বিতর্কের জন্ম দিলেন তিনি

0
3

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ায় আফছারুল আমীনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন হত্যা মামলার আসামিরা। বাঁ থেকে (গোল চিহ্নিত) প্রথম জন লালখান বাজার যুবলীগ কর্মী শরীফ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি মো. ওয়াসিমউদ্দিন, দ্বিতীয় জন মহানগর ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যা মামলার আসামি আইনুল কাদের, ডান দিক থেকে দ্বিতীয় শরীফ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি মো. মাঈনউদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম–১০ (পাহাড়তলী–হালিশহর–খুলশি) আসনে আবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ায় সাংসদ আফছারুল আমীনকে দলীয় নেতা–কর্মীরা অভিনন্দন জানাচ্ছেন। কিন্তু রোববার হত্যা মামলার আসামিরাও তাঁকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের কারণে তাঁরা প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না।

দলীয় সূত্র জানায়, রোববার রাত নয়টার দিকে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের এক নেতা এবং যুবলীগের এক কর্মীর খুনের আসামিরা আফছারুল আমীনের চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ানহাট চেম্বারে যান। সেখানে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। ফুল দেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

আফছারুল আমীনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে যান যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ শরীফ হত্যা মামলার আসামি মো. ওয়াসিমউদ্দিন ও মো. মাঈনউদ্দিন ওরফে পিচ্চি হানিফ এবং ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যা মামলার আসামি আইনুল কাদের নিপু। গত বছরের ১৮ এপ্রিল লালখান বাজারের বাঘঘোনা এলাকায় শরীফকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চলতি বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ওয়াসিমউদ্দিন ও মাঈনউদ্দিনসহ ২০ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করে খুলশি থানা পুলিশ।

গত বছরের ৬ অক্টোবর নগরের নালাপাড়া এলাকার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে খুন করা হয় চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে। চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পিবিআইতে পাঠানো হয়েছে। আসামি মো মোক্তার ও মো. পাপ্পুর দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে সুদীপ্ত খুনের সঙ্গে আইনুল কাদের নিপু সরাসরি জড়িত বলে নাম আসে। মোক্তার ও পাপ্পু কারাগারে থাকলেও আইনুল কাদেরকে পুলিশ ধরছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ জন্য সুদীপ্ত বিশ্বাসের বাবা মেঘনাদ বিশ্বাস ঘটনার মূল হোতার পরিচয় বের করা এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে আবেদন করেন। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি সম্প্রতি পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়।

আফছারুল আমীন চট্টগ্রাম–১০ আসনে ২০০৮ সালে সাংসদ নির্বাচিত হন। এরপর তাঁকে মন্ত্রী করা হয়। প্রথমে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ হন।

খুনের মামলার আসামির কাছ থেকে ফুল নেওয়া প্রসঙ্গে আফছারুল আমীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘খুনের সময় আপনি কি সেখানে উপস্থিত ছিলেন? তারা যে খুনি, সেটা আপনি বলতে পারেন? কিন্তু কে খুন করেছে, কে মাদকের সঙ্গে জড়িত, তা আমার জানার বিষয় না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here