অস্তিত্ব রক্ষায় ৮ হাজার কোটি ডলার চায় বিমান সংস্থাগুলো

0
13

করোনা মহামারির কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতের একটি বৈশ্বিক বিমান পরিবহন। এই সময়ে সংস্থাগুলো যে ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে আরো ৮ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক আকাশ পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। খবর এএফপি।

প্রথম দফায় কভিড-১৯ সঙ্কটের সময় ভ্রমণে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে অনেক বিমান সংস্থা তাদের প্রায় পুরো বিমানবহরই গ্রাউন্ডেড রেখেছিল। ঋণ, নগদ অর্থ সরবরাহ ও সাময়িক ছাঁটাইকৃত কর্মীদের সহায়তার মাধ্যমে অনেক সরকার এগিয়ে এসেছিল।

কয়েক মাসের লকডাউন শেষে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর আকাশ পরিবহনে কিছুটা গতি এসেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের দেশগুলোসহ অনেক দেশে নতুন করে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ফের সেখানে শ্লথগতি দেখা দিয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেয়ায় বিভিন্ন দেশ তাদের বিধিনিষেধ কঠিন করছে। অনেকে জায়গায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হচ্ছে নতুন করে। এই অবস্থায় বিমান সংস্থাগুলোর টিকে থাকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্কট নিয়ে আইএটিএর প্রধান আলেক্সান্দ্রে দো জুনিয়াক শুক্রবার লা ট্রিবিউনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী মাসগুলোয় এ শিল্পে আরো ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার ডলার বা ৫ হাজার ৯০০ কোটি ইউরো থেকে ৬ হাজার ৭০০ কোটি ইউরো অতিরিক্ত তহবিল সরবরাহ করতে হবে।

জুনিয়াক বলেন, অতিরিক্ত সহযোগিতা হিসেবে আগামী মাসগুলোয় বিমান সংস্থাগুলোর আনুমানিক ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার কোটি ডলার (৫ হাজার ৯০০ থেকে ৬ হাজার ৭০০ কোটি ইউরো) লাগবে। অন্যথায় এগুলো টিকে থাকতে পারবে না।

করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে নেয়া লকডাউন ও সীমান্ত বন্ধে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশ্বের সব বিমান সংস্থা। তবে একই সঙ্গে তারা বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো থেকে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার কোটি ডলার সহায়তা পেয়েছে।

আইএটিএর প্রধান জানান, সঙ্কট যত দীর্ঘায়িত হবে, বিভিন্ন বিমান সংস্থার দেউলিয়াত্বের ঝুঁকি বাড়বে। প্রায় ৪০টি বিমান সংস্থা খুবই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে এবং বিভিন্ন সরকারের দেউলিয়াত্ব সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।

আইএটিএর পূর্বাভাস, ২০২০ সালে বৈশ্বিক আকাশ পরিবহন ৬৬ শতাংশ কমবে। আকাশপথে ভ্রমণ ২০১৯ সালের মাত্রায় পৌঁছতে অন্তত ২০২৪ সাল লেগে যাবে বলে মনে করছে বিমান সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক এ তদারকি প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালের মাঝামাঝিতে সবার জন্য টিকা সরবরাহ নিশ্চিত হবে—এ রকম আশাবাদের পরিপ্রেক্ষিতে এই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।

চলতি বছরে আকাশসেবা খাতের আয় ৪১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে দাঁড়াতে পারে, যা ২০১৯ সালের অর্ধেকের সমান। নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপে চলতি বছর বিমান সংস্থাগুলো ১০ হাজার কোটি ডলার লোকসান গুনবে বলে আশঙ্কা দো জুনিয়াকের। এর আগে যেখানে লোকসানের পূর্বাভাস ছিল ৮ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।

বিশ্বব্যাপী ২৯০টি বিমান সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে বার্ষিক বৈঠকের আগে দেয়া সাক্ষাত্কারে এ মন্তব্য করেন জুনিয়াক। এ সংকটের ফলে আকাশসেবা খাত কি বৃহত্তর সমন্বয়ের দিকে যাবে—এ প্রশ্নের জবাবে দো জুনিয়াক বলেন, এমনটা হতে গেলে বিমান সংস্থাগুলোকে একে অন্যকে কিনে নিতে হবে।

কিন্তু বিদ্যমান এ সংকটে সব বিমান সংস্থাই অস্তিত্বের লড়াইয়ে আছে। এ মুহূর্তে অধিগ্রহণ ও একীভবনের জন্য অর্থ ব্যয় করবে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হাতেগোনা। এর মধ্যে বিভিন্ন বিমান সংস্থা অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। বৃহৎ ও বৈশ্বিক বিমান সংস্থাগুলোর চেয়ে স্থানীয় ও ছোট বিমান সংস্থাগুলো বরং এখন তুলনামূলক ভালো ব্যবসা করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here