানীনগরের এক নারী জানান, তার নাতির খিঁচুনি ওঠার পর দ্রুত হাসপাতালে আনা হলেও বেড না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

 

শিশু ওয়ার্ড ইনচার্জ জেনাত রেহেনা জানান, কয়েকদিন ধরে জ্বর, কাশি ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। অতিরিক্ত চাপের কারণে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে, তবুও তারা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু জার গাফফার বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি কেবিনকে আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে, প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আক্রান্ত এলাকাগুলোর আশপাশের প্রায় ৪০টি বাড়ির শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্তে বিভিন্ন উপজেলায় জোরদার করা হয়েছে বিশেষ অনুসন্ধান কার্যক্রম। 

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আগামী মে মাসে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের এমআর টিকা-এর বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে।

এদিকে হামের উপসর্গ-জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সার্বিক পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



Our Like Page