জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের ঠাঁই এদেশে হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সুন্দরবনের আত্মসমর্পণকারী ২৭ দস্যুদের রাতে তাদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অস্ত্রসহ দস্যুদের আদালতের মাধ্যমে বাগেরহাট কারাগারে পাঠানো হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর আমলে দস্যু, জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের ঠাঁই এদেশে হবে না। যারা (যুব সমাজ) দেশের নেতৃত্ব দেবে তাদের ধ্বংস করছে মাদক। আমরা এটা কখনও হতে দেব না। আপনারা যারা দেশে মাদক ব্যবসা করছেন তারা যদি ভালো না হন, খুব শিগগিরই আপনাদের কি পরিণতি হয় তা দেখতে পারবেন।রোববার (০১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে শহরের স্বাধীনতা উদ্যানে সুন্দরবনের তিনটি দস্যু বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

দস্যুদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনারা যারা আত্মসমর্পণ করেছেন তাদের আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করবো। আপনাদের নামে যেসব মামলা আছে, জেলা প্রশাসকরা সেসব মামলা সহজে মীমাংসার ব্যবস্থা করবেন। তবে হত্যা ও ধর্ষণের মতো অপরাধের জন্য আপনাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে ২৮টি দেশি-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র ও ১ হাজার ৮১ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পন করেছে সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু বা জলদস্যু ডন, ছোট জাহাঙ্গীর ও ছোট সুমন বাহিনীর ২৭ সদস্য।

রবিবার বিকালে শহরের স্বাধীনতা উদ্যানে এ আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় বনদস্যু ডন বাহিনীর ১০, ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৯ ও ছোট সুমন বাহিনীর ৮ জন সদস্য আত্মসমর্পন করে। এর আগে র‌্যাব-৬ এর কমান্ডিং অফিসার খোন্দকার রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এসময় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন, বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. মীর শওকাত আলী বাদশা, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হ্যাপি বড়াল, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি হাবিবুর রহমান, র‌্যাব-৮ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) কমান্ডার হাসান ইমন আল রাজিব, বিজিবি খুলনা রেঞ্জের প্রধান ব্রিগেডিয়ার খালেক আল মামুন, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ^াস, পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বাংলাদেশের ভূখন্ডে কোন জঙ্গী- কোন বনদস্যু-কোন জলদস্যুর ঠাই হবে না- তাদের সমূলে উপড়ে ফেলা হবে। পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাসকারীদের বিরুদ্ধে হুসিয়ারী উচ্চারন করে বলেন, যেই প্রশ্নপত্র ফাস করবেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিব। এবারই প্রথম একাজে র‌্যাব নিয়োজিত থাকবে। বনসদ্যুদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা সুন্দরবনে কাউকে দস্যুতা করতে দেবনা। শুধু সুন্দরবনই নয় গোটা বাংলাদেশের কোথাও কোন দস্যুতা করতে দেয়া হবে না। এষনও যারা সুন্দরবনে দস্যুতা তথা বিপথগামী রয়েছেন তাদেরকে দস্যুতা ছেড়ে আসার আহবান জানান মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, মাদক আমাদের যুব সমাজকে ধংষ করে দিচ্ছে। যারা এই কাজের সাথে যুক্ত তাদের তালিকা আমাদের হাতে রয়েছে। সমাজে যারা এই কাজের সাথে জড়িত তারা যদি এই কাজ বন্দ না করেন তবে তাদের পরিনাম কি তা অচিরেই দেখতে পাবেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ২০ টি বাহিনীর ২১৭ জন সদস্য এ পর্যন্ত আত্মসর্মাপন করেছে। ৫৪৫জন বনদস্যুকে গ্রেফতার করা হয়েছে এছাড়া ১৩০ জন বনদস্যু বিভিন্ন সময়ে বন্দুকযুদ্ধে বা গোলাগুলিতে নিহত হয়েছে। মোটকথা সুন্দরবন থেকে ৮৯২ জন বনদস্যুকে আমরা তুলে আসতে সক্ষম হয়েছি। এই কৃত্বিত্ব শুধু আমাদের নয় –এই কৃতিত্ব এই এলাকার জেলো বাওয়ালীদেরও। সুন্দরবনের বনদস্যুদের সমস্যা ৪০ বছরের। আমরা চাই খুব শ্রীঘই সুন্দরবনকে সম্পুর্ন ভাবে শক্রমুক্ত করতে।

আত্মসমর্পন করা জলদস্যুদের মধ্যে রয়েছে, বনদস্যু ডন বাহিনীর প্রধান মোঃ মেহেদী হাসান (৩২), জয়দেব মন্ডল (৩৫), মোঃ খলিলুর রহমান (৪৫), মোঃ সাইফুল্লা (২৯), মোঃ আবুল হোসেন ইসলাম, মোঃ আজিজুর ইসলাম, শ্রী জয়ন্ত বিশ^াস, মোঃ শাহজাহান, মোঃ আব্দুর রহমান শেখ, মোঃ মাহমুদুল হাসান। এদের সকলের বাড়ী খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায়। বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৩৭), মোঃ কবির সুলতান (৫৫), মোঃ মনিরুল শেখ (৩৩), মোঃ শহিদুল শেখ (৩২), মোঃ আব্দুস সালাম (৪৩), শেখ আল মামুন সোহেল রানা (২৯), মোঃ সেলিম মোল্লা (২৮), মোঃ ইদ্রিস ডালি (২৮) ও মোঃ মিঠু সরদার (৪০)। এদের সকলের বাড়ী খুলনা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান মোঃ সুমন হাওলাদার (২৪), মোঃ লুৎফর শেখ (৪০), মোঃ ভুট্টো বয়াতি (২৮), মোঃ আঃ সামাদ মোল্লা (২৬), মোঃ রিয়াজ শেখ (২৮), মোঃ ইয়াসিন শেখ (২৯) মোঃ তরিকুল হাওলাদার (২৩) ও মোঃ সিদ্দিক হাওলাদার (৩৯)। এদের সকলের বাড়ী বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায়। জমা দেয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে, ১৩ বিদেশী একনালা বন্দুক, ৩টি বিদেশী দোনালা বন্দুক, ৪টি .২২ বোর বিদেশী রাইফেল, ৭টি পাইপগান ও ১টি বিদেশী ওয়ানশুটারগান।

এর নিয়ে গত ২২ মাসে র‌্যাব-৮ এর মাধ্যমে সুন্দরবনের ২০ বনদস্যু বা জলদস্যু বাহিনীর ২শ ১৭ সদস্য আত্মসমর্পন করলো। এসময় তারা দেশি-বিদেশী ৩৪৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৭,৮৬৯ রাউন্ড বিভিন্ন প্রকার গোলাবারুদ জমা দেয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes