আউটসোর্সিংয়ের নতুন নীতিমালায় কঠোর শর্ত

0
10
Outsourcing - Business Background. Blue Arrow with "Outsourcing" Slogan on a Grey Background. 3D Render.

সরকারি অফিসে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদে লোকবল নিয়োগে কঠোর শর্ত আরোপ করে জারি করা হয়েছে আউটসোর্সিংয়ের নতুন নীতিমালা। এখন থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দফতরে আউটসোর্সিং একেবারেই নিষিদ্ধ।বিশেষ করে নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তায় বিঘ্ন হতে পারে এমন কোনো পদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোকবল নিয়োগ দেয়া যাবে না। এমন বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে আউটসোর্সিং নীতিমালায়। পাশাপাশি প্রশাসনে নতুন কোনো পদ সৃষ্টি করে এবং বিদ্যমান কোনো পদের বিপরীতে আউটসোর্সিংও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থ বিভাগ মঙ্গলবার এ নীতিমালা জারি করেছে। একইসঙ্গে আউটসোর্সিং নীতিমালা ২০০৮ স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এ তথ্য।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা গোপনীয়তা ও স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকলে সেখানে লোকবল নিয়োগ আউটসোর্সিংয়ের বাইরে থাকবে। পুরনো নীতিমালায় এসব পদের ক্ষেত্রে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগের বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা ছিল না। তবে নতুন নীতিমালায় সেবা প্রদানকারীর বয়স ১৮-৬০ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোতে স্থায়ী ও অস্থায়ী লোকবল নিয়োগের পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়। তবে নিম্ন পর্যায়ে এসব লোকবল নিয়োগ দিয়ে কাজ সম্পাদন করা হয়। ২০০৮ সালের একটি নীতিমালার আলোকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও অফিস নিম্ন পর্যায়ে লোকবল নিয়োগ দিয়ে আসছে। দীর্ঘ ১০ বছর পর নতুন করে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো মন্ত্রণালয় বা অফিস আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে। সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সেবার তালিকা, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুসরণ করতে হবে। সেবাদানকারীর শারীরিক সক্ষমতা থাকতে হবে। সেবা গ্রহণ ও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ এবং প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮-এর আলোকে তা নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া সেবা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে অর্থবিভাগের অনুমতি নিয়ে সেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরাসরি সেবা ক্রয় করতে পারবে। এক্ষেত্রে সেবা ক্রয়কারী মন্ত্রণালয়, সংস্থা-দফতর সরাসরি সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, সেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, নিয়ন্ত্রণ, লাইসেন্স, নিরীক্ষা ও ডাটাবেইজ প্রণয়ন সংক্রান্ত কার্যক্রম সরকার নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ সম্পন্ন করবে। পাশাপাশি সেবা প্রদানকারীর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা, কল্যাণ ও ব্যবস্থাপনাও সরকার নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ সম্পন্ন করবে। সেবার মাসিক মূল্য ও প্রণোদনা এবং সেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম কমিশন অর্থ বিভাগের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে বলেও নীতিমালায় বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, দফতর, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন কর্পোরেশন এবং বিভিন্ন প্রকল্পে সেবা গ্রহণের লক্ষ্যে লোক নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এজন্য আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সেবা গ্রহণ নীতিমালা-২০০৮ প্রণয়ন করা হয়। এই নীতিমালার মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী অফিসে কর্মী নিয়োগের বিধান ছিল। নীতিমালায় তাদের পারিশ্রমিক দৈনিক, মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে দেয়ার বিধান রাখা হয়।

আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলো পুরনো নীতিমালার কিছু বিধানের কারণে লোক সরবরাহে অনাগ্রহ দেখায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, আউটসোর্সিংয়ের নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতনকাঠামো বাজারমুখী করতে নীতিমালা করা হয়েছে। এ নীতিমালায় এমন কিছু বিধান রাখা হচ্ছে, যার কারণে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ সহজ হবে। এটি একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here