নবজাতকের দুই কান নিয়ে চাঞ্চল্য

0
9

রাজশাহীতে এক নবজাতকের দুই কান নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কান দুটির আকৃতি আরবি হরফে ‘আল্লাহু’ লেখার মতো। আর এ নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য। শিশুটির স্বজনদের বিশ্বাস, কানে ‘আল্লাহু’ লেখা রয়েছে। তবে একজন চিকিৎসক ভিন্ন মতও দিয়েছেন। শিশুটির নাম রাখা হয়েছে ওমর ফারুক।

সোমবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী নগরীর টিকাপাড়া এলাকায় নগর মাতৃসদনে তার জন্ম হয়। তার মায়ের নাম সানজিদা আক্তার। এটি সানজিদার দ্বিতীয় সন্তান। সানজিদা সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মাসুমপুর গ্রামের আবু হোসেনের স্ত্রী। আবু হোসেন বিদ্যুৎ বিভাগে চাকরি করেন। থাকেন নারায়ণগঞ্জে।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে মাতৃসদনে ওমর ফারুকের মা সানজিদা আক্তার ঘুমাচ্ছিলেন। শিশুটিকে নিয়ে বসে ছিলেন সানজিদার বোন শামীমা আক্তার। তিনি রাজশাহী নগরীর মেহেরচি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ সহকারী হিসেবে চাকরি করেন। সানজিদার প্রথম সন্তানের যখন জন্ম হয় তখন তাকে এই মাতৃসদনেই এনেছিলেন শামীমা। আর তাই দ্বিতীয় সন্তানের বেলায়ও তাকে রাজশাহী আনা হয়।

শামীমা আক্তার বলেন, সোমবার ভর্তির পর দুপুরে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু ওমর ফারুকের জন্ম হয়। এরপর তারা কান দুটি সেভাবে খেয়াল করেননি। পরদিন সকালে পরিস্কার করার সময় তিনি শিশুটির কান দুটির এমন আকৃতি দেখেন। এরপর দ্রুতই এ খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে শিশুটিকে একবার দেখার জন্য মাতৃসদনে ভিড় জমাতে শুরু করেন।

শামীমা বলেন, আমার বোন খুব ধার্মিক। নামাজ-কালাম পড়ে। সোমবার দুপুরে সিজারের আগেও সে নামাজ পড়েছে। আর তার বিশ্বাস ছিল- এবারও তার ছেলে সন্তান হবে। সে কারণে আগেই নাম ঠিক করে রেখেছিল ‘ওমর ফারুক’। কিন্তু মেয়ে সন্তান হলে কি নাম রাখা হবে তা আগে থেকে ঠিক করা হয়নি। সানজিদার দুই বছর বয়সী বড় ছেলের নাম মো. আব্দুল্লাহ।

মাতৃসদনটির প্রশাসনিক সহকারী কামরুন নাহার শিউলী বলেন, ফেসবুকের কল্যাণে আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় ‘আল্লাহু’ লেখা দেখতে পাই। এটা নিয়ে অবাক হই। কিন্তু এবার এই প্রথম নিজের চোখে দেখলাম। আমার শাশুড়ি হজ করেছেন, কোরআন তেলাওয়াত জানেন। তাকে ছবি দেখিয়েছি। তিনি বলেছেন, শিশুটির দুই কানে আল্লাহু লেখা। সবই আল্লাহ প্রদত্ত।

তবে ভিন্নমত পোষণ করেছেন মাতৃসদনের ফ্যামিলি প্ল্যানিং কো-অর্ডিনেটর ডা. ওয়ালিদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অনেক সময় দৈহিক গঠনের জন্মগত ত্রুটি থাকে। এটিকে কনজিনাইটাল অ্যানোলমলি বলা হয়ে থাকে। এই শিশুর বিষয়টি সে রকম হতে পারে। আবার না-ও পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here