বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘অধ্যাদেশ বাতিল এবং গণভোট অস্বীকারের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের যুগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা দেখছি, সমসাময়িক কিছু বিষয় যেমন, ২৮ জন বিচারককে শোকজ দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা দেখছি যে, ফেসবুকে পোস্ট করার জন্য আবার গ্রেপ্তার শুরু হয়ে গেছে। এটা আমরা দুই বছর পরে আবার নতুন করে দেখছি যেটা আমরা দুই বছর আগে দেখতাম। আমাদের জাতীয় নাগরিক পার্টিরও অঙ্গ সংগঠনের একজন শাখার যুগ্ম সদস্য সচিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটছে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে লেখালেখি করার ফলে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আপনার বিরুদ্ধে যদি কিছু লেখা না যায় তাহলে আপনি সংসদে দাঁড়িয়ে বলে দেন যে, আমার বিরুদ্ধে কিছু লেখা যাবে না। লিখলে গ্রেপ্তার করা হবে। অথবা একটা আইন করে দেন, কোনো সমালোচনা করা যাবে না, কোনো কথা বলা যাবে না, স্যাটায়ারও করা যাবে না। যদিও আপনি উত্তর দেবেন কিনা জানি না। এটাও হয়তো সালাউদ্দিন ভাই উত্তর দিতে পারেন।
অধ্যাদেশ বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা ইনটেনশন খুব স্পষ্ট, আমরা যেখান থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরে একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছি, সেখান থেকে এখন উল্টো পথে হাঁটা শুরু করেছি। যেটা শেখ হাসিনার ভাষায় এবসলিউট পাওয়ার-সেটাই এখন বর্তমান সরকারের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি যত খারাপ কাজ করবে, যত জনবিরোধী কাজ করবে সেটা দ্রুতই করে ফেলুক, আমরা চাই। কারণ আমরা আবারো ১৫-২০ বছর অপেক্ষা করতে চাই না।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সংবিধান পুনর্লিখনের কথা বলেছিলাম। কিন্তু এখন আমরা এমন একটা পর্যায়ে উপনীত হয়েছি যে কম্প্রমাইজড ভার্সনটাও বাস্তবায়ন করতে পারছি না এবং সরকার সেটাকে পুরোপুরি বাতিল করে দিচ্ছে। যেই অধ্যাদেশগুলো সরকারের ক্ষমতাকেও কমায় না-যেমন ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ। সেগুলোকেও তারা বাতিল করে দিচ্ছে।
সংসদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, টু থার্ড পাওয়ার ফলে এই সংসদ একটা অকার্যকর সংসদ হয়ে গেছে। সংসদ সদস্যরা কথা বললেও তার কোনো বাস্তবায়ন নেই। বিরোধী দল হিসেবে আমাদের রাজপথে নামতে হচ্ছে।