বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে নিজ পেজ থেকে এক লাইভে তিনি এসব কথা বলেন। হাজার মানুষের জীবনের পরও সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে সামনে ঘোর অন্ধকার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সবাইকে সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে আসার অনুরোধ জানিয়ে নাহিদ বলেন, সকালে কয়েকটা বিষয় হতে পারে।
তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত, হতে পারে কোনো কোনো কেন্দ্রে বা বিভিন্ন জায়গায় হয়তো একটা ককটেল বিস্ফোরণ অথবা এরকম কিছু করে একটা আতঙ্ক তৈরি করা, যাতে মানুষজন না আসে।
নাহিদ বলেন, আমি গণমাধ্যমের ভাই-বোনদের বলব, বিশেষত হাউজের যারা দায়িত্বে রয়েছেন, আপনাদের উচিত নিরপেক্ষভাবে প্রচার করা, দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা। বিগত ১৬ বছর আপনাদের ভূমিকা কী ছিল এটা বাংলাদেশের জনগণ দেখেছে। গণঅভ্যুত্থান পরে হয়তো ব্যাপকভাবে সংস্কার হয়নি বা তার মানে এই না আপনারা ছাড়া পেয়ে গিয়েছেন। এইবার নির্বাচনে আপনাদের ভূমিকা কী হবে, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, প্রশাসনের ভাই-বোনদের বলব—আমরা সামনের দিকে আগাতে চাই। বিগত ১৬ বছর তিনটা ভোটে আপনাদের ভূমিকা কী ছিল, এটা বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে। যারা এটার সাথে জড়িত ছিল তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিয়েছে। ফলে এবারের নির্বাচনেও আমরা আশা করব আপনারা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। নাইলে জাতির কাছে আপনারা কখনোই দাঁড়াতে পারবেন না।
পুলিশকে উদ্দেশ্য করে নাহিদ বলেন, এই নির্বাচন শুধু নির্বাচন না, আপনাদের জন্য নিজেদের রিব্র্যান্ডিং করার একটা সুযোগ। আপনারা যে জনগণের পক্ষে আছেন, সেটাকে প্রমাণ করার।
তিনি বলেন, সর্বোপরি সেনাবাহিনীর ভূমিকার উপরই অনেকখানি নির্ভর করবে, এই নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হচ্ছে বা হবে। আমাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আপনাদের অনস্বীকার্য ভূমিকার কথা আমরা জানি। বিশেষত সৈনিকেরা, তরুণ অফিসার যারা ছিলেন। ৩ আগস্ট আপনারা যেভাবে জোরালো ভূমিকা নিয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে, গুলি না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৫ আগস্ট যেভাবে আপনারা জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আমরা আশা করব, আপনারা এই ১২ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচনে আপনারা সেই দৃঢ় ভূমিকায় আপনারা থাকবেন।
নাহিদ বলেন, ২০১৮ সালে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও আমি ভোট দিতে পারিনি। কেন্দ্রে যাওয়ার পর আমাকে প্রবেশ করতে দেয়নি।
তিনি বলেন, ফলাফল নিজের পক্ষে গেলেই নির্বাচন সুষ্ঠু, নিজের পক্ষে না গেলে নির্বাচন সুষ্ঠু না—আমরা এরকম কোনো মেন্টালিটি নিয়ে নাই। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার অনেকগুলা ক্রাইটেরিয়া আছে। এই নির্বাচনে প্রচুর পর্যবেক্ষক রয়েছে। এই নির্বাচন একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে হচ্ছে। প্রচুর আন্তর্জাতিক মিডিয়া রয়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়াও তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে অনেক কিছু বোঝা যায়। ফলে সুষ্ঠু নির্বাচন হলো কি হলো না, এটা আপনারাই নির্ধারণ করতে পারবেন, আপনারাই বলতে পারবেন। সুষ্ঠু নির্বাচন যদি না হয়, এর পরিণতি ভালো হবে না।