রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন

সিলেটের ১৯ আসনে সৌভাগ্যবান কারা

সিলেট: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চলছে। ভোট উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে তৎপর যৌথ বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন সিলেটের তথ্য অনুসারে, সিলেট বিভাগের মোট ভোটার সংখ্যা  ৮৪ লাখ ৪৫ হাজার ৭১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৩ লাখ ১২ হাজার ১৫৭ জন এবং নারী ভোটার ৪১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৮০ জন।

সিলেটের ১৯টি আসনে ভোটে ১০৫ জন প্রার্থী ভাগ্য নির্ধারণ হবে আজই। কারা হচ্ছেন ১৯ সৌভাগ্যবান? এই জল্পনা সবখানে আলোচনায়।

একইভাবে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ গণভোটের নির্ধারণ নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ। 

সিলেটের ৬টি আসন:
সিলেট-১: (সিটি কর্পোরেশন ও সদর) আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর (ধানের শীষ), জামায়াতের মাওলানা হাবিবুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা)।

এ আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৩ জন।

এরমধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৮৩, নারী ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৪৭ জন এবং হিজড়া ১৩ জন। ভোটকেন্দ্র ২১৫টি, ভোট কক্ষের সংখ্যা ১ হাজার ২৬৬টি। এরমধ্যে ৯৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ। 

সিলেট-২: (বিশ্বনাথ-ওসমানী নগর) আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির তাহসিনা রুশদীর লুনা (ধানের শীষ), ১০ দলীয় জোটপ্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী (দেওয়াল ঘড়ি) মূল প্রতিদ্বন্দ্বি। আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯৩২ জন।

এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭৯ জন এবং নারী ১ লাখ ৮০ হাজার ২৫৩ জন। ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটকক্ষ রয়েছে ৭৩৩টি। 

সিলেট-৩: (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির আব্দুল মালিক (ধানের শীষ), ১১ দলীয় জোটপ্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু (রিকশা)। আসনটিতে মোট ৪ লাখ ১৫ হাজার ৯৬৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১১ হাজার ৬৮৬ জন, নারী ২ লাখ ৪ হাজার ২৭৮ জন এবং হিজড়া ভোটার ২ জন। কেন্দ্র ১৫১টি, ভোটকক্ষ ৮৫২টি।

সিলেট-৪: (কোম্পানীগঞ্জ-গোয়াইঘাট-জৈন্তাপুর) আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জয়নাল আবেদীন (দাঁড়িপাল্লা)। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৩৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬৭ হাজার ১৩ জন এবং নারী ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮০ জন এবং হিজড়া ১ জন। ১৭২ কেন্দ্রে ভোটকক্ষ ১০০৮টি।

সিলেট-৫: (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের উবায়দুল্লাহ ফারুক (খেঁজুরগাছ), ১০ দলীয় জোট প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আবুল হাসান (দেওয়াল ঘড়ি), বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ (ফুটবল) হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৮ হাজার ৭৪৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ২১ হাজার ৩৫৬ জন ও নারী ২ লাখ ৭ হাজার ৩৯০ জন। ১৫৮ কেন্দ্রে রয়েছে ৯১৪টি ভোটকক্ষ।

সিলেট-৬: (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা) এবং স্বতন্ত্রপ্রার্থী মো. ফখরুল ইসলাম (হেলিকপ্টার) মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ৯১ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৩৭ জন ও নারী ২ লাখ ৫২ হাজার ১৫৫ জন ১৯২ কেন্দ্রে ও ১০১৩টি কক্ষে ভোট হবে।

সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসন
সুনামগঞ্জ-১: ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জে বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুল (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর তোফায়েল আহমদের (দাঁড়িপাল্লা) লড়াই হবে। এ আসনে ৫ লাখ ১ হাজার ৫৩০ ভোটের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৭৯, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৪১ ও তৃতীয় লিঙ্গ ১০ জন।

সুনামগঞ্জ-২: দিরাই ও শাল্লা উপজেলা নিয়ে এলাকা গঠিত আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬ হাজার ৪৮টি। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৫২, নারী ভোটার ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৯ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার একজন।

সুনামগঞ্জ-২ আসনের দুই উপজেলায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১২টি, দুর্গম কেন্দ্র ৩০টি ও ঝুঁকিপূর্ণ ৩৭টি। এ আসনে নাছির-শিশির দুই হেভিওয়েটদের লড়াইয়ে বিএনপির নাছির উদ্দিন ধানের শীষ, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ শিশির মনির দাঁড়িপাল্লার লড়াই হবে।

সুনামগঞ্জ-৩: শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৩ আসন মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৩ লাখ ১৬। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৩, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬৭ ও তৃতীয় লিঙ্গ ৬ জন ভোটার রয়েছেন। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন (তালা) মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।

সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিয়ে সুনামগঞ্জ-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭২ হাজার ১৮৫জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫৯, নারী ভোটার ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১৩ ও তৃতীয় লিঙ্গ ১৩ জন। এ আসনে ৫ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন (মটর সাইকেল), জামায়াতে ইসলামীর মো. সামছ উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা)।

সুনামগঞ্জ-৫: ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৫৬। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭০ হাজার ৬২০, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৩৬ ও তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার দুইজন। এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন (ধানের শীষ), জামায়াতের আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম (দাঁড়িপাল্লা),।

হবিগঞ্জ-১: বাহুবল ও নবীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে  আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭৬, নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৪০ ও তৃতীয় লিঙ্গের ৫ জন। এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া (ঘোড়া) প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

হবিগঞ্জ-২: বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫৭ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৬২, নারী ভোটার ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯০জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটর ৪ জন। এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান (ধানের শীষ), খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুল বাছিত আজাদ (দেওয়াল ঘড়ি) মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।

হবিগঞ্জ-৩: সদর, লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ নিয়ে গঠিত এ আসনে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৭৩ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ২৯৮জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৬ হাজার ২৬২ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৩ জন। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ (ধানের শীষ)। জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমেদ (দাঁড়িপাল্লা) প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

হবিগঞ্জ-৪: চুনারুঘাট ও মাধবপুর নিয়ে গঠিত আসনটিতে ৫ লাখ ৫২ হাজার ৭১১জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৮ হাজার ৬৬০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৭৪ হাজার ৪৯ ও তৃতীয় লিঙ্গ দুইজন। এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ ফয়সল (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরী (বিদ্রোহী) (ঘোড়া) মূল প্রতিদ্বন্দ্বি।

মৌলভীবাজারের চারটি আসন
মৌলভীবাজার-১: (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে বিএনপির নাসির উদ্দিন আহমেদ, জামায়াতের মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বেলাল আহমেদের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস। এই আসনে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৮১৬ ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৮, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১৬ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন।

মৌলভীবাজার-২: (কুলাউড়া) আসনে বিএনপির মো. শওকতুল ইসলাম, জামায়াতের মো. সায়েদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী নওয়াব আলী আব্বাস খান ও ফজলুল হক খানের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩ হাজার ২০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৭ হাজার ১২৮, মহিলা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯২।

মৌলভীবাজার-৩: (সদর-রাজনগর) আসনে বিএনপির এম নাসের রহমান, ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিস প্রার্থী মাওলানা আহমদ বিলাল এবং জামায়াতের আব্দুল মান্নানের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ২১২। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৩১, মহিলা ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৪ জন।

মৌলভীবাজার-৪: (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে বিএনপির মুজিবুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা শেখ নুরে আলম হামিদীর মধ্যে ভোট যুদ্ধ। জোটের শরিক এনসিপির প্রীতম দাশ প্রার্থী থাকায় সমীকরণ আরও জটিল। আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৮৮। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৬ হাজার ১৯৭, মহিলা ২ লাখ ৪১ হাজার ৬৮৯ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন।



Our Like Page