‘ভাষা আন্দোলন নিয়ে সিনেমায় পূর্ণাঙ্গ কাজ হয়নি’

0
21

তৌকীর আহমেদ

তারকা অভিনেতা ও নির্মাতা। সম্প্রতি প্রকাশ হয়েছে তার নতুন ছবি ‘ফাগুন হাওয়ায়’-এর পোস্টার। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে নির্মিত এ ছবি ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথায় হয় তার সঙ্গে-

চলচ্চিত্র নির্মাণে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনকে বেছে নেওয়ার কারণ কী?

বায়ান্নর একুশ ফেব্রুয়ারিতেই একাত্তরের সূচনা হয়েছিল। এ কারণেই আমাদের জাতীয় জীবনে একুশে ফেব্রুয়ারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বায়ান্নতেই আমরা বুঝে গিয়েছিলাম, পাকিস্তানিদের কাছে আমাদের ভবিষ্যৎ নেই। তাই স্বাধিকার নিয়ে আন্দোলনে নেমেছি। মায়ের মুখের ভাষা কেড়ে নিয়ে অন্য ভাষাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থই ছিল দাসত্বের শিকলে বেঁধে রাখা। তা মানতে পারিনি বলেই আমরা আন্দোলনে নেমেছিলাম। যার ধারাবাহিকতায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম। এই যে এত বড় ঘটনা- এটা কেন সিনেমায় উঠে আসবে না? এই প্রশ্নই বহুবার নিজেকে করেছি। এরপরই সিদ্ধান্ত নিয়েছি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলেনের পটভূমিতে সিনেমা নির্মাণ করার।

গত কয়েক দশকে বেশ কিছু ছবিতে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ঘটনা উঠে এসেছে…

এটা ঠিক যে, এর আগেও বেশ কিছু ছবিতে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ঘটনা স্থান পেয়েছে। কিন্তু সেটা ছবির গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভাষা আন্দোলনের ঘটনাটি তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু এটাও সত্যি যে, এখনও ভাষা আন্দোলন নিয়ে সিনেমায় পূর্ণাঙ্গ কাজ হয়নি। অনেক আগেই এটা হওয়া উচিত ছিল। কারণ আমাদের জাতিসত্তার মূলই হচ্ছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন।

তৌকীর আহমেদ

৫২র ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ঘটনাকে ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ছবিতে কতটা তুলে ধরতে পেরেছেন বলে আপনি মনে করেন?

ভাষা আন্দোলনের পুরো ইতিহাসকে একটি ছবির ফ্রেমে বন্দি করা সম্ভব নয়। যে জন্য ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ছবিতে আমরা একটি মফস্বলের সেই সময়ের মানুষের ভাবনা, আন্দোলন, চেতনাকে রূপক অর্থে তুলে ধরেছি, যা ঢাকা শহরের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি ছবির মাধ্যমে যতটা স্পষ্ট করে ঐতিহাসিক এই ঘটনা তুলে ধরা যায়, সেটাই করে দেখানোর চেষ্টা করেছি। শুধু আমি নই, ছবির অভিনয়শিল্পী থেকে শুরু করে কলাকুশলীরা সবাই যার যার সেরা কাজটা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। যে জন্য ‘ফাগুন হাওয়ায়’-এর মতো ছবি নির্মাণ করতে পেরে আমি ভীষণ খুশি।

ছবি মুক্তির তারিখ কি চূড়ান্ত হয়েছে?

হ্যাঁ,  আপাতত মুক্তির তারিখ চূড়ান্ত।  আগামী বছর ৮ ফেব্রুয়ারি ‘ফাগুন হাওয়ায়’ মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভাষা দিবসের মাসেই আমরা ভাষা দিবসের ছবিটি মুক্তি দিতে চাই।

মুক্তির আগে ও পরে বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি প্রদর্শনের পরিকল্পনা আছে?

আগের ছবিগুলোর মতো দেশের বাইরে বিভিন্ন উৎসবে যাওয়ার ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ছবিটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। বড় কথা হলো, আমরা যেসব উৎসবে অংশ নিই, সেখানে আমরা জাতীয় পতাকাই বহন করি। ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ছবির ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। এ ছবি শুধু ইতিহাসকে জানাবে না, একই সঙ্গে বিনোদনও দেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here