Breaking News

হঠাৎ আঘাত পেলে

 হঠাৎ আঘাত পেলে শরীরের ওই নির্দিষ্ট জায়গায় অতিরিক্ত চাপে ফুলে যায়। এ ধরনের আঘাতে যে সমস্যা হয় তাকে সাধারণত সফট টিস্যু ইনজুরি বলে। আঘাত হাতে-পায়ের, কোমরের বা শরীরের অন্য জায়গার মাংসপেশি, হাড়, হাড়ের জোড়, নার্ভ বা লিগামেন্টের অবস্থানগত পরিবর্তনের জন্য ব্যথা হয়। আবার কেউ মাথায়ও আঘাত পেতে পারে, ফলে বাহ্যিক-অভ্যন্তরীণ দুই ধরনেরই ক্ষতি হতে পারে। একেক জায়গার আঘাতে চিকিৎসার ধরন পরিবর্তিত হয়ে থাকে। সব আঘাতই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু মাথায় আঘাত সব সময় বেশি গুরুত্ব বহন করে।

হঠাৎ হাতে-পায়ে আঘাত পেলে কী হয়—
 আঘাতপ্রাপ্ত জায়গা ফুলে যায়
 প্রচণ্ড ব্যথা হয়

ওই অংশটি লাল হয়ে যায় এবং গরম থাকে। এটা হয় কোনো দুর্ঘটনায় আঘাত পেলে, খেলাধুলার সময় আঘাত পেলে, মাংসপেশিতে হঠাৎ টান লাগলে কিংবা পা পিছলে পড়ে গেলে। আর এসব কারণে সফট টিস্যু ইনজুরি হয়। আঘাতের তীব্রতা বেশি হলে হাড় ভেঙে যেতে পারে। হাড় ভেঙে গেছে সন্দেহ হলে অবশ্যই এক্স-রে করাতে হবে এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নিতে হবে।

এমন আঘাতে কী করবেন
আক্রান্ত জায়গায় বরফ ব্যবহার করতে হবে ১৫-২০ মিনিট ধরে। ভিজা গামছার ভেতর বরফ নিয়ে আক্রান্ত অংশে মুড়িয়ে দিন। যদি বেশি ঠান্ডা লাগে, ৩ মিনিট পর উঠিয়ে ফেলুন। শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে আবার ১২-১৪ মিনিট ধরে পেঁচিয়ে রাখুন। আক্রান্ত অংশ ফুলে গেলে ক্রেব ব্যান্ডেজ দিয়ে পেঁচিয়ে রাখুন, যাতে আর ফুলতে না পারে। আক্রান্ত অংশ বালিশ বা অন্য কিছু দিয়ে উঁচু করে রাখুন, যাতে হৃৎপিণ্ড বরাবর থাকে। এই অবস্থায় হালকা ব্যায়াম, হালকা মালিশ, আলট্রাসাউন্ড থেরাপি ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে। রোগীকে ৬-৭ দিন পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হয়। লক্ষ রাখতে হবে রোগী আবার যেন আঘাত না পায়।
ব্যথা ভালো না হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাসহ অন্য চিকিৎসা নিতে হবে।

মাথায় হঠাৎ আঘাত পেলে কী করবেন
আকস্মিক দুর্ঘটনায় কারও মাথায় আঘাত লাগতে পারে। যেমন ক্ষণিকের ভুলে কোলের শিশু পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেতে পারে। সড়ক দুর্ঘটনায়, বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের মাথায় আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি বেশি।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. সৌমিত্র সরকার বলেন, ‘মাথায় আঘাত পাওয়া রোগীর সঙ্গে অন্য আঘাত থাকতে পারে। যেমন তার ঘাড়ে সারভাইক্যাল ইনজুরি থাকতে পারে। তার লাম্বোসেকরাল কোমড স্পাইনাল ইনজুরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তার নড়াচড়া হতে হবে খুব সীমিত।’
মাথায় আঘাত পাওয়া কোনো রোগীর ক্ষেত্রে প্রথমে দেখতে হবে, শ্বাসপ্রশ্বাস নিচ্ছে কি না ঠিকমতো। যদি শ্বাসপ্রশ্বাস ঠিক না থাকে, দেখতে হবে নাকে–মুখে কোনো বাধা আছে কি না। যদি দেখা যায়, মাথা থেকে রক্ত বের হচ্ছে, জায়গাটি চেপে ধরে বন্ধ করতে হবে। অচেতন রোগীকে বেশি টানাটানি করা হলে হয়তো ঘাড়ে আঘাত পেয়ে যেতে পারে। সেই অবস্থায় তাকে আস্তে আস্তে তুলে কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।
মাথায় আঘাত লাগার ফলে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে সেগুলো হলো মাথাব্যথা, বমি বা বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, খিঁচুনি, অচেতন অবস্থা, দুই চোখের নিচে রক্ত জমে কালো রং ধারণ বা ব্ল্যাক আই ইত্যাদি।

এ বিষয়ে পরামর্শ
অনেকেই মনে করেন, মাথায় আঘাত লাগলেই নিশ্চিত মৃত্যু। ব্যাপারটা আসলে সে রকম নয়, বরং যত দ্রুত সম্ভব, পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আঘাতের মাত্রা নির্ণয় এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে ক্ষতির মাত্রা কমবে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে মাথায় আঘাত লাগার পর রোগীকে আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মনে হলেও পরে হঠাৎ অবস্থা জটিল হতে পারে।

কোমরে ব্যথা পেলে
কোমরে ব্যথা পাওয়ার পর হাঁচি অথবা কাশি দিতে গিয়ে কোমরে ব্যথা লাগবে। কোমরের ব্যথা পায়ে ছড়িয়ে যায় এবং অনেক সময় ব্যথা শুধু পায়েই অনুভূত হয়, কোমরে না–ও হতে পারে। হাঁটলে বা কাজ করলে ব্যথা বেড়ে যায়, রাতে ঘুমেরও ব্যাঘাত হতে পারে। অনেক সময় রোগী পায়ে ঝিনঝিন, অবশ ভাব ও দুর্বলতা অনুভব করেন। কোনো কোনো রোগীর কোমর একদিকে বেঁকে যায় এবং চিত হয়ে শুয়ে পা উঁচু করলে তার ব্যথা অনুভূত হবে।

এই অবস্থায় ভারী জিনিস তোলা নিষেধ এবং শারীরিক ব্যায়াম অবশ্যই বন্ধ থাকবে।
এরকম আঘাতের ব্যথার কারণ বের করে যদি সঠিক চিকিৎসা করা যায়, তাহলে ব্যথা তাড়াতাড়ি কমে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes