আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে বলে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।
এর আগে একই দিন সকালে একই স্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর শনিবার থেকেই এ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা গণমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্যদের এবং বিকেলে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হচ্ছে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। তবে রাষ্ট্রপতি নিজেই শপথ পাঠ করাবেন কি না-এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সাধারণত রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে নতুন সরকারপ্রধান ও মন্ত্রীদের শপথ পাঠ করান। এবার স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই রীতিতে ব্যতিক্রম ঘটতে যাচ্ছে।
এর আগে চব্বিশের আন্দোলনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নিয়েছিল।
শপথ আয়োজনের প্রস্তুতির মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব আব্দুর রশীদকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
সংসদ সচিবালয়ের আরেক কর্মকর্তা জানান, বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে সংসদ সচিবালয়কে নতুন সরকারের শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে বলা হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুতি শুরু করা হয়। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের শপথের আয়োজনও আগে থেকেই চলছিল।
সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পর তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নিতে হয়। শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭টির গেজেট প্রকাশ করে।
নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কে শপথ পড়াবেন, এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে সংসদ সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারই সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন।
সংসদ সদস্যদের শপথ শেষে সংসদীয় দলের বৈঠকে নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নির্বাচিত নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের দাবি উপস্থাপন করবেন। রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন মন্ত্রিসভা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবে।