শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৫ অপরাহ্ন

গোমা সেতু নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতি: ৫৭ কোটি থেকে ৯২ কোটিতে ব্যয় বৃদ্ধি, ৯ বছরে প্রকল্প শেষ

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত  গোমা সেতুটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। সেতুটির নির্মাণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়া এবং ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠে এসেছে।  এই সেতুর উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে সামনে এসেছে এক দীর্ঘ বিতর্কিত নির্মাণ ইতিহাস—যেখানে রয়েছে সময়ক্ষেপণ, ব্যয় বৃদ্ধি এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে এটি স্থানীয় জনগণের জন্য আশার প্রতীক হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে এটি হয়ে উঠেছে প্রশ্নবিদ্ধ বাস্তবায়নের একটি উদাহরণ।

নির্মাণ ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি 

প্রাথমিক ও চূড়ান্ত ব্যয়: ২০১৭ সালে যখন প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়, তখন এর প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা । তবে কাজ শেষ হতে হতে এই ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, যা মূল বাজেটের চেয়ে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা বেশি ।

  সময়ক্ষেপণ: ৩ বছরের মধ্যে (২০১৮-২০২১) কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এটি সম্পন্ন করতে প্রায় ৯ বছর সময় লেগেছে ।

 

সেতু নির্মাণে  অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ  ও জটিলতা : 
ভুল নকশা ও উচ্চতা সংক্রান্ত জটিলতা: বিআইডব্লিউটিএ-এর নিয়ম অনুযায়ী সেতুর উচ্চতা পর্যাপ্ত না হওয়ায় মাঝপথে দেড় বছর কাজ বন্ধ থাকে । পরবর্তীতে নকশা পরিবর্তন করে উচ্চতা বাড়াতে গিয়ে প্রকল্পের ব্যয় ও সময় উভয়ই অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় ।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় রাঙ্গামাটি নদীর ওপর গোমা সেতু নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ-এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও চরম গাফিলতির অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে এসেছে। মূলত রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং নকশা পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে কাজ দীর্ঘায়িত করার মাধ্যমে প্রকল্পের ব্যয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

 

টাইমলাইন: কাগজে পরিকল্পনা বনাম বাস্তবতা

বছর পরিকল্পনা বাস্তব অগ্রগতি
২০১৭ প্রকল্প অনুমোদন প্রাথমিক ব্যয় ৫৭.৬২ কোটি টাকা
২০১৮ কাজ শুরু ধীরগতির সূচনা
২০২১ নির্ধারিত সমাপ্তি কাজ অসম্পূর্ণ
২০২২–২০২৪ সংশোধিত সময়সীমা বারবার স্থগিত
২০২৬ প্রকল্প শেষ ও উদ্বোধন চূড়ান্ত ব্যয় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা

অনুসন্ধান: একটি সেতু, বহু প্রশ্ন

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত গোমা সেতু—যা ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে—শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, বরং এটি এখন একটি বিতর্কিত উন্নয়ন মডেলের উদাহরণ।

সরকারি নথি, স্থানীয় সূত্র এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রকল্পটি শুরু থেকেই পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং তদারকির ক্ষেত্রে গুরুতর দুর্বলতায় ভুগেছে। এর ফল—সময় তিনগুণ, ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ, এবং জনভোগান্তি দীর্ঘমেয়াদি।

ব্যয় বিশ্লেষণ: কোথায় গেল অতিরিক্ত ৩৪ কোটি?

প্রাথমিক ব্যয়: ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা
চূড়ান্ত ব্যয়: ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা

বৃদ্ধি: প্রায় ৩৪ কোটি টাকা

সম্ভাব্য কারণ (সরকারি যুক্তি অনুযায়ী):

  • নকশা পরিবর্তন

  • নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি

  • সময় বৃদ্ধি

অনুসন্ধানে উঠে আসা প্রশ্ন:

  • নকশা পরিবর্তন কেন শুরুতেই শনাক্ত হয়নি?

  • বিলম্বজনিত অতিরিক্ত ব্যয় কি নিয়ন্ত্রিত ছিল?

  • প্রকল্প সংশোধনে কারা অনুমোদন দিয়েছে?

অর্থনীতিবিদদের মতে, “এই ধরনের ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত প্রকল্প তদারকির দুর্বলতা বা ইচ্ছাকৃত অপচয়ের ইঙ্গিত দেয়।”

নকশাগত ত্রুটি: পরিকল্পনার কেন্দ্রে ব্যর্থতা

প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যর্থতা ছিল সেতুর উচ্চতা নির্ধারণে ভুল।

কী ঘটেছিল?

  • নদীপথে চলাচলকারী নৌযানের জন্য প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স রাখা হয়নি

  • সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানায়

  • প্রায় দেড় বছর কাজ বন্ধ থাকে

ফলাফল:

  • পুনরায় নকশা প্রণয়ন

  • অতিরিক্ত নির্মাণ ব্যয়

  • প্রকল্প বিলম্ব

প্রশ্ন উঠেছে—ডিজাইন যাচাই প্রক্রিয়ায় কোন সংস্থা দায়িত্বে ছিল এবং তারা কেন ব্যর্থ হলো?

ধীরগতির নির্মাণ: কৌশল নাকি ব্যর্থতা?

স্থানীয় পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী—

  • দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ বা আংশিক চালু ছিল

  • শ্রমিক ও যন্ত্রপাতির উপস্থিতি অনিয়মিত ছিল

এটি ইচ্ছাকৃত বিলম্ব কিনা, তা তদন্তের দাবি রাখে।


প্রকল্প মেয়াদ বাড়ানো: প্রশাসনিক দুর্বলতা?

প্রকল্পটি অন্তত কয়েক দফা সময় বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রশ্ন হলো—

  • প্রতিটি সময় বৃদ্ধি কি প্রকৃত অগ্রগতির ভিত্তিতে ছিল?

  • নাকি রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের চাপ ছিল?

দায় কার?

এই প্রকল্পে অন্তত চারটি স্তরে জবাবদিহিতার প্রশ্ন ওঠে—

১. পরিকল্পনা সংস্থা – নকশা অনুমোদনে ব্যর্থতা
২. বাস্তবায়ন সংস্থা – তদারকির ঘাটতি
৩. ঠিকাদার – কাজের গতি ও মান
৪. প্রশাসন – সময় ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান  এম খান গ্রুপের  প্রধান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ:

 

মেয়াদ বাড়ানো: প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালে শুরু হয়ে ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ কাজ ফেলে রাখে । পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাবে কয়েক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

 

ব্যয় বৃদ্ধি: কাজ শেষ করতে দেরি হওয়ায় এবং নতুন নতুন অজুহাতে বাজেট সংশোধনের মাধ্যমে প্রাথমিক ব্যয় ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা করা হয় । অভিযোগ রয়েছে যে, এই অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি বড় অংশই অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

২. ভুল নকশায় কাজ শুরু

ভুল উচ্চতা: সেতুটির উচ্চতা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর আপত্তির পরও ভুল নকশায় কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয় । এই জটিলতার কারণে মাঝপথে কাজ বন্ধ থাকায় কয়েক লাখ মানুষ বছরের পর বছর ফেরি,ট্রলার ও নৌকায় পারাপার হতে বাধ্য হয়েছে ।

অর্ধসমাপ্ত কাজ: সেতুর মূল কাঠামো অনেক আগেই দাঁড়িয়ে গেলেও সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটি বছরের পর বছর গড়িমসি করেছে ।যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় ।

৩. অন্যান্য অভিযোগ

কালো তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা: সরকারি বিভিন্ন কাজে এম খান গ্রুপের মালিক মাহফুজ খানের বিরুদ্ধে গাফিলতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অতীতেও তাকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ।

  শ্রমিক ও স্থানীয়দের পাওনা: কাজ চলাকালীন সময়ে স্থানীয় শ্রমিকদের মজুরি ও মালামাল সরবরাহকারীদের টাকা বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে  ।

এম খান গ্রুপের মালিক মাহফুজ খান তৎকালীন রাজনৈতিক নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এই প্রকল্পের বাজেট বৃদ্ধি ও সময়ক্ষেপণ করেছেন। বর্তমানে সেতুটি চালু হলেও এই দীর্ঘসূত্রিতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

    ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি: স্থানীয়দের অভিযোগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ-এর মালিক মাহফুজ খান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছেন । অভিযোগ রয়েছে যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বারবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং নিম্নমানের কাজের বিষয়েও বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ।

সংযোগ সড়কের অভাব: সেতুর মূল কাজ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) না থাকায় সাধারণ মানুষকে মই বা সিঁড়ি বেয়ে সেতুতে উঠতে হয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে ।

বরিশালের রাঙ্গামাটিয়া নদীর ওপর নির্মিত গোমা সেতুর কাজ শেষ হয়েছে প্রায় নয় বছর পর।  মঙ্গলবার ( ১৭ মার্চ) দুপুরের দিকে উদ্বোধনের পর সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ সেতুর উদ্ধোধন করেন।

 

সেতু নির্মাণে লেগেছে ৯ বছর:

সেতু নির্মাণে লেগেছে ৯ বছর।২০১৭ সালে প্রায় ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্প হিসেবে সেতুটি অনুমোদন পায়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। শুরুতেই উচ্চতা নিয়ে আপত্তি তোলে বিআইডব্লিউটিএ। তাদের দাবি ছিল, নদীপথ সচল রাখতে সেতুর উচ্চতা আরও বাড়াতে হবে। প্রথম নকশায় সেতুর মাঝ বরাবর সর্বোচ্চ জোয়ারের সময় উচ্চতা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ৬২ মিটার। পরে তা বাড়িয়ে ১২ দশমিক ২০ মিটার করা হয়। এই পরিবর্তনের কারণে পুরো নকশাই সংশোধন করতে হয়। নতুন নকশায় সেতুর মাঝখানে স্টিল ট্রাস স্প্যান যুক্ত করা হয়।

পাঁচবার বাড়ানো হয় সময়সীমা, বেড়ে যায় ব্যয়ও:

নকশা পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ ও নদী শাসনের কাজ যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পটির সময়সীমা পাঁচবার বাড়ানো হয়। ব্যয়ও বেড়ে যায় উল্লেখযোগ্যভাবে। সংশোধিত প্রকল্পে সেতুর ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, যা প্রাথমিক অনুমানের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।

সেতুটির দৈর্ঘ্য ২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার। দুই লেনের এই সেতুতে পিসি গার্ডারের পাশাপাশি স্টিল ট্রাস ব্যবহার করা হয়েছে, যা দক্ষিণাঞ্চলে এ ধরনের প্রথম সেতু বলে জানিয়েছেন সওজের প্রকৌশলীরা।  সেতুটির ঠিকাদার মো. মাহফুজ খান সাংবাদিকদের বলেন, উচ্চতা বৃদ্ধি, নকশা পরিবর্তন এবং নদী শাসনের কাজ বাড়ার কারণেই সময় ও ব্যয় দুইই বেড়েছে।

বরিশাল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, নদীর ধারা পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ এবং সেতুর উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বারবার নকশা সংশোধন করতে হয়েছে।  মঙ্গলবার দুপুরের দিকে উদ্বোধনের পরই সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

 

উন্নয়ন না অপচয়?

গোমা সেতু এখন চালু—এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক।

তবে এর নির্মাণ ইতিহাস একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে—
বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কি যথাযথ পরিকল্পনা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে প্রয়োজন স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত।

নয়তো গোমা সেতুর মতো প্রকল্প ভবিষ্যতেও পুনরাবৃত্তি হবে—
আর উন্নয়ন হবে, কিন্তু তার মূল্য দিতে হবে সাধারণ মানুষকেই।

মেয়াদ বৃদ্ধি: নিয়ম না ব্যতিক্রম?

প্রকল্পটি একাধিকবার সময় বৃদ্ধি পেয়েছে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন:

  • প্রতিবার মেয়াদ বৃদ্ধির যৌক্তিকতা কী ছিল?

  • কোনো দায় নির্ধারণ করা হয়েছিল কি?

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সময় বৃদ্ধি ঠিকাদারকে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দেয়।

জবাবদিহিতা: অমীমাংসিত প্রশ্ন

এই প্রকল্পে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত—

  • নকশা ত্রুটির জন্য দায়ী কে?

  • ব্যয় বৃদ্ধির অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হয়েছে?

  • প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর ভূমিকা কী ছিল?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ছাড়া প্রকল্পটির পূর্ণ মূল্যায়ন সম্ভব নয়।


 তদন্তের প্রয়োজনীয়তা

বিশ্লেষকদের মতে, গোমা সেতু প্রকল্পে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

কেন তদন্ত প্রয়োজন?

  • ব্যয় বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ নির্ধারণ

  • অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ যাচাই

  • ভবিষ্যৎ প্রকল্পের জন্য শিক্ষা

 

সেতুটি নির্মাণ হওয়ার মাধ্যমে বরিশাল জেলা সদরের সাথে বাকেরগঞ্জের পূর্বাঞ্চল কবাই, নলুয়া, দুধল সহ পটুয়াখালীর বাউফল ও দুমকী উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজ দ্বার উন্মোচিত হলো।

 



Our Like Page