গলিত মোম দিয়ে চকলেট তৈরি, গ্রেফতার ৫

0
10

অবৈধভাবে নোংরা পরিবেশে চকলেটসহ বিভিন্ন শিশু খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে চারটি চকলেট কারখানায় অভিযান চালিয়েছে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় দুটি কারখানার মালিকসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

অভিযানে পাওয়া গেছে, কারখানার রঙ ও মোমসহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে এসব চকলেট তৈরি করা হচ্ছিল। অভিযানে প্রায় ১৫ লাখ টাকার চকলেট জব্দ করেছে র‍্যাব।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার থানার ইসলামবাগের কামালবাগে শুরু হয় অভিযান। শেষ হয় বিকেলে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু। অভিযানে বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য অধিদফতরের প্রতিনিধিরা সহযোগিতা করেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সুবেল লজেন্স ফ্যাক্টরির মালিক সোহেল ব্যাপারী, প্রধান কারিগর জাহের দফাদার, আবির ফুড প্রোডাক্টের প্রধান কারিগর আব্দুস সালাম, কবির ফুড প্রোডাক্টসের প্রধান কারিগর ইয়াসিন, শহিদ ফুড প্রোডাক্টসের মালিক মোহাম্মদ তারেক।

অভিযান শেষে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু ব্রেকিংনিউজকে বলেন, অভিযানে চকলেটের কাঁচামাল হিসেবে মোম পাওয়া গেছে, যা কোনো অবস্থাতেই খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। প্যারাফিন কেমিকেল পাওয়া গেছে, যা কসমেটিকস বা তেল উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়।

এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল রঙ, ফ্লেভার, হাইড্রোজ কেমিক্যাল, গ্লিসারিন ও সাইট্রিক এসিড পাওয়া গেছে, যেগুলো শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এ ধরনের খাবারে কিডনি ও লিভার ড্যামেজসহ ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া চর্মরোগ, বদ হজম, দুর্বলতাসহ শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, পুরান ঢাকার কামালবাগ এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন চকলেট কারখানায় অভিযান চালানো হয়। কয়েকটি কারখানার বিএসটিআইয়ের কোনও অনুমোদন ছিল না। এখানে একটি চক্র কাজ করছে। তারা বিপদজনক শিশু খাদ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও বিক্রয় করত। এই চক্রের একটি শক্তিশালী বাজার রয়েছে। তারা এই অস্বাস্থ্যকর খাবারগুলো সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, শিশুদের প্রিয় এই খাদ্যটি কোনোভাবেই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া উৎপাদন করা যাবে না। কিন্তু তারা সরকারি কোনও লাইসেন্স নেয়নি। এই চকলেটগুলো উৎপাদনের জন্য যে ধরনের কাঁচামাল পেয়েছি, সেটি সত্যি দুঃখজনক। চিন্তার বিষয়, আমাদের শিশুরা কী খাচ্ছে।

গ্রেফতার পাঁচ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর চকবাজার থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here