Breaking News

আসছে নতুন তিন জাতের পাট

বাংলাদেশের সোনালি স্বপ্ন হিসেবে পাটের বিকাশে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই)। পরিবেশবান্ধব পাটের চাষাবাদ লাভজনক করা এবং আবাদ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে এ পর্যন্ত পাট ও পাট জাতীয় ফসলের ৪৯টি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বছর পাটের নতুন চারটি জাত উদ্ভাবন করেছিল বিজেআরআই। সম্প্রতি আরও নতুন তিন জাতের পাট আসছে প্রতিষ্ঠানটি থেকে।

গত বছর উদ্ভাবিত নতুন চারটি জাত হচ্ছে কেনাফ জাতের কেই-৩, তোষা জাতের এমজি-১, দেশি পাটের বিজেসি-৫০০৩ এবং মেস্তা পাটের বিজেআরআই এম-৩। উদ্ভাবিত ৪৯টি উচ্চ ফলনশীল পাটের জাতের মধ্যে দেশি পাট ২৫টি, তোষা পাট ১৭টি, কেনাফ ৪টি ও মেস্তা ৩টি। উক্ত ৪৯টি জাতের মধ্যে বর্তমানে দেশি পাটের ৯টি, তোষা পাটের ৭টি, কেনাফের ৩টি এবং মেস্তার ২টি জাতসহ মোট ২১টি জাত কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদ হচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সাত্তার ম-ল বলেন, একমাত্র বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরাই পাটের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। কিন্তু এর অর্ধেক জাতের চাষ হচ্ছে। যার ফলে পুরোপুরি সক্ষমতা এখনো পাচ্ছি না আমরা।

উল্লেখ্য, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড পরিমাণ সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ১৭ লাখ হেক্টর জমিতে পাট, কেনাফ ও মেস্তা আবাদ করে প্রায় ৯২ লাখ বেল আঁশ উৎপাদিত হয়েছে। আর চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছর ৮ দশমিক ১৮ লাখ হেক্টর জমিতে পাট, কেনাফ ও মেস্তা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশে পাটের উৎপাদন হয়েছিল ৫০ লাখ বেল। পরের কয়েক বছর উৎপাদন ওঠানামা করে ২০১১-১২ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৭৮ লাখ ৫ হাজার বেল পাট উৎপাদন হয়েছিল। এরপর থেকে পাটের উৎপাদন কমতে থাকে। ২০১৩ সালের পর নতুন চারটি পাটের জাত উদ্ভাবন করা হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে উৎপাদন হয় প্রায় ৬৮ লাখ বেল। পরের বছর অর্থাৎ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে উৎপাদন হয় ৭৫ লাখ বেল। এরপর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৮৫ লাখ বেল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও উৎপাদন হয়েছে ৭৫ লাখ বেল।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পাট, বিশেষ করে কেনাফ ও মেস্তা জার্মপ্লাজম সংগ্রহ এবং তা মূল্যায়ন করে উত্তরোত্তর পাট এবং এ জাতীয় আঁশের ফসলের উন্নয়নে প্রচেষ্টা চলছে। এর ফলে প্রতিকূল অবস্থা সত্ত্বেও গড়ে উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

বিজেআরআইয়ের পরিচালক (কৃষি) চন্দন কুমার সাহা বলেন, পাটের জাত উদ্ভাবন একটি দীর্ঘ চলমান প্রক্রিয়া। অনেক সময় ১০ থেকে ১২ বছর পর্যবেক্ষণের পর এই জাত উদ্ভাবন হয়। তবে আশা করছি সম্প্রতি নতুন ৩ জাতের পাট উৎপাদন করতে পারব আমরা।

পাটজাত দ্রব্যেরও ভিন্নতা এসেছে। বস্ত্র শিল্পগুলো পরিধেয় বস্ত্রসহ গুরুত্বপুর্ণ ফেব্রিকস তৈরিতে প্রধান উপাদান হিসেবে তুলাকে গ্রহণ করলেও অন্যান্য গার্হস্থ্য ব্যবহারে বিকল্প প্রাকৃতিক আঁশ হিসেবে এবং টেক্সটাইল আঁশ হিসেবে পাটকে গণ্য করার প্রচেষ্টা শুরু হয়। এখন কটন প্রসেসিং সিস্টেমে পাটকে ব্যবহার করার জন্য লম্বা পাটকে ৩-৪ সেন্টিমিটার বা দেড়/দুই ইঞ্চি দীর্ঘ টুকরায় পরিণত করে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাটকে তুলার কাছাকাছি গুণসম্পন্ন করা হয়। এরপর বিভিন্ন ধাপে প্রক্রিয়াজাতের পর পাটকে তুলার সঙ্গে বিভিন্ন অনুপাতে সংমিশ্রিত করে যে সুতা তৈরি করা হয়, তাকে কটন কাউন্ট হিসেবে পরিমাপ করা হয়। জুট অ্যান্ড টেক্সটাইল প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে (জেটিপিডিসি) এ পর্যন্ত কটন কাউন্টের ১০, ১২, ১৫, ১৬, ২০, ২২ কাউন্ট পর্যন্ত মিহি সুতা উদ্ভাবন ও উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। বিজেআরআইয়ের কারিগরি শাখা কর্তৃক উদ্ভাবিত প্রযুক্তি হস্তান্তর ও উদ্ভাবিত পণ্য দ্রব্যাদি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন ও বাজারজাত করার লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রায় ৩০০টি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes