Breaking News

বাংলাদেশে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ খুঁজছে রোহিঙ্গারা

বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পাদনের সাড়ে তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে আশা-নিরাশার দোলাচলে পড়ে অনেকেই হতাশায় ভুগছে। রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ স্বদেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও বড় একটিং অংশ বাংলাদেশে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ খুঁজছে। প্রতিনিয়ত ক্যাম্প ত্যাগ করে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়ক পথে শহরের দিকে পা বাড়াচ্ছে তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে মাঝে কিছু রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠালেও বেশির ভাগ রোহিঙ্গা তাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যাচ্ছে।

এ দিকে, প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পাদনের পরেও মিয়ানমার সরকার সীমান্তে অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশ, ফাঁকা গুলিবর্ষণ, তুমব্রু শূন্যরেখার আশ্রিত রোহিঙ্গাদের উপর হামলার চেষ্টা করছে। এছাড়াও মাইকিং করে তাদের স্থান ত্যাগ করার হুমকি প্রদর্শন করছে।

গতকাল সকালে কুতুপালং বস্তির ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি আবু ছিদ্দিকের সাথে আলাপ হয়। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় নতুন করে ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার ব্যাপারে। তিনি জানান, প্রত্যাবাসন বিলম্বের পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বিরাজমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের অনেকেই স্বদেশে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছে। তারা মনে করছে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার চাইতে এ দেশের আনাচেকানাচে কোথাও অবস্থান নিয়ে কাজকর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করাটা ভালো হবে।

এভাবে গত ছয় মাসে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা ক্যাম্প ত্যাগ করেছে। বস্তি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সেক্রেটারি নূর জানান, বস্তির পুরাতন রোহিঙ্গা ছাড়া নতুন রোহিঙ্গাদের অনেকেই বস্তির বাইরে বিভিন্ন এলাকায় বাসা-বাড়ি ভাড়া নিয়ে রয়েছে। আর কিছু কিছু রোহিঙ্গা তাদের স্বজনদের কাছে চলে গেছে। এভাবে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে চলে যাচ্ছে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের জানান, উখিয়া থানার পক্ষ থেকে পুলিশ কুতুপালং, উখিয়া সদর, মরিচ্যা চেকপোস্টসহ ভ্রাম্যমাণ তল্লাশি অভিযান চালিয়ে গত ছয় মাসে অর্ধ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে ক্যাম্প ফেরত পাঠিয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, ক্যাম্পে যে সমস্ত রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে তাদের প্রত্যাবাসন না হওয়ায় তারা এখানে স্থায়ী বসবাসের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। যার ফলে বিভিন্ন গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়ক পথে পায়ে হেঁটে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, টেকনাফ থেকে সোনারপাড়া ঝাউবাগান এলাকায় তল্লাশি চালালে এখনো লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এখানে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছে। তাদের অনুসরণ করে রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করার চেষ্টা করছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের ফেরত পাঠানোর জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় সরকার কাজ করছে। তবে কখন, কিভাবে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হবে তা এখন সঠিক করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes