জাকির নায়েককে ফেরত পেতে আরও প্রমাণ দিতে হবে ভারতকে

0
19

জাতীয় নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটে এমন বক্তব্য না দিলে কোনো ধর্মীয় বক্তাকে বাধা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মালশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মুজাহিদ ইউসুফ রাওয়া।

মুজাহিদের এমন বক্তব্যে ড. জাকির নায়েককে ভারতে ফেরানোর বিষয়টি আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।জাকির নায়েককে ভারতে ফেরাতে বছরখানেক আগে মালেশিয়ার কাছে আবেদন করেছিল ভারত।সে বিষয়ে মালয়শিয়ায় বসবাসকারী জাকির নায়েককে ভারতে প্রত্যর্পণের জন্য আরও নথি ও প্রমাণ চেয়েছেন মালয়শিয়া সরকার।সম্প্রতি ভারত সফরে গিয়ে মালয়েশিয়ার ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘বিষয়টি দেখা হচ্ছে। তবে ভারতের কাছ থেকে আরও তথ্য-প্রমাণ চাই।’আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেছেন, ‘ভারতের অনুরোধ কে আমরা সম্মান জানাই। কিন্তু মালয়েশিয়ার আইন-কানুনের বাইরে আমরা যেতে পারিনা।

মালয়শিয়া সরকারের পুরো বিষয়টি আরও ভাল করে বোঝার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।এর আগে গত বছরের জুন মাসে সরকার জাকির নায়েককে স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন দিয়েছে জানিয়ে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন বলেছিলেন, দেশের কোনো আইন ভঙ্গ করে থাকলে জাকির নায়েককে গ্রেফতার করতে দ্বিধা করবে না তার সরকার। তিনি কোনো ক্ষেত্রে আইন ভঙ্গ করে থাকলে অন্য নাগরিকদের মতোই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। নাগরিক কিম্বা অ-নাগরিক সবাইকেই আইনের আওতায় আসতে হবে।’ সূত্র: মালয় মেইল

তবে জাকিরকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে ভারত সরকারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।‘তাকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হবে কিনা’- এমন প্রশ্নে বরবরই ভারতকে ফিরিয়ে দিয়ে আসছে মালয়শিয়া।এ বিষয়ে গত বছরের জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেছিলেন, জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি করছেন না এবং তাকে ফেরত পাঠাবে না তার দেশ।২০১৬ সালের ১ জুলাই ভারত ছেড়ে যান ড. জাকির নায়েক।

সেই সময় সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং মুদ্রাপাচারে সম্পৃক্ততার অভিযোগে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ভারত সরকার।জাকির নায়েক অবশ্য শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ নাকচ করে আসছেন।নিজের সমর্থনে তিনি বলেছেন, আমি দেশের কোনো আইন ভাঙিনি। ইসলামের শত্রুরা আমাকে টার্গেট করেছে। আমি শান্তির দূত, কখনও সন্ত্রাসবাদে উৎসাহ দিইনি।’

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় ১৭ জন বিদেশিসহ ২০ জন নিহত হন।এ ঘটনায় আলোচনায় আসেন জাকির নায়েক। নিহত দুই হামলাকারী জাকির নায়েকের অনুসারী বলে দাবি করা হয়।এর পর উগ্রবাদী বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হয় তার টেলিভিশন চ্যানেল পিস টিভি। এর পর তদন্তে নামে ভারত সরকার।২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর তার এনজিও সংস্থা ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনকে অবৈধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে ভারত সরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here