ম্যার্কেল যুগ শেষ হচ্ছে

0
18

জার্মানির অবিসংবাদী রাজনীতিক আঙ্গেলা ম্যার্কেল ক্ষমতাসীন দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) সভাপতির পদ ছেড়ে দিলেন। অবশ্য ইতিহাস গড়া এই রাজনীতিক এবং জার্মানিতে টানা চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত চ্যান্সেলর রাষ্ট্রীয় পদে বহাল থাকবেন ১৯২১ সাল পর্যন্ত। দলের নতুন প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আনেগ্রেট খাম কারেনবাওয়া।

গতকাল শুক্রবার হামবুর্গ শহরে সিডিইউর বিশেষ সম্মেলনে ৯৯৯ ভোটের মধ্যে কারেনবাওয়া পান ৫১৭ জনের সমর্থন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কোটিপতি আইনজীবী ফ্রেডিরিক মেয়েচ। তিনি পান ৪৮২ ভোট। জার্মানির জনপ্রিয় এই রাজনৈতিক দলের প্রধান নির্বাচিত হওয়ায় কারেনবাওয়াকে পরবর্তী চ্যান্সেলর মনে করা হচ্ছে। বিদায়ী বক্তব্যে ম্যার্কেল কারেনবাওয়ার উচ্চ প্রশংসা করেন।

১৯৫৪ সালে হামবুর্গে জন্মগ্রহণকারী আঙ্গেলা ডরোথিয়া ম্যার্কেল জন্মের পরপরই তাঁর সমাজতান্ত্রিক ধারণায় বিশ্বাসী ধর্মযাজক বাবার সঙ্গে পশ্চিম থেকে পূর্ব জার্মানিতে চলে যান। ১৯৮৯ সালের শেষের দিকে যখন পূর্ব জার্মানির বহু বছরের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা হচ্ছিল, তখন সেখানে গণতান্ত্রিক জোটের মুখপাত্র হয়েছিলেন ম্যার্কেল।

১৯৯০ সালে পূর্ব জার্মানির সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী প্রধানমন্ত্রী লোথার ডে মেসায়ারের সরকারের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পদার্থবিদ্যার কৃতী শিক্ষার্থী ম্যার্কেল ওই বছরই সাবেক চ্যান্সেলর হেলমুট কোলের হাত ধরে ঐক্যবদ্ধ জার্মানির রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

চ্যান্সেলর কোলের মন্ত্রিসভায় ১৯৯১ সালে পরিবারবিষয়ক এবং ১৯৯৪ সালে পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৯৮ সালে ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক হন। ২০০০ সাল থেকে দলের সভানেত্রী। রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন পার্টিতে অনেক ঝানু রাজনীতিক থাকলেও ম্যার্কেল প্রতিভা আর কৌশলের জোরে সবাইকে পাশ কাটিয়ে দেশের রাজনীতিতে নিজ অবস্থান গড়ে নেন।

গত ১৮ বছরে ম্যার্কেলের নেতৃত্বে জার্মানির রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টিকে রক্ষণশীলতার চৌহদ্দি থেকে বের করে অনেকটা উদারনৈতিক রাজনীতির ধারায় চালিত করেন।

২০১৭ সালে জার্মানির জাতীয় নির্বাচনে এবং পরবর্তী সময়ে রাজ্য পার্লামেন্টগুলোর নির্বাচনে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি আগের চেয়ে অনেক কম ভোট পায়। এরপরই গত অক্টোবরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে শক্তিশালী এই নেতা দলের প্রধান হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, নবনির্বাচিত দলীয় সভাপতি অনেক ক্ষেত্রেই আঙ্গেলা ম্যার্কেলের উদারনৈতিক রাজনীতিকে আরও এগিয়ে নেবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here