ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসন গ্রেপ্তার এড়াতে বিএনপির কৌশলে মনোনয়নপত্র জমা

0
7

গ্রেপ্তার এড়াতে বিএনপির অধিকাংশ নেতা তাঁদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গতকাল বুধবার সেগুনবাগিচায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনের বেশির ভাগ নেতাই প্রতিনিধিদের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনও ছিল গতকাল।

দলের মনোনয়নের চিঠি পাওয়া একাধিক নেতা প্রথম আলোকে বলেছেন, তাঁদের কাছে খবর ছিল মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই গ্রেপ্তার এড়াতে তাঁরা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এটাকে একধরনের কৌশলও বলেছেন কেউ কেউ।

জানা গেছে, ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনে ১৫ জন নেতা প্রতিনিধির মাধ্যমে তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। প্রতিনিধিদের মধ্যে বেশির ভাগই দলীয় কর্মী বা নিকটাত্মীয় ছিলেন। প্রতিনিধির মাধ্যমে যাঁরা জমা দিয়েছেন তাঁরা হলেন ঢাকা-৫ আসনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহসভাপতি নবীউল্লাহ নবী। ঢাকা-৬ আসনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন। ঢাকা-৭ আসনে দলের প্রয়াত নেতা নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম। ঢাকা-৮ আসনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। ঢাকা-৯ আসনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। ঢাকা-১০ আসনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান। ঢাকা-১১ আসনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এ জি এম শামসুল ইসলাম। ঢাকা-১২ আসনে মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান ও জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম। ঢাকা-১৫ আসনে যুবদল নেতা মামুন হাসান। ঢাকা-১৬ আসনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসানুল্লাহ হাসান ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন। ঢাকা-১৮ আসনে মহানগর উত্তর যুবদল সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিএনপি নেতা বাহাউদ্দিন সাদী।

তাঁদের মধ্যে ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাস গত মঙ্গলবারই প্রতিনিধির মাধ্যমে মনোনয়নপত্র জমা দেন। গতকাল ঢাকা-৯ আসনে প্রতিনিধির মাধ্যমেই মনোনয়নপত্র পাঠালেও জমা দিতে পারেননি।

তবে ঢাকা মহানগরের আসনগুলোর মধ্যে অনেকে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এসে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁরা হলেন ঢাকা-৪ আসনে সাবেক সাংসদ সালাহউদ্দিন আহমেদ ও মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ। ঢাকা-৫ আসনে দলের গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সেলিম ভূঁইয়া। ঢাকা-৬ আসনে মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাসার। ঢাকা-১০ আসনে দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন অসীম। ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুমের স্ত্রী শামীম আরা বেগম। ঢাকা-১৩ আসনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম ও আতাউর রহমান ঢালী। ঢাকা-১৪ আসনে সাবেক সাংসদ এস এ খালেকের ছেলে দারুস সালাম থানা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এস এ সিদ্দিক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। ঢাকা-১৫ আসনে দলের বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন এবং ঢাকা-১৭ আসনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ফরহাদ হালিম।

প্রতিনিধিদের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রসঙ্গে ঢাকা-৬ আসনের ইশরাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পরও যত্রতত্র নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আমাদের কাছে খবর ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ধরপাকড় হতে পারে। তাই সতর্কতা অবলম্বন করতে গিয়ে আমি প্রতিনিধিদের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’

তবে ঢাকা-১৩ আসনের আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি নেতা-কর্মীদের নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাউকে গ্রেপ্তার করেননি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here