সংস্থাটির ১৬৬টি সদস্য দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও আলোচকরা এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। তবে বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য থাকলেও তাদের প্রত্যাশা তুলনামূলকভাবে কম। গত বৃহস্পতিবার চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে সেগুলো- বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার, বিনিয়োগ সহায়তা চুক্তিকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করা, খাদ্য নিরাপত্তার জন্য পাবলিক স্টকহোল্ডিংয়ের স্থায়ী সমাধান, অতিরিক্ত মাছ ধরার জন্য ভর্তুকি সীমিত করার চুক্তি এবং ই-কমার্স মোরাটোরিয়ামের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ।
১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বাংলাদেশ চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে এলডিসি তালিকা থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমাদের রপ্তানির বড় অংশ এলডিসি নির্দিষ্ট বাণিজ্য সুবিধা ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিশেষ ও পৃথক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়াটি অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মূল নীতির ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত।
‘সংস্কারের মাধ্যমে ঐকমত্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বজায় রাখতে হবে, ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতি গ্রহণের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে,’ বলেন তিনি।
নিয়মভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে একটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার ওপর, যা সব সদস্য দেশের অধিকার রক্ষা করে, এমনকি ক্ষুদ্র দেশগুলোরও, বলেন মন্ত্রী।
এদিকে বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংগঠন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যদের এমন ‘সংস্কার’ এজেন্ডা প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছে, যা সংস্থার উন্নয়নমূলক লক্ষ্যকে দুর্বল করতে পারে। আমাদের বিশ্ব বিক্রির জন্য নয় নামের একটি বৈশ্বিক সংগঠন এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বৈষম্যহীনতার নীতি দুর্বল করতে পারে এবং শক্তিশালী দেশগুলোর প্রভাব বাড়াতে পারে।
তারা আরও বলেছে, এসব সংস্কার এমন একটি শাসনব্যবস্থা তৈরি করতে পারে যেখানে শক্তিশালী অর্থনীতিগুলো অন্য দেশগুলোর ওপর নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দিতে পারবে।
উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক নাইজেরিয়ার অর্থনীতিবিদ ড. এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা বলেন, আমাদের সদস্যদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা সংস্থাটিকে এগিয়ে নিতে চায়, নাকি ভেঙে দিতে চায়। ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ক্যামেরুনের বাণিজ্যমন্ত্রী লুক-ম্যাগলোয়ার এমবার্গা আটাঙ্গানা। চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন আগামীকাল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
সৌজন্য: বাংলাদেশ প্রতিদিন