দক্ষিণে কৌশলী বিএনপি: বাদ যাননি কথিত সংস্কারপন্থীরা

0
7

দক্ষিণের ২১ আসনের মনোনয়ন প্রশ্নে কৌশল আর পরিপক্বতার স্বাক্ষর রেখেছে বিএনপি। দলটি বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ২১টি আসনের ৩টি রেখেছে শরিক দলগুলোর জন্যে।

এই তিনটির একটিসহ বাকি ১৮ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া ৩৪ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এতে নতুন অনেকের নাম থাকলেও তালিকায় তারা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা। এ ক্ষেত্রে ওয়ান-ইলেভেনে যারা সংস্কারপন্থী ছিলেন কিংবা দলটির কারান্তরীণ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভাষায় যারা ফাঁকিবাজ নেতা তারাও পেয়েছেন মনোনয়নের চিঠি।

টানা ১০ বছর নির্বাচনী এলাকায় যাননি এমন নেতাদেরও মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে দলের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘এবারের নির্বাচন বিএনপির অস্তিত্বের লড়াই। তাই যেখানে যাকে দিলে দলের জয়ের সম্ভাবনা বেশি ঠিক তাকেই মনোনয়ন দিয়েছে দল।’

দুই যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার এবং মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মনোনয়ন চেয়েছিলেন বরিশাল-৫ (সদর) আসনে।বিষয়টি নিয়ে বেশ একটা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা বিরাজ করছিল।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরোয়ারকে বরিশাল সদর এবং আলালকে বরিশাল-২ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।

অবশ্য বরিশাল সদরে সরোয়ারের পাশাপাশি এবায়েদুল হক চান এবং আলালের পাশাপাশি সরফুদ্দিন সরদার সান্টু ও শহিদুল হক জামালের নামও রাখা হয়েছে।

সোমবার বিকালে গুলশান অফিসে বরিশাল-২ আসনে ৩ জনের নাম ঘোষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ২০০৮-এর নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে ভোটযুদ্ধ করা সরফুদ্দিন সান্টু।

মনোনয়ন না পেলে দল থেকে পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি। যুগান্তরকে সান্টু বলেন, ‘আলাল’র রাজনীতি রাজধানীকেন্দ্রিক। ২০০৮-এ তিনি ঢাকা-১৩ আসনে নির্বাচন করেছেন। বরিশাল-২-এর নেতাকর্মীদের কারও সঙ্গে তার যোগাযোগও নেই। কোন হিসাবে এখানে তাকে মনোনয়ন দেয়া হল বুঝতে পারছি না।’

দক্ষিণের অন্য আসনগুলোর মধ্যে বরিশাল-১-এ এমপি জহিরুদ্দিন স্বপন (কথিত সংস্কারপন্থী) ও ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহান; বরিশাল-৩-এ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান; বরিশাল-৪-এ সাবেক এমপি মেসবাহ উদ্দিন ফরহাদ ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসান; বরিশাল-৬-এ সাবেক এমপি আবুল হোসেন ও সদ্য আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে আসা অধ্যক্ষ আবদুর রশিদ খানকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

এদের মধ্যে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মনোনয়নের চিঠি নেননি মহাজোট সরকারের মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের বোন সেলিমা রহমান এবং আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে আসা রশিদ খান।

ঝালকাঠি-১ আসনে সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান ওমরকে একক এবং ঝালকাঠি-২-এ সাবেক এমপি ইলেন ভুট্টোর পাশাপাশি জেবা খানকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।

পিরোজপুর-১ ও ২ আসনে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি বিএনপি। ধারণা করা হচ্ছে যে এ দুটি আসন ছাড়া হবে জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় পার্টিকে (জাফর)।

সে ক্ষেত্রে এই দুটি আসন থেকে মনোনয়ন পেতে পারেন জাতীয় পার্টির মোস্তফা জামাল হায়দার এবং কারান্তরীণ জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামিম সাঈদী।

পিরোজপুর-৩ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন রহুল আমিন দুলাল ও কর্নেল (অব.) শাহজাহান মিলন। মনোনয়ন প্রশ্নে সবচেয়ে চমকের ঘটনা ঘটেছে বরগুনা-২ আসনে।

এখানে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির সাবেক এমপি নুরুল ইসলাম মনি। মনি গত ১০ বছরে একবারের জন্যেও যাননি নির্বাচনী এলাকায়।

প্রায় একইরকম ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালী-১, ভোলা-৩ এবং ভোলা-৪-এর ক্ষেত্রে। এসব নির্বাচনী এলাকায় দলীয় মনোনয়ন পাওয়া বিএনপির সাবেক এমপি যথাক্রমে আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মেজর (অব.) হাফিজ এবং নাজিমউদ্দিন আলমও বছরের পর বছর এলাকায় অনুপস্থিত।

ভোলা-৪ আসনে নাজিম উদ্দিন আলমের পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে সাবেক ছাত্রদল নেতা নূরুল ইসলাম নয়নকে। বরগুনা-১ আসনে সাবেক এমপি মতিউর রহমানের পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা।

মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সে জন্যে পটুয়াখালী-২ আসনে সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদারের পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তার স্ত্রী সালমা ইসলামকে।

পটুয়াখালী-৩ আসনে সাবেক ছাত্রনেতা হাসান মামুন এবং সাবেক এমপি শাহজাহান খানের পাশাপাশি মনোনয়নের চমক হিসেবে এসেছেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনির নাম।

পটুয়াখালী-৪ আসনে এবিএম মোশাররফ ও মনিরুজ্জামান মনিরকে দেয়া হয়েছে দলীয় মনোনয়ন।

এছাড়া ভোলা-১-এ মনোনয়ন দেয়া হয়েছে জোটের শরিক বিজেপির (নাজিউর) ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে।

সোমবার গুলশান কার্যালয়ে মনোনয়নের চিঠি বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণের বিপুলসংখ্যক নেতা।

সবার আগে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বরিশাল-৫-এর মজিবর রহমান সরোয়ার। বিভিন্ন স্থানে সংস্কারপন্থী-সুবিধাবাদী এবং বছরের পর বছর দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ না নেয়া নেতাদের মনোনয়ন লাভ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দলটির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এদের কেউ তো বিএনপি ছেড়ে অন্য কোথাও যায়নি। তাছাড়া এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে বিজয় নিশ্চিত করা। তাই যাকে যেখানে যোগ্য মনে হয়েছে তাকেই মনোনয়ন দিয়েছে দল।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here