সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন

নেতাকর্মীদের ভিড়ে আটকে পড়া অ্যাম্বুলেন্সকে পথ করে দিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের ভিড়ে আটকে পড়া একটি অ্যাম্বুলেন্সকে দ্রুত পথ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একইসঙ্গে রাস্তা বন্ধ করে মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটালে বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে তিনি আর কার্যালয়ে আসবেন না বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নয়াপল্টন কার্যালয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ সময় তিনি কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার বারান্দা থেকে হাত নেড়ে নিচে অপেক্ষমাণ দলীয় নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। একপর্যায়ে কার্যালয়ের সামনের ভিড়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স আটকে পড়তে দেখেন তিনি। 

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‌ওই যে দেখা যাচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স আটকে আছে, ওটাকে আগে যেতে দেন। একই সঙ্গে সামনের রাস্তা ক্লিয়ার করতে হবে।

জনগণের দুর্ভোগ হয় এমন কাজ করা যাবে না। 

রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ বা ভিড় করার বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, এভাবে রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। স্বাভাবিকভাবে আমাদের অফিসে আসতে হবে, যাতে স্বাভাবিকভাবে সবকিছু হয়। অফিসে আমি আরও আসবো, কিন্তু এরকম রাস্তা বন্ধ করা যাবে না।

আর যদি এরকম রাস্তা বন্ধ হয়, তাহলে আমার পক্ষে অফিসে আসা সম্ভব না। কিন্তু অফিসে আসলে নেতাকর্মী সবার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করা সম্ভব হবে, দলের কাজ করা সম্ভব হবে। আমি কথা বোঝাতে পেরেছি? রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। 

রাস্তার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি আরও বলেন, যদি আমাকে পল্টন অফিসে দেখতে চান, তাহলে রাস্তার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে হবে। রাস্তা কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না, মানুষের চলাচলে বাধা-বিঘ্ন দেওয়া যাবে না।

আগামী আধা ঘণ্টার মধ্যে রাস্তাটা ক্লিয়ার করতে হবে। সবকিছু স্বাভাবিক রাখতে হবে। 

দেশের মানুষের প্রত্যাশার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে দলের দিকে তাকিয়ে আছে। কাজেই এখানে যে সব নেতাকর্মী আছেন, সারা দেশে আমাদের যে সব নেতাকর্মী আছেন, আমাদের আইন-শৃঙ্খলার ভেতরে থাকতে হবে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষের সমস্যা হয়, কষ্ট হয়, অসুবিধা হয়-এমন কাজগুলো করা যাবে না।

বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, দেশে অনেক সমস্যা আছে। মানুষকে বোঝাতে হবে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং মানুষকে ধৈর্য ধারণে সহযোগিতা করতে হবে। আমাদের অনেক কাজ আছে। এক নম্বর কাজ হচ্ছে রাস্তা ক্লিয়ার করতে হবে, অফিসে যাতে আমি আসতে পারি। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আমি অফিসে আসতে পারবো, আপনাদের সহযোগিতা না থাকলে আমি অফিসে আসতে পারবো না।

এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের কাছে জানতে চান, তারা চান কিনা তিনি অফিসে আসুন। নেতাকর্মীরা সমস্বরে ‌‌‌‘হ্যাঁ’ উত্তর দিলে তিনি বলেন, তাহলে আপনাদের সহযোগিতা করতে হবে, পরিবেশটা নরমাল রাখতে হবে। আমি আরও দু-একদিন আসবো। আমি দেখবো আপনারা যদি পরিবেশ স্বাভাবিক রাখেন, তাহলে আমি আসবো। আর আপনারা যদি স্বাভাবিক না রাখেন, তাহলে কিন্তু এখানে আমার পক্ষে আসা সম্ভব হবে না। কারণ আমি আসলেই আপনারা যদি এরকম করেন, এলাকার মানুষের সমস্যা হবে। এদিকের রাস্তা দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে, তাদের সমস্যা হবে। কাজেই আমরা নিশ্চয়ই দেশের মানুষের সমস্যার কারণ হতে চাই না।

সবশেষে তিনি নেতাকর্মীদের বাম দিকে চেপে রাস্তা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, এখন অনুরোধ হচ্ছে রাস্তাটা ক্লিয়ার করতে হবে। সবাই বাম দিকে চেপে আসেন। রাস্তাটা খুলে দেন। ধন্যবাদ, আর কথা বাড়াবো না এখন। আসসালামু আলাইকুম।

পরে রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি নয়াপল্টন কার্যালয় ত্যাগ করেন।



Our Like Page