মনিরের দুই শতাধিক ফ্লাটের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব

0
17

অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও বিদেশি মুদ্রা রাখার অভিযোগে গেফতার মনির হোসেনের দুই শতাধিক প্লট রয়েছে। ভূমিদস্যুতার মাধ্যমে নামে-বেনামে তিনি এসব প্লটের মালিক হয়েছেন।

রাজধানীর মেরুল বাড্ডার বাসা থেকে মনিরকে গ্রেফতারের পর শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাবের মুখপাত্র লেটটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘ ভূমিদস্যুতার মাধ্যমে মনির অসংখ্য প্লটের মালিক হয়েছেন। রাজউক থেকে প্লট সংক্রান্ত সরকারি নথিপত্র চুরি করে এবং অবৈধভাবে রাজউকের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে দাফতরিক কাজে ব্যবহার করে রাজউক, পূর্বাচল, বাড্ডা, নিকুঞ্জ, উত্তরা এবং কেরানীগঞ্জে অন্তত দুই শতাধিক প্লট নিজের করে নেন।

তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনির ৩০টির বেশি প্লটের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি।

মনিরের বিরুদ্ধে রাজউকের সিল নকল করে ভূমিদস্যুতার একটি এবং দুদকের একটা মামলা রয়েছে। চোরাচালানের দায়ে ২০০৭ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়ে বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা।

এর আগে গতকাল রাত ১০টা থেকে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় অভিযান শুরু করে র‍্যাব। এসময় গোল্ডেন মনিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি, ৬০০ ভরি স্বর্ণ (আট কেজি), ১০টি দেশের মুদ্রা ও এক কোটি নয় লাখ টাকা জব্দ করেছে র‌্যাব।

আশিক বিল্লাহ জানান, ১৯৯০ এর দশকে রাজধানীর গাউছিয়ায় একটি কাপড়ের দোকানে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন মো. মনির হোসেন। এরপর শুরু করেন ক্রোকারিজের ব্যবসা। তারপর লাগেজ ব্যবসা অর্থাৎ ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে তিনি বিভিন্ন দেশ থেকে মালামাল আনতেন। একপর্যায়ে জড়িয়ে পড়েন স্বর্ণ চোরাকারবারে। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অবৈধভাবে স্বর্ণ চোরাচালান, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভূমি দখল করে এখন তিনি হাজার কোটি টাকার মালিক।

অভিযান সম্পর্কে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ এর একটি দল শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টায় মেরুল বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায় অবস্থান নেয়। অভিযানের মূল কারণ ছিল অবৈধ অস্ত্র ও মাদক। মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতারের পর তার হেফাজত থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, বিদেশি মদ এবং প্রায় ৯ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়। তার বাসা থেকে আট কেজি স্বর্ণ ও নগদ এক কোটি ৯ লাখ টাকা নগদ জব্দ করা হয়েছে।

গোল্ডেন মনিরের ১ হাজার ৫০ কোটি টাকার উপর সম্পদ রয়েছে। আপাতাতো জব্দ করা হয়েছে ৯ লাখ টাকা মূল্যে ১০টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও ৮ কেজি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here