ডিজিটাল সতর্কতা: পিন নম্বর গোপন রাখুন

0
16

সময়ের প্রয়োজনে এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল সেবাগুলোর মধ্যে অন্যতম মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস সেবা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে সারা দেশে এমএফএসের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ৬৮ লাখ এবং প্রতিদিন এ মাধ্যমে প্রায় ৬৫ লাখ বার লেনদেন হয়।

টাকার পরিমাণে যা এক হাজার কোটি টাকার বেশি। যে কোনো সময় যে কোনো স্থান থেকে খুব সহজে গ্রাহক নিজেই লেনদেন করতে পারেন বিধায় এ সেবা গ্রহণের হার বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য।

এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মুহূর্তেই টাকা পাঠানো, অনলাইনে বা কোনো দোকান থেকে পণ্য কিনে দাম পরিশোধ করা, স্কুল-কলেজের ফিসহ যে কোনো ধরনের ফি দেয়া, ইউটিলিটি বিল দেয়া, মোবাইল রিচার্জ করা, রাইড শেয়ারিংয়ের ভাড়া দেয়া, বাস-ট্রেনের টিকিট কেনাসহ নিত্যদিনের অসংখ্য কাজে এখন মোবাইল ওয়ালেট ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে মোবাইল ওয়ালেট হয়ে উঠেছে জীবনের-ই অংশ।

গ্রাহককে নানান রকম সুবিধা এনে দিয়ে জনপ্রিয়তা পাওয়া এই মোবাইল ওয়ালেট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিতে গুটি কয়েক অসাধু চক্র সক্রিয় আছে। নানান ছলে গ্রাহককে বোকা বানিয়ে টাকা সরিয়ে নেয়ার যেসব অপচেষ্টা এরা করছে, গ্রাহক কিছুটা সচেতন হলেই তা বন্ধ করা সম্ভব।

পিন নম্বর গোপন রাখুন

ডিজিটাল জগতে যত ধরনের অ্যাকাউন্ট তা সবই পিন বা পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছে। ডিজিটাল ওয়ালেটের ক্ষেত্রেও তাই। ডিজিটাল ওয়ালেট নিরাপদ রাখতে পিননির্ভর করা হয়েছে। পিন নম্বরই আসলে ডিজিটাল ওয়ালেটের চাবি। ফলে চাবি অন্যের হাতে তুলে দিলে যেমন সিন্দুকও নিরাপদ নয় তেমন পিন অন্য কাউকে জানিয়ে দিলে মোবাইল ওয়ালেটও নিরাপদ থাকবে না।

একটি মাত্র পদক্ষেপ নিয়েই অনেকাংশে মোবাইল অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখা সম্ভব। আর তা হলো পিন বা গোপন নম্বর কাউকে না জানানো। মোবাইল ওয়ালেট লেনদেন যন্ত্রনির্ভর লেনদেন। পিন নম্বর ছাড়া কোনোভাবেই এ লেনদেন সম্ভব নয়। তাই যে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ওয়ালেটের পিন নম্বর শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এমনকি খুব কাছের আপনজন বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পিন নম্বর শেয়ার না করা ভালো।

অনেক প্রতারক বা অসাধু ব্যক্তি নিজেকে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের হিসেবে পরিচয় দিয়ে পিন নম্বর জানতে চাই। গ্রাহক অসাধু ব্যক্তিকে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ভেবে তার সঙ্গে পিন নম্বর শেয়ার করেন। জেনে রাখুন পিন নম্বর জানেন কেবল গ্রাহক। যে প্রতিষ্ঠানের মোবাইল ওয়ালেট ব্যবহার করছেন তারাও আপনার পিন জানেন না বা কখনোই জানতে চাইবেন না।

ফলে যখন-ই কেউ পিন নম্বর জানতে চাইবে বুঝতে হবে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ফলে পরিস্থিতি যাই হোক পিন নম্বর গোপন রাখুন।

পিন নম্বর গোপন রাখা ছাড়াও আরও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহারকারী গ্রাহকদের। আজকের ডিজিটাল যুগে যারা বসবাস করছেন এবং ডিজিটাল সেবাগ্রহণ করছেন তাদের নিজেদের স্বার্থে নিজেদের ওয়ালেট সুরক্ষিত রাখতে আরও যেসব বিষয়ে নজর দিতে হবে তা এখানে তালিকাবদ্ধ করা হলো:

১. প্রায়শই শোনা যায় কেউ ফোন করে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় দিয়ে বা অন্য কোনো প্রলোভন/হুমকি দিয়ে পিন নম্বর চেয়েছে। গ্রাহক নিশ্চিন্ত থাকুন যে পরিচয়, প্রলোভন বা হুমকি দিক না কেন পিন জানতে চাওয়া মানে আপনি প্রতারণার শিকার হতে চলেছেন। সুতরাং ফোন পরিচিত বা অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন পেয়ে পিন নম্বর বা যে কোনো তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। এমনকি প্রযুক্তি অপব্যবহার করে কল সেন্টারগুলোর মতো দেখতে একই ধরনের নম্বর থেকে ফোন দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা থাকে। যেমন বিকাশের কল সেন্টার নম্বর ১৬২৪৭ এর মত দেখতে +১৬২৪৭ থেকে ফোন দেয়া হতে পারে। যেখান থেকে ফোন আসুক ফোনদাতার পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে যে কোন ধরনের তথ্য দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

২. অনেক গ্রাহক হ্যান্ডসেটে মোবাইল অ্যাকাউন্টের নম্বর ও পিন নম্বর সংরক্ষণ করে রাখেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোন কারণে মোবাইল হারিয়ে গেলে মোবাইল অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সুতরাং পিন নম্বর, ইউজার আইডি মোবাইলে সংরক্ষণ করে রাখবেন না। সব সময় লেনদেন শেষে অ্যাকাউন্ট থেকে লগআউট করবেন।

৩. অনেক ক্ষেত্রে প্রতারক নিজেকে সঠিক প্রমাণ করতে গ্রাহককে বলেন মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হয়েছে। এসএমএস কোন নম্বর থেকে এসেছে তা যাচাই করে নেয়া গ্রাহকের দায়িত্ব। এসএমএস আসলেও নিজে ব্যালেন্স চেক না করে ভুল করে দেয়া টাকা ফেরত পাঠাবেন না।

৪. যেসব গ্রাহকরা প্রতারণার শিকার হন তাদেরকে ফোনে কথা বলতে বলতেই নির্দেশনা দেয়া হয়। বলা হয় এখন ১ চাপুন, এখন অ্যামাউন্ট দিন, পিন নম্বর দিন। কখনোই ফোনের নির্দেশনা অনুসারে বাটনে প্রেস করবেন না। ফোনের নির্দেশনা অনুসরণ করে আপনাকে দিয়েই আপনার অ্যাকাউন্টের টাকা প্রতারকের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিতে পারেন। বিকাশ থেকে বলছি বা অন্য কোনো পরিচয় দিলেও তার নির্দেশনা অনুসারে ফোনের বাটন প্রেস করবেন না।

৫. ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, ইমো বা অন্যকোনো মাধ্যমে খুব কাছের পরিচিত কেউ টাকা ধার চাইলে বা বিকাশ করতে বললে সঙ্গে সঙ্গে তা করবেন না। টাকা পাঠানোর আগে আসলেই তিনি টাকা ধার চেয়েছেন কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন।

৬. আর্থিক লেনদেনের সেবা হওয়ার কারণে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) নির্ভর অ্যাপ ইন্সটলমেন্টের ব্যবস্থা করে অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই কাউকেই ওটিপি নম্বর শেয়ার করবেন না বা ওটিপির ম্যাসেজ শেয়ার করবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here