বান্দরবান বিএনপির পুঁজি আওয়ামী লীগের কোন্দল!

0
6

বান্দরবান আসনে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কাছে কোন্দলে বিভক্ত বিএনপি বারবার হেরেছে। আওয়ামী লীগের বীর বাহাদুর উশৈসিং পাঁচবার সাংসদ হয়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগও দলীয় কোন্দলে জর্জরিত হয়ে পড়েছে। বিএনপিতে দুটি পক্ষ থাকলেও এবারে আওয়ামী লীগের ভাঙনকে কাজে লাগাতে চায়।

দলীয় নেতা-কর্মীরা বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলের চারটি পক্ষের সবাই মুখে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন বলছেন। কিন্তু ভেতরে-ভেতরে ভিন্ন অবস্থা। নিজ দলের প্রতিপক্ষকে সবাই কোণঠাসা করতে চান। এ অবস্থায় নিজ দলের প্রতিপক্ষকে ঠেকানোর এই কৌশলে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশও জটিল হচ্ছে। এতে দুই দলের প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে জনসংহতি সমিতি অনুঘটকের ভূমিকায় আসতে পারে।

আওয়ামী লীগের কোন্দল

জেলা আওয়ামী লীগের মূলধারার নেতৃত্বে রয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মজিবুর রহমানের আরেকটি পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এবারেও পাঁচবারের সাংসদ বীর বাহাদুরকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রসন্ন কান্তি বিদ্রোহী প্রার্থী িছলেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মজিবুর রহমান বলেছেন, তাঁরা বীর বাহাদুরের পক্ষে নয়, নৌকার জন্য কাজ করবেন। জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বীর বাহাদুর পক্ষের নেতা এ কে এম জাহাঙ্গীর বলেছেন প্রসন্ন-মজিব নৌকার পক্ষে কাজ না করে ষড়যন্ত্র করলে তা প্রতিহত করা হবে।

আওয়ামী লীগ দলীয় কোন্দলে জর্জরিত। বিএনপি সেই ভাঙনকে কাজে লাগাতে চায়।

দলের উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা বলেছেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত দলে কোনো কোন্দল ছিল না বলে বিজয়ী হওয়া সহজ হয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিল না। বিদ্রোহী প্রার্থী প্রসন্ন কান্তি ৩৩ হাজার ২৯ ভোট ও বীর বাহাদুর ৬১ হাজার ৯৯২ ভোট পেয়েছেন। বীর বাহাদুরের প্রতিপক্ষ হিসেবে তখন নির্বাচনে প্রসন্ন কান্তি একাই ছিলেন। এখন তাঁর সঙ্গে কাজী মজিবুর রহমান যুক্ত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বীর বাহাদুর বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে সাড়ে ১৯ হাজার ভোট বেশি পেয়েছেন। তখন বিএনপির সাচিংপ্রু জেরী ৫১ হাজার ৫৪০ ও জেএসএসের কেএস মং মারমা ১৪ হাজার ৩২২ ভোট পেয়েছিলেন। বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলেছেন, মাম্যাচিং পক্ষ ভেতরে-ভেতরে বিরোধিতা করায় জেরী কম ভোট পেয়েছেন। এবারে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকায় নির্বাচনে লড়াই জমে উঠতে পারে। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসলাম বেবী বলেছেন, প্রসন্ন-মজিবকে বহিষ্কার করায় আওয়ামী লীগ এখন আগের চেয়েও সংগঠিত ও শক্তিশালী। সব কটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাঁরা বিজয়ী হয়েছেন। সংসদ নির্বাচনেও কোনো সমস্যা হবে না।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের বক্তব্য

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোন্দলে বিএনপি উচ্ছ্বসিত। বোমাং রাজপরিবারের দুই সদস্য সাচিংপ্রু জেরী ও মাম্যাচিংকে ঘিরে কোন্দলে বিপর্যস্ত বিএনপি বারবার পরাজিত হয়ে আসছে। তবে এবার আওয়ামী লীগের কোন্দলে বিএনপি আশার আলো দেখছে।

জেলা সাধারণ সম্পাদক (মাম্যাচিং পক্ষ) জাবেদ রেজা বলেছেন, ধানের শীষ যাঁকে দেওয়া হবে তাঁর পক্ষেই সবাই কাজ করবেন। তাঁরা আওয়ামী লীগের কোন্দলের সুযোগ কাজে লাগাতে চেষ্টা করবেন।

দলের নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, এবারেও মনোনয়নপ্রত্যাশী সাচিংপ্রু জেরী ও মাম্যাচিং। জেলা সাধারণ সম্পাদক (মাম্যাচিং পক্ষের) জাবেদ রেজা বলেছেন, ২০০১ সালে মাম্যাচিং ৮৫৩ ভোটে পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বীর বাহাদুরের কাছে।

তখন সাচিংপ্রু জেরী বিদ্রোহী প্রার্থী না হলে তাঁর প্রাপ্ত ১৪ হাজার ভোট যোগ হতো মাম্যাচিংয়ের ভোটবাক্সে। আওয়ামী লীগের বীর বাহাদুর তখন বিপুল ভোটে হারতেন। জেলা যুগ্ম সম্পাদক ও জেরী পক্ষের নেতা মজিবুর রশিদ বলেছেন, তাঁদের প্রত্যেক উপজেলা ও ইউনিয়নে শক্তিশালী কমিটি রয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকলে এবারে তাঁদের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। কারণ এবারে আওয়ামী লীগেও কোন্দল প্রকট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here