নির্বাচনের আগে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা বাড়ছে

0
8

নির্বাচনের আগে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। লেনদেন ও শেয়ারমূল্যে দ্রুত ছন্দপতন হচ্ছে। এক দিন সূচক বাড়লে খুব দ্রুতই কমে যাচ্ছে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা এক ধরনের আতঙ্কে রয়েছে। এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে বাজারে কয়েকটি প্রণোদনা দিয়েছিল সরকার।

কিন্তু বাজারে এর ইতিবাচক কোনো প্রভাব নেই। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারে মূল সমস্যা আস্থা সংকট। এই সংকট না কাটলে বাজারের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে না। এছাড়াও রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করছেন কেউ কেউ।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছি, এই বাজারে মূল সমস্যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট। সুশাসনের অভাবে এই সংকট তৈরি হয়েছে। আর এ থেকে উত্তরণ না হলে বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন আসবে বলে মনে হয় না।

তিনি বলেন, এর আগে বাজারে যত অনিয়ম জালিয়াতি হয়েছে তার সঙ্গে জড়িতদের দৃশ্যমান কোনো শাস্তি হয়নি। আর সবার আগে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগকারীদের পরিষ্কার একটি বার্তা দিতে কারসাজির মাধ্যমে কেউ তার পুঁজি হাতিয়ে নিলে বিচার হবে।

জানা গেছে, বিভিন্ন কারণে বাজারে এক ধরনের তারল্য সংকট চলছিল। হঠাৎ করে তাতে ছন্দপতন হয়। গত সোমবার ডিএসইতে ৮০৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। ডিএসইর এ লেনদেন দেড় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর মঙ্গলবার লেনদেন কমে ৭১৭ কোটি টাকায় নেমে আসে।

বৃহস্পতিবার আরও কমে লেনদেন ৫৫২ কোটি টাকায় নেমে আসে। সর্বশেষ গতকাল রোববার লেনদেন কিছুটা বেড়ে ৫৬৯ কোটিতে দাঁড়ায়। এ সময়ে মূল্যসূচকেও ব্যাপক উত্থান-পতন হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট গ্রুপ ইউনাইটেড পাওয়ার ও খুলনা পাওয়ারের শেয়ার কিনেছে। লেনদেন ও মূল্যসূচকে এর প্রভাব পড়েছে।

গত সপ্তাহে ৪ দিনে ডিএসইতে ২ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৬৫৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে ৫ দিনে ২ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। প্রতিদিন গড়ে ৫৫২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। এ হিসাবে গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ১৩৫ কোটি টাকা।

শতকরা হিসাবে যা ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ কম। তবে প্রতিদিনের গড় লেনদেন বেড়েছে ১০৫ কোটি টাকা। সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর মূল্যসূচক ছিল ৫ হাজার ২৪৪ পয়েন্ট। সপ্তাহের শেষে তা ৬১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩০৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এছাড়াও সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকা। সপ্তাহ শেষে তা বেড়ে ৩ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

এদিকে সপ্তাহজুড়ে লেনদেনের শীর্ষে ছিল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। এরমধ্যে ইউনাইটেড পাওয়ার ও খুলনা পাওয়ার অন্যতম। বাজারের মোট লেনদেন প্রায় ১০ শতাংশই ছিল এই কোম্পানির। এছাড়াও অন্যান্য খাতের যে সব কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বেড়েছে সেগুলো হল- ইনটেক অনলাইন ৯৯ কোটি টাকা, সায়হাম টেক্সটাইল ৬১ কোটি, ব্র্যাক ব্যাংক ৫৯ কোটি, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ৫৯ কোটি, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ৫৯ কোটি, সায়হাম কটন ৫৮ কোটি, এসকে ট্রিমস ইন্ডাস্ট্রিজ ৫৬ কোটি এবং ওয়াটা কেমিক্যালের ৫২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনকৃত ৩৪৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬৩টির, কমেছে ১৫৪টি ও অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, রাজনীতির সঙ্গে অর্থনীতি সরাসরি জড়িত। ফলে রাজনীতিতে অস্থিরতা থাকলে অর্থনীতি ভালো থাকতে পারে না। তিনি বলেন, শেয়ারবাজার আরও স্পর্শকাতর। ফলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে, বাজারে তার প্রভাব পড়ছে।

এদিকে নির্বাচনী বছরে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার কিছু প্রণোদনা দিয়েছিল। এগুলো হল- ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) ২ হাজার কোটি টাকার ফান্ড সংগ্রহের উদ্যোগ, চীনা কনসোর্টিয়ামের অর্থের ওপর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ উৎসে কর মওকুফ, পোশাক খাতের উৎসে কর কমানো এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণ বা ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) ১ শতাংশ কমানো হয়েছে। কিন্তু বাজারে এর তেমন কোনো প্রভাব নেই। উল্টো এ সুযোগ কাজে লাগাতে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যরা ডিলার অ্যাকাউন্টের শেয়ার বিক্রি করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here