আ.লীগের তিনটি কার্যালয় জাহাঙ্গীর কবিরের নিয়ন্ত্রণে

0
6

বরগুনা-১ (সদর–আমতলী–তালতলী) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবিরের তৎপরতায় অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন বর্তমান সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। দুই নেতাই দলের মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন।

দলীয় মনোনয়নের চিঠি নিয়ে গত ২৬ নভেম্বর জাহাঙ্গীর কবির সড়কপথে বরিশাল থেকে বরগুনার আমতলীর শাখারিয়ায় পৌঁছালে বিপুলসংখ্যক নেতা–কর্মী তাঁকে স্বাগত জানান। এরপর তিনি রাত আটটায় বরগুনায় পৌঁছান। ওই দিন সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগ এবং আমতলী ও তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেন জাহাঙ্গীর কবিরের সমর্থক নেতা-কর্মীরা।

২৭ নভেম্বর সাংসদ শম্ভু বরগুনায় ফেরেন। এ সময় জাহাঙ্গীর কবিরের সমর্থকেরা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। এতে করে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ঢুকতে পারেননি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। পরে তিনি শহরের বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কমপ্লেক্স মাঠে নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

এমন পরিস্থিতিতে বরগুনার সাধারণ মানুষ যেকোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহরের একজন ব্যবসায়ী বলেন, কেন্দ্র থেকে দুজনকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়ায় তাঁরা সারাক্ষণ ভয়ে থাকেন।
এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের একাংশ নানা অভিযোগে সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। সাবেক সাংসদ ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, সাংসদের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের একাংশ তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। দলীয় নেতা–কর্মী ও জনগণ নেতৃত্বের পরিবর্তন চায়। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা সবকিছু বুঝে শুনেই জাহাঙ্গীর কবিরকে মনোনয়ন দিয়েছেন। দেলোয়ার দাবি করেন, জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ জাহাঙ্গীর কবিরকে বিজয়ী করবে।

সাংসদ শম্ভুর ঘনিষ্ঠজন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্বাস হোসেন বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনয়নের যে চিঠি দিয়েছে, তাতে ১ নম্বরে ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও ২ নম্বরে জাহাঙ্গীর কবিরের নাম রয়েছে। নেত্রী সবকিছু অবগত রয়েছেন, তিনি যাঁকেই মনোনয়ন দেবেন, তাঁরা সবাই তাঁকে নিয়েই ভোটযুদ্ধে নামবেন।

বরগুনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মনোয়ার বলেন, আওয়ামী লীগের এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায়।
জাহাঙ্গীর কবির প্রথম আলোকে বলেন, বরগুনার মানুষ পরিবর্তন চায়। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা সবকিছু অবগত। তিনি অবশ্যই সবার জন্য যা কল্যাণকর, সেই সিদ্ধান্তই দেবেন।

সাংসদ শম্ভু বলেন, ‘কেন্দ্র এখানে আমাদের দুজনকে মনোনীত করেছে। যাঁকে নৌকা দেবেন, আমরা তাঁর পক্ষে কাজ করব। আমি কখনো নৌকার বিরোধিতা করিনি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here