আবারও তেজস্ক্রিয় পদার্থ শনাক্ত!

0
14

.চট্টগ্রাম বন্দর
.তিন ধাপে পরীক্ষা করে লোহার পণ্যে তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি নিশ্চিত হন বিজ্ঞানীরা।
.চট্টগ্রাম বন্দরে এ পণ্য এনেছে কেএসআরএম গ্রুপ।
.লোহার মধ্যে পাওয়া তেজস্ক্রিয় মৌলটি হলো ‘সিজিয়াম ১৩৭’
.সর্বোচ্চ মাত্রা পাওয়া গেছে প্রতি ঘণ্টায় ১ দশমিক ২৩ মাইক্রোসিভার্ট

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া পুরোনো লোহার পণ্যে আবারও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয় পদার্থ পাওয়া গেছে। এই পুরোনো লোহা আনা হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলি থেকে। চট্টগ্রামের কেএসআরএম গ্রুপ এই লোহা আমদানি করেছে।তিন ধাপে পরীক্ষা করে কনটেইনারের ভেতরে তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

পরীক্ষা ও জরিপে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কনটেইনারে লোহার মধ্যে পাওয়া তেজস্ক্রিয় মৌলটি হলো ‘সিজিয়াম ১৩৭’। শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হওয়া তেজস্ক্রিয় পদার্থ এটি। কনটেইনারের বাইরে থেকে পরীক্ষা করে এটির সর্বোচ্চ মাত্রা পাওয়া গেছে প্রতি ঘণ্টায় ১ দশমিক ২৩ মাইক্রোসিভার্ট (তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের একক)। তেজস্ক্রিয় পদার্থটি কনটেইনার থেকে বের করা হয়নি। ফলে এটির প্রকৃত মাত্রা নিরূপণ করা যায়নি।

শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত তেজস্ক্রিয় পদার্থ হলো দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতিকর পদার্থ। এটি সরাসরি মানুষের সংস্পর্শে এলে বা গলিয়ে কোনো পণ্য প্রস্তুত করে ব্যবহার করা হলে মানবস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতো বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুরের ভ্যালেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এই পুরোনো লোহার টুকরা আমদানি করে চট্টগ্রামের কেএসআরএম গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান কেএসআরএম বিলেট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। তবে সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠানটি এই পুরোনো লোহা এনেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলি থেকে। গত ২০ সেপ্টেম্বর চালানটি খালাস নেওয়ার সময় বন্দরের সিপিআর ফটকে মেগাপোর্ট ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের ‘রেডিয়েশন পোর্টাল মনিটর’ স্থাপনায় সংকেত বেজে ওঠে। এরপরই কনটেইনারটি আটক করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। একই চালানে আরও নয়টি কনটেইনার থাকলেও সেগুলোতে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ পাওয়া যায়নি। কনটেইনারটি আটকের পর দ্বিতীয় ধাপে এটি পরীক্ষা করা হয়। ১০ নভেম্বর কনটেইনারটিতে তৃতীয় ধাপে জরিপ চালানো হয়। পরমাণু শক্তি কমিশনের ছয় সদস্যের একটি পরিদর্শক দল জরিপ করে কনটেইনারের ভেতর তেজস্ক্রিয় পদার্থের স্থানটি চিহ্নিত করে।

জানতে চাইলে পরিদর্শক দলের প্রধান বিজ্ঞানী খন্দকার আসাদুজ্জামান বলেন, তেজস্ক্রিয় পরিমাপের যন্ত্র জরিপ মিটার, কন্টামিনেশন মনিটরসহ কয়েকটি যন্ত্রের মাধ্যমে কনটেইনারের বাইরে থেকে এই জরিপ করা হয়। কনটেইনারের যে জায়গায় তেজস্ক্রিয় পদার্থ আছে, তা চিহ্নিত করার পর সেখানে স্টিকার সেঁটে দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শক দলের নেতৃত্ব দেওয়া খন্দকার আসাদুজ্জামান সাভারের ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির হেলথ ফিজিকস অ্যান্ড রেডিওঅ্যাকটিভ ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। জরিপের সময় তাঁর সঙ্গে পরমাণু শক্তি কমিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ কে এম সাইফুল ইসলাম ভূঞাসহ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ইতিমধ্যে পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিশ্চিত হওয়ার পর এই কনটেইনারের গন্তব্য কী, জানতে চাইলে চট্টগ্রামে কাস্টমসের সহকারী কমিশনার (মেগাপোর্ট ইনিশিয়েটিভ) মো. মিজানুর রহমান বলেন, তৃতীয় ধাপের জরিপ করা হলেও জরিপের ফল এখনো হাতে পাওয়া যায়নি। ফলাফল পাওয়ার পর আমদানি পণ্যের চালানটি কি পুনঃ রপ্তানি হবে, না দূষণমুক্ত করা হবে, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেএসআরএম গ্রুপের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁরা এই কাঁচামাল কোনোভাবেই গ্রহণ করবেন না। কারণ, রপ্তানিকারক তেজস্ক্রিয়তামুক্ত পণ্য সরবরাহের অঙ্গীকার করেছেন।

প্রথম তেজস্ক্রিয় পদার্থ পাওয়া যায় ২০১৪ সালে

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি হওয়া কনটেইনারে প্রথম তেজস্ক্রিয় পদার্থ শনাক্ত হয় ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল।  এরপর ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট চীনে রপ্তানি হওয়ার সময় জিংক অক্সাইডের একটি চালানে তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here