প্রেম নিয়ে দ্বন্দ্বে জিসানকে হত্যা করে বন্ধু ও তার সহযোগীরা

0
31

একটি মোবাইল ফোন ও প্রেম ঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার যুবক মু. তানভীর আহমেদ জিসানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মানিকগঞ্জের শিবালয় থানা পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িত ৫ আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) দিনভর অভিযান চালিয়ে শিবালয় থানার শাকরাইল গ্রামের আজিজুল মোল্লা (১৮), ছেলে রাব্বি (১৯), নাজমুল (১৯), শাহীন (১৯) ও পূর্ভ ঢাকাই জোড়া গ্রামের হাসিবুল হাসান (১৯) কে গ্রেফতার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাস্থ মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা মু. তানভীর আহমেদ জিসান গত (১৫ নভেম্বর) দুপুরে নানার বাড়ি যাবার কথা বলে বাসা থেকে বেড় হয়। এরপর থেকে তার কোন খোঁজ না মেলায় ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ থাকায় (২৩ নভেম্বর) তার বাবা মোহাম্মদপুর থানায় এশটি সাধারণ ডায়েরী করেন।

এদিকে গত ১৮ই নভেম্বর দুপুরে পাটুরিয়া ঘাটের ২ নং টার্মিনালের অদূরে পদ্মা নদীর তীর থেকেঅজ্ঞাত নামা এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে শিবালয় নৌ-পুলিশ। বেওয়ারিশ হিসাবে লাশটি ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মানিকগঞ্জ সদও হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ময়না তদন্ত শেষে লাশটি সেওতা কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

লাশ দাফনের পর (২৫ নভেম্বর) শাহিন আলম নামক এক ব্যক্তি ছবি দেখে লাশটি শনাক্ত করেন যে লাশটি তার ছেলে জিসানের। জিসানের পিতা শাহিন আলম ২৬ শে নভেম্বর অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে শিবালয় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগের সূত্র ধরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আশীষ কুমার সান্যাল শিবালয় থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ আসামি গ্রেফতার করে।

এদের জিজ্ঞাসাবাদে বেড়িয়ে আসে এ হত্যার উদ্দেশ্য, হত্যাকারী, হত্যার স্থান ও নারকীয় কায়দায় হত্যাকাণ্ডের যাবতীয় তথ্য।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর আশীষ কুমার সান্যাল জানান, হত্যাকাণ্ডের শিকার জিসানের সাথে প্রধান আসামি রাব্বির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। জিসানের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বিথী নামের এক মেয়ের। সেই সুবাদে বিথীর এক ভাগ্নি সাদিয়ার সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে রাব্বির। এ নিয়ে নিরব দন্ধ চলছিল জিসান-বিথী ও রাব্বি-সাদিয়া জুটির মাঝে। এ সব বিষয় নিয়ে জিসান কৌশলে রাব্বির মোবাইল ফোনটি করায়াত্ত করে নেয়। এ মোবাইলকে কেন্দ্র করেই মূলত জিসান-রাব্বির সম্পর্কেও চরম অবনতি হয়। প্রতিহিংসা চরিতার্থে সুকৌশলে পদ্মা নদী দেখানোর কথা বলে ডেকে এনে জিসানকে নির্মমভাবে খুন করে রাব্বি ও তার সহযোগীরা।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও জানান, আদালতে দু’জন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকী ৩ জনকে আদালতে প্রেরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান, মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিবালয় থানা পুলিশের হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, আসামি গ্রেফতার ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় আদালতে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। দ্রুততম সময়ে মামলার রহস্য উদঘাটনে পুলিশী এমন তড়িৎকর্ম নিঃসন্দেহে ভূয়সী প্রশংসার দাবি রাখে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here