মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমন ভয়াবহ আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ৩৬ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে আয়োজক তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় ভক্ত, খেলোয়াড়, সাংবাদিক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ‘মারাত্মক ঝুঁকি’র কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অ্যামনেস্টি দাবি করেছে, বিশ্বকাপের দর্শকদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন দপ্তরের (আইসিই) বিতর্কিত ও বৈষম্যমূলক আচরণ। সংস্থাটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিভাগের প্রধান স্টিভ ককবার্ন জানান, ২০২৫ সালেই যুক্তরাষ্ট্র ৫ লাখেরও বেশি মানুষকে বহিষ্কার (ডিপোর্ট) করেছে, যা বিশ্বকাপের ফাইনাল ভেন্যু মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মোট দর্শক ধারণক্ষমতার চেয়েও ৬ গুণ বেশি।
প্রতিবেদনে মেক্সিকো এবং কানাডার পরিস্থিতিও উঠে এসেছে। মেক্সিকোতে মাদক কার্টেল দমনে ১ লাখ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ফিফা এবং হোয়াইট হাউসের ওয়ার্ল্ড কাপ টাস্ক ফোর্স অবশ্য এই অভিযোগগুলো উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া ইভেন্ট হতে যাচ্ছে। ফিফা জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে অ্যামনেস্টির মতে, ১৬টি আয়োজক শহরের মধ্যে মাত্র ৪টি শহর তাদের মানবাধিকার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যা যথেষ্ট নয়।