এতিমের টাকা যিনি মেরে খান তার জন্য কিসের আন্দোলন : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে টাকা আনা হয়। এর একটি টাকাও এতিমদের দেয়া হয়নি। নিজেরা মেরে খেয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার এই অর্থ আত্মসাতের মামলা দেয়। মামলায় আদালত সাজা দিয়েছে। এখন আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। যে এতিমের টাকা চুরি করে তার জন্য কিসের আন্দোলন?

বিএনপি নেত্রীকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, তারা তো দুর্নীতি ও লুটপাটেই ব্যস্ত। ৯৮০ কোটি টাকা তার ছেলেরা ব্যাংক থেকে লুট করে নিয়ে গেছে। এর এক টাকাও ফেরত দেয়নি।

বৃহস্পতিবার অপরাহ্নে ঠাকুরগাঁও জেলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জনসভার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠাকুরগাঁওয়ে ৩০ প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৩৩টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করেন। পরে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।

কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে নৌকায় ভোট দেয়ার দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য নৌকায় ভোট দিন, আমরা সোনার বাংলা উপহার দেবো। এ সময় তিনি বলেন, আপনারা ওয়াদা করেন, হাত তুলে ওয়াদা করেন নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন। তখন উপস্থিত লাখো জনতা হাত তুলে স্লোগান দিয়ে নৌকায় দেয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। আমাদের দায়িত্ব স্বাধীনতার সুফল প্রত্যেক ঘরে পৌঁছে দেয়া। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের জীবনকে সুন্দরভাবে আমরা গড়ে তুলতে চাই। আমরা যেহেতু ২০০৮-এর সরকারের এসেছি, ২০১৪তে পুনরায় সরকারে এসেছি- সরকারের ধারবাহিকতা রয়েছে বলেই আজকে উন্নয়নের ছোঁয়া প্রতিটি এলাকায়- গ্রামে গ্রামে যাচ্ছে। এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য নৌকা মার্কায় আমি আপনাদের কাছে ভোট চাই। কারণ, নৌকা মার্কাই দেবে উন্নতি, নৌকা মার্কাই দেবে আপনাদের শান্তি, নৌকা মার্কাই করবে আপনাদের জীবনমান উন্নত।’

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। আমরা জনগণের সেবক। জনগণের জন্য কাজ করতে এসেছি। জনগণকে দিতে এসেছি। দেশকে উন্নয়ন করা, দেশের ভাগ্য উন্নয়ন করা এটাই আমাদের কাজ। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা মানুষ শান্তিতে খেয়ে-পড়ে বসবাস করবে সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আর তারা (বিএনপি) ক্ষমতায় থাকতে পাঁচবার বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কেন হয়েছিল? তারা তো পুরো দেশটাকেই ধ্বংস করে দিয়েছিল। খালেদা জিয়া ও তার ছেলেরা অর্থসম্পদ লুটপাট করে পাচার করেন। আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সেই তথ্য বের করেছে, সিঙ্গাপুরে সেটা ধরা পড়েছে। আমরা সেই টাকা ফেরত পর্যন্ত এনেছি। সেই টাকা এখন জনগণের কাজে লাগাচ্ছি।

তিনি বলেন, তারা ধ্বংস করতে পারে, সৃষ্টি করতে পারে না। এরা মানুষেরটা লুটপাট করে খেতে জানে, মানুষকে দিতে জানে না।

প্রধানমন্ত্রী তার ৩৮ মিনিটের বক্তৃতায় আরো বলেন, ‘বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সারা দিন কথা বলেন। দিন-রাত মিথ্যা কথা বলতে বলতে তার গলা ব্যথা হয়ে যায়। কিন্তু মিথ্যা বলারও একটা সীমা আছে। এত মিথ্যা বললে আল্লাহও নারাজ হয়।’

তিনি বলেন, ‘তিনি (মির্জা ফখরুল) তো এক সময় বিমান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু বিমানের কী উন্নয়ন করেছিলেন? আমরা ক্ষমতায় এসে দেখলাম বিমান চলে না। সব টাকা পয়সা লুটপাট করে নেয়া হয়েছে, বিমানকে ধ্বংস করে রেখে গেছে। বিমানের প্লেন ঝরঝরে। রাডার নষ্ট। এখান থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে সৈয়দপুর বিমানবন্দর। সেই বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এখানকার বিমান প্রতিমন্ত্রী, অথচ এখানকার এয়ারপোর্টই বন্ধ করে দেন। কিন্তু আমরা ইতিমধ্যে এই বিমানবন্দর চালু করে দিয়েছি। এখান থেকে এখন সব মানুষ আকাশ পথে যাতায়াত করতে পারছে। তারা রাজশাহী, বরিশাল বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছিল, আমরা তাও চালু করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই দেশ এগিয়ে যাক, উন্নত হোক। বিশ্বসভায় বাংলাদেশ মর্যাদার আসনে চলুক সেটাই আমরা চাই। ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, স্পেশাল ইকনোমিক জোন স্থাপন, আন্ত:নগর ট্রেন চালু, আইটি পার্ক, ভূল্লী থানা, কর্মজীবী মহিলাদের হোস্টেলসহ সকল উপজেলায় একটি করে স্কুল-কলেজ সরকারি করে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য যা যা উন্নয়ন দরকার তা আমরা করেছি। তারপরেও যেসব উপজেলায় সরকারি স্কুল কলেজ নেই সেখানে আমরা প্রতিষ্ঠান করে দেব। ঠাকুরগাঁও জেলায় যেনও একটা বিশ্ববিদ্যালয় হয় সে ব্যবস্থা আমরা করব।

তিনি বলেন, এই জেলায় কর্মস্থানের জন্যে, আমি জানি এই জেলা খাদ্য উদ্বৃত্তের এখানে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের অঞ্চল যেন গড়ে উঠে তার ব্যবস্থা আমরা করব। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করব। গুল্লি থানা করব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঠাকুরগাঁও, পীরগঞ্জ, রানী শৈঙ্কল, হরিপুর পাকা রাস্তা যাতে প্রশস্ত হয় তার ব্যবস্থা করে দেব। ঠাকুরগাঁও যাতে আইটি পার্ক হয় তার ব্যবস্থা করে দেব। কর্মচারী মহিলাদের জন্যে হোস্টেল করে দেব যাতে তারা থাকতে পারে। ঠাকুরগাঁও পৌরসভার যত ড্রেন, রাস্তা সেগুলোর উন্নত করার ব্যবস্থা করব। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ যাতে বিশুদ্ধ পানি পায় তার জন্যে ওভার হেড ওয়াটার ট্যান্ক করে দেব। প্রত্যেক উপজেলায় একটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার করে দেব। ইসলাম ধর্মের নামে কেউ যাতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করুক তা আমরা চাই না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes