Monday , 20 November 2017
Breaking News

বাংলাদেশে হচ্ছে মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক

বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমভিএনও) লাইসেন্স দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

সেবাটি পরিচালনায় লাইসেন্স দিতে নীতিমালা তৈরি করছে সংস্থাটি। এরই মধ্যে লাইসেন্সিং নীতিমালা তৈরিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিজস্ব নেটওয়ার্ক স্থাপন না করেই টেলিযোগাযোগ সেবা দিতে পারে এমভিএনও লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান। এ ক্ষেত্রে এক বা একাধিক সেলফোন অপারেটরের কাছ থেকে পাইকারি মূল্যে বিভিন্ন সেবা কিনে তা নিজস্ব বিপণন ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে এমভিএনও। লাইসেন্সের ধরন অনুযায়ী ভয়েস ও ডাটাভিত্তিক সব ধরনের সেবাদানের সুযোগ পেয়ে থাকে তারা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সেবা নেয়ার কারণে এমভিএনওর মাধ্যমে গ্রাহকও প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্পন্ন সেবা পেতে পারেন।

জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশে পরীক্ষামূলকভাবে এমভিএনও লাইসেন্স দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি। এর পরিপ্রেক্ষিতে লাইসেন্সিং নীতিমালা তৈরির জন্য গত মাসের মাঝামাঝি ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে নীতিমালার খসড়া তৈরি করবে কমিটি। বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যানকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নীতিমালার খসড়া জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, দেশে পরীক্ষামূলকভাবে এমভিএনও সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ জন্য নীতিমালা তৈরি হচ্ছে। এটি চূড়ান্ত হলে পরীক্ষামূলকভাবে সেবাদানের অনুমতি দেয়া হবে। টেলিযোগাযোগ সেবার মানোন্নয়নে এমভিএনও ভূমিকা রাখতে পারে। সেবা ও ব্যবস্থাপনার ভিত্তিতে বিশ্বে চার ধরনের এমভিএনও কার্যক্রম চালু রয়েছে। এগুলো হল ব্র্যান্ডেড রিসেলার বা স্কিনি এমভিএনও, সার্ভিস প্রোভাইডার বা লাইট এমভিএনও, এনহ্যান্সড সার্ভিস প্রোভাইডার বা থিক এমভিএনও এবং সম্পূর্ণ এমভিএনও সেবা। ব্র্যান্ডেড রিসেলারগুলো মূল নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। এ ধরনের এমভিএনও মূল প্রতিষ্ঠানের সেবাই নিজেদের বিপণন ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছে দেয়। ব্র্যান্ডেড রিসেলার শুধু নিজস্ব গ্রাহক সেবা, বিপণন ও বিক্রয় কার্যক্রমে বিনিয়োগ করে থাকে। সার্ভিস প্রোভাইডার বা লাইট এমভিএনও নিজস্ব গ্রাহক সেবা, বিপণন ও বিক্রির কার্যক্রমে বিনিয়োগ ছাড়াও নিজেরাই সেবার ট্যারিফ নির্ধারণ করতে পারে।

এ ছাড়া থিক এমভিএনওর নিজস্ব অবকাঠামো থাকে, যার মাধ্যমে নিজের দেয়া সেবাগুলো নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পায় এটি। ফলে এ ধরনের এমভিএনওর কারিগরি সক্ষমতা অন্য দুটির চেয়ে বেশি। মূলত ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে নিজস্ব গ্রাহক সংগ্রহ করে এই এমভিএনও। ডাটা ও সিমভিত্তিক বিভিন্ন সেবায় নিজস্বতাও রয়েছে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের। আর নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা দিয়ে থাকে সম্পূর্ণ এমভিএনও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। শুধু নিজস্ব তারবিহীন (রেডিও) নেটওয়ার্ক থাকে এ ধরনের এমভিএনওর।

প্রসঙ্গত, প্রতিবেশী দেশ ভারতেও চালু রয়েছে এমভিএনও সেবা। গত বছরের মে মাসে ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর লাইসেন্সের ঘোষণা দেয় ভারতের টেলিযোগাযোগ বিভাগ। আর চলতি বছরের এপ্রিলে দেশটির প্রথম ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেছে অ্যারোভয়েস। ভারতে ডাটা ও ভয়েসভিত্তিক সব ধরনের সেবা দিতে এমভিএনওর এন্ট্রি ফি নির্ধারিত সাড়ে ৭ কোটি রুপি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম ১০ কোটি ডলারের সম্পদ থাকার বাধ্যবাধকতা দেয়া রয়েছে এমভিএনও নীতিমালায়।

অপারেটরগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, এমনিতেই দেশের মোবাইল সেবার বাজারে নানা ধরনের জটিলতা রয়েছে। নতুন এ সেবা চালু করা হলে জটিলতা আরও বাড়বে। এ কারণে তারা এখনই এমভিএনও চালুর পক্ষে নন। এদিকে সরকারের নীতিনির্ধারকদের নির্দেশনা পেয়ে নীতিমালা তৈরির জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা অন্য দেশের সেবা এবং লাইসেন্সিংয়ের শর্তগুলো পর্যালোচনা করে সে অনুসারে একটি খসড়া তৈরি করবে। তবে এ জন্য কিছুটা সময় লাগবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা। এমভিএনও সেবার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা অপারেটরগুলোকে নেটওয়ার্ক শেয়ারিংয়ের ওপরও জোর দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes