সুনামগঞ্জের চারটি আসন পুরোনোদের হাতেই থাকল নৌকা

0
9

সুনামগঞ্জে নির্বাচনী আসন পাঁচটি। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন অন্তত ৪০ জন। বেশির ভাগই নতুন মুখ। মাঠে আলোচনা ছিল, কোনো না কোনো আসনে এবার নতুন মুখ আসবে। কিন্তু চারটি আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন পুরোনোরাই। অপর আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি আওয়ামী লীগ। ফলে এবারও সেটি জাতীয় পার্টিকে (জাপা) ছেড়ে দেওয়া হবে, এমন আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও ধরমপাশা নিয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসন। এখানে বর্তমান সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন (রতন)। টানা দুইবারের এই সাংসদ এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।

এই আসনে দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন আরও ১২ জন। তাঁদের মধ্যে নতুন মুখ ছিলেন অনেকেই। তাঁদের আশা ছিল, এবার হয়তো এখানে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি না হওয়ায় অনেকেই হতাশ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মনোনয়নপ্রত্যাশী বলেন, ‘১৮ বছর ধরে মাঠে আছি। গ্রামে গ্রামে দলকে সংগঠিত করেছি। গত দুটি নির্বাচনেও মনোনয়ন চেয়েছিলাম, কিন্তু পাইনি। নতুনদের সুযোগ না দিলে নতুন নেতৃত্বের বিকাশ কীভাবে হবে?’

দিরাই ও শাল্লা নিয়ে সুনামগঞ্জ-২ আসন। বর্তমান সাংসদ জয়া সেন গুপ্তা। তিনি এই আসনের সাবেক সাংসদ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা প্রয়াত সুরঞ্জিত সেন গুপ্তর স্ত্রী। তাঁর মৃত্যুর পর গত বছরের ২৯ মার্চের উপনির্বাচনে এখানে সাংসদ হন জয়া সেন গুপ্তা। এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে ছিলেন আরও সাতজন। তাঁদের দাবি ছিল প্রার্থী পরিবর্তনের। কিন্তু শেষমেশ জয়া সেন গুপ্তার হাতেই নৌকা থাকল।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর নিয়ে সুনামগঞ্জ-৩ আসন। বর্তমান সাংসদ অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নান।

টানা দুইবারের এই সাংসদ এবারও দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। মান্নান ছাড়াও এবার দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ছয়জন। তাঁদের একজন এই আসনের সাবেক সাংসদ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা প্রয়াত আবদুস সামাদ আজাদের ছেলে আজিজুস সামাদ আজাদ (ডন)। তিনি গত দুটি নির্বাচনে এখানে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এবারও তাঁর নামটি বেশ জোরেশোরেই আলোচনায় ছিল। কিন্তু শেষমেশ নৌকা মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের হাতছাড়া হয়নি।

সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর নিয়ে সুনামগঞ্জ-৪ আসন। বর্তমান সাংসদ জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা পীর ফজলুর রহমান (মিসবাহ)। তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এবার এখানে আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী দেওয়ার দাবি জোরালো হয়।

মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে ছিলেন দলের জেলা শাখার সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মতিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এনামুল কবির (ইমন), সহসভাপতি খায়রুল কবির (রুমেন) ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ শামছুন্নাহার বেগম (শাহানা)। কিন্তু এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।

ছাতক ও দোয়ারাবাজার নিয়ে সুনামগঞ্জ-৫ আসন। বর্তমান সাংসদ মহিবুর রহমান (মানিক)। এই আসন থেকে তিনবার সাংসদ হয়েছেন তিনি। এবারও দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।

এবার মনোনয়ন লড়াইয়ে তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও পাঁচজন। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মহিবুরই নৌকা পেয়েছেন।

সার্বিক বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমরা চার সাংসদ গত পাঁচ বছর একসঙ্গে ছিলাম। জেলায় সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছি। পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের নিয়ে দলকে অনেক শক্তিশালী করেছি। এবারও মনোনয়ন আনতে আমরা চারজন একসঙ্গে দলীয় কার্যালয়ে গিয়েছিলাম।

দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছেন, সেটা ধরে রাখতে চাই। এবারও আমরা সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে চাই।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here