Breaking News

চ্যাম্পিয়ন হতে ভাগ্যও লাগে

ভিনদেশে এসে ট্রফি জিতে মাঠে ‘ভিক্টরি ল্যাপ’ দেওয়া! সত্যি বলতে কি, এমন অভিজ্ঞতা হয়নি কখনও আগে। গতকাল সেটাই দেখতে হলো প্রেমাদাসার প্রেসবক্স থেকে। নিদাহাস ট্রফি নিয়ে রোহিত শর্মারা গ্যালারিতে হাত তুলে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন তাদের সমর্থন দেওয়ার জন্য। আর লংকান গ্যালারি কি-না নিজের দেশের নায়কদের বরণ করার মতো তা লুফে নিচ্ছে! এদিন আসলে শুধু ভারতের সঙ্গেই নয়, ছায়া প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা মিলিয়ে যেন দুটি প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়তে হয়েছে সাকিবকে! ম্যাচের পর দুয়োধ্বনি দেওয়া হয়েছে সাকিবদের, ভারতের জয়ে নাগিন ড্যান্স চলেছে সেখানে! এক লংকান সাংবাদিকের জিজ্ঞাসা ছিল সাকিবের কাছে- প্রেমাদাসার গ্যালারি থেকে এতটা বিরূপ আচরণ কি আশা করেছিলেন? ‘এটা মিরপুর না যে, ধরে নেব আমাদের গ্যালারি। বিদেশে খেলতে এসে এমন গ্যালারিই থাকে।

ওটা নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা হয়নি।’ তাহলে সমস্যাটি কোথায় ছিল? ‘রুবেলের ওই একটি ওভার বাদ দিলে এই ম্যাচে আমাদের তেমন কোনো ভুল ছিল না। তবে চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে বোধহয় ভাগ্যটাও লাগে…। এটা নিয়ে যেন কয়টা ফাইনাল হারলাম আমরা? চারটা না পাঁচটা?’ নিজের অজান্তেই সামনে থাকা স্বদেশি সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান সাকিব। ‘পাঁচটা’ শুনেই যেন দীর্ঘশ্বাস লম্বা হলো তার।

‘চ্যাম্পিয়ন হওয়া আর রানার্সআপ হওয়ার মধ্যে তফাৎটা আসলে ৯৯ আর সেঞ্চুরির মতো। সেঞ্চুরি করলে সেটা রেকর্ড থেকে যায়, মনে থাকে তা। ৯৯ করলে সেটা কেউ মনে রাখে না। রেকর্ডও থাকে না। আমরা বারবার যেন ৯৯-তে এসে আটকে যাচ্ছি।’ হতাশাটা আর চাপা দিয়ে রাখতে পারছিলেন না সাকিব।

ৎমুখে হাসির অভিনয় করে যাচ্ছিলেন বিদেশি সাংবাদিকদের সামনে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, এমন ম্যাচের পর আবেগ সামলে রাখছেন কীভাবে? ‘খুব খারাপ লাগছে, এটা আমরা কাউকে বোঝাতে পারব কি-না জানি না। আর কেঁদে কী লাভ, কী হবে আর। যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। আমাদের ভাগ্যটাই বুঝি খারাপ।’ কিন্তু ফাইনালে হারার নিয়তিতে কি শুধু ভাগ্যটাই দায়ী? এ ধরনের ম্যাচে কি বাংলাদেশ একটা মানসিক চাপে পড়ে যায়? ‘আমি অমনটা মনে করি না। আসলে যে ইনিংসটি দিনেশ কার্তিক খেলেছে, তা এক কথায় অলৌকিক। আমি কোনো ব্যাটসম্যানকেই এভাবে প্রথম বল থেকেই ছক্কা হাঁকাতে দেখিনি। যে কি-না প্রথম ছয় বলেই ২২ রান নিয়ে নেয়। তাকে কী বলবেন! এমন পরিস্থিতিতে দশটি ম্যাচের আটটিতেই হয়তো বোলিং দল জিতবে। কিন্তু আমরা সেই হারার মধ্যেই পড়ে গেলাম।’ অনেকের জানার ছিল মিরাজকে কেন আনা হলো না? রুবেলকেই কেন আনা হলো? রুবেলই তো ২০০৯ সালে মিরপুরে শ্রীলংকার বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচে এক ওভারে ২০ রান দিয়ে, মুরালিধরনের কাছে চার ছক্কা খেয়ে চ্যাম্পিয়নের স্বপ্নভঙ্গ করেছিলেন।

সেই রুবেলকেই কেন এদিন আনা হলো? ‘দেখুন, রুবেল কিন্তু প্রথম তিন ওভার দারুণ করেছে। আর সে-ই আমার দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও সেরা বোলার। এর পরও যদি কখনও এমন পরিস্থিতি হয় আমি হয়তো রুবেলকেই আনব। এদিন যেটা হয়েছে সেটা দিনেশ কার্তিকের অলৌকিক ব্যাটিং।’ ব্যাঙ্গালুরুর সেই ১ রানে হারার পর এদিনের কলম্বো- ভারতের সঙ্গে যেন জমানো কষ্টটা আরও দানা বেঁধে রইল। ‘ব্যাঙ্গালুরুর চেয়েও মনে হয় এটা বেশি কষ্টদায়ক। এত কাছাকাছি এসে মিরপুরে একবার এশিয়া কাপ হেরেছিলাম। তারপর আবার এই কলম্বো…’। কে যেন জিজ্ঞাসা করেছিলেন সাকিবকে- আপনি নিজের আবেগ সামলে রাখছেন কীভাবে? ভুল বলেছিলেন তিনি, সাকিবের চোখের জল হয়তো তার চোখে ধরা পড়েনি, কিন্তু মনের ভেতর ডুকরে ওঠা কান্নার শব্দও কি তিনি শুনতে পাননি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes